...
...
Next Story

Nepal: 'যোগাযোগ…,' বিধ্বস্ত নেপালে নিখোঁজ বাংলার ৩০ বেশি পর্যটক, ফরাক্কায় বাড়ছে গঙ্গার জলস্তর, চাঞ্চল্যকর তথ্য MEAর

Nepal Flash Flood: নেপালে হড়পায় নিখোঁজ রয়েছেন বাংলার বহু পর্যটক। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত রাজ্যের অন্তত ৩৬ জন পর্যটকের সঙ্গে কোনও যোগাযোগ করা সম্ভব হচ্ছে না।

Updated on: Aug 27, 2026, 18:06:46 IST
Advertisement

Nepal Flash Flood: নেপাল সীমান্তে তিব্বত সংলগ্ন অঞ্চলে ঘটে যাওয়া এক ভয়াবহ আকস্মিক হড়পা বানে (Nepal Flash Flood) লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে বিস্তীর্ণ এলাকা। ইতিমধ্যে বিধ্বস্ত নেপালের পাশে দাঁড়িয়েছে নয়াদিল্লিও। এবার নেপালের ভয়াবহ হড়পা বানের প্রভাব সরাসরি এসে পড়ল বাংলায়। ফরাক্কা ব্যারেজে গঙ্গার জলস্তর ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, নদীর জল বিপদসীমার প্রায় তিন ফুট উপর দিয়ে বইছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হু হু করে জল বাড়ায় নদী তীরবর্তী এলাকার মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। এদিকে, নেপালে ভয়াবহ বিপর্যয়ের পর থেকেই যোগাযোগ করা যাচ্ছে না কলকাতা-সহ এ রাজ্যের বহু পর্যটকের সঙ্গে।

নেপালে হড়পা বানের প্রভাব রাজ্যে

বিধ্বস্ত নেপালে নিখোঁজ বাংলার ৩৬ পর্যটক, ফরাক্কায় বাড়ছে গঙ্গার জলস্তর (ANI Video Grab)
বিধ্বস্ত নেপালে নিখোঁজ বাংলার ৩৬ পর্যটক, ফরাক্কায় বাড়ছে গঙ্গার জলস্তর (ANI Video Grab)

ফরাক্কা ব্যারেজ কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবারের তুলনায় বৃহস্পতিবার দুপুরে আপস্ট্রিম ও ডাউনস্ট্রিমে জলস্তর বেশ কিছুটা বেড়েছে। এদিন দুপুরে ব্যারেজের আপ স্ট্রীমে জলস্তর ছিল ৭৬.৬০ ফুট। ডাউন স্ট্রীমে জলস্তর ছিল ৭৫.২০ ফুট। কিন্তু বুধবার এই জলস্তর ছিল আপ স্ট্রীমে ৭৬.৩৫ ফুট এবং ডাউন স্ট্রীমে ৭৪.৮০ ফুট। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় শুধু ডাউন স্ট্রীমেই জলস্তর বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় ০.৪০ ফুট। এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে আগামী ২৪ ঘণ্টায় অবস্থা আরও ভয়াবহ হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এদিকে, হু হু করে জলস্রোত বাড়তেই ব্যারাজের আশেপাশে থাকা বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়। শুধু তাই নয়, বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের স্তরেও চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে মুর্শিদাবাদ জেলা প্রশাসন আগেভাগেই সতর্কতামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

ফরাক্কার বিডিও সুজয় ব্যাপারীর নেতৃত্বে গঙ্গা তীরবর্তী ফরাক্কা, সামসেরগঞ্জ, ধুলিয়ান-সহ নিচু এলাকাগুলিতে সতর্ক নজরদারি চালানো হচ্ছে। মাইকিং করে সাধারণ মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি, মৎস্যজীবীদের নদীতে নামতে কড়া নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে এবং বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরকে সম্পূর্ণ প্রস্তুত রাখা হয়েছে। যদিও গোটা পরিস্থিতির উপর প্রশাসনের তরফে কড়া নজর রাখা হচ্ছে।

নেপালে নিখোঁজ বাংলার পর্যটকরা

নতুন ছবির শুটিং করতে নেপালে গিয়ে বিপাকে পড়েছেন অভিনেতা খরাজ মুখোপাধ্যায়। নেপালের চিন সীমান্তঘেঁষা রাসুয়া জেলায় ভয়াবহ হড়পা বানের জেরে আটকে পড়েছেন তাঁরা। খরাজের সঙ্গে রয়েছেন তাঁর স্ত্রী প্রতিভা মুখোপাধ্যায়। এছাড়া কলকাতা, কসবা, নাকতলা, দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুর, পশ্চিম বর্ধমানের দুর্গাপুর, উত্তর ২৪ পরগনার বারাসত ও বসিরহাট, হুগলির তারকেশ্বর এবং শিলিগুড়ির কয়েকজন পর্যটকও এই নিখোঁজ তালিকার অন্তর্ভুক্ত। জানা গিয়েছে, ভ্রমণ দলটি কাঠমান্ডু (Kathmandu) পৌঁছে পশুপতিনাথ মন্দির দর্শনের পর কেরুং এলাকার দিকে রওনা দিয়েছিল। বুধবার ভোটে কোশী (Bhote Koshi) নদীতে ভয়াবহ হড়পা নামার পর থেকেই তিব্বত সীমান্ত ও সংলগ্ন এলাকার সঙ্গে সমস্ত যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। বহু পর্যটকের মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় প্রিয়জনদের সুস্থতার অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন পরিবারগুলো। ইতিমধ্যে শিলিগুড়ির নিখোঁজ পর্যটক সমর মণ্ডলের দাদা ভাইয়ের খোঁজে কাঠমান্ডুর উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন। প্রশাসন ও ভ্রমণ সংস্থাগুলির পক্ষ থেকে নিখোঁজদের সন্ধানে তৎপরতা শুরু হলেও এখনও পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট কোনও খবর মেলেনি।

প্রাকৃতিক দুর্যোগের পর কাঠমান্ডুতে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস একটি বিশেষ বিজ্ঞপ্তি জারি করে ক্ষতিগ্রস্ত বা আটকে পড়া ভারতীয় নাগরিকদের পরিবারের সুবিধার্থে দুটি জরুরি হেল্পলাইন নম্বর চালু করেছে। যে কোনও জরুরি সহায়তা বা তথ্যের জন্য ৯৭৭ ৯৮৫ ১৩১ ৬৮০৭ এবং ৯৭৭ ৯৭০ ৯১০ ৭৫০০ – এই নম্বর দুটিতে যোগাযোগের আবেদন জানানো হয়েছে। এছাড়া নেপাল ট্যুরিজম বোর্ড পর্যটকদের সুবিধার জন্য টোল-ফ্রি নম্বর ১২৩৪, হটলাইন ১১৪৪ এবং ট্যুরিস্ট পুলিশের নম্বর ৯৮৫১২৮৯৪৪৫ প্রকাশ করে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে।

কী বলছে বিদেশ মন্ত্রক?

নেপালের রসুয়া জেলায় ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের পর কেটে গিয়েছে উদ্বেগজনক সময়। এরমধ্যেই বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, এই মুহূর্তে মোট ২৮৮ জন ভারতীয় নাগরিকের সঙ্গে কোনওভাবেই যোগাযোগ করা সম্ভব হচ্ছে না। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় তীব্র উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছে। তবে স্বস্তির খবর, এখনও পর্যন্ত ২১ জন ভারতীয় নাগরিককে সফলভাবে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। বৃহস্পতিবার নয়াদিল্লিতে বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এক সাংবাদিক বৈঠকে জানান, এই মুহূর্তে রসুয়া (Rasuwa) জেলার পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল। বিশেষ করে ত্রিশূলী ১ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের ৭৩ জন ভারতীয় কর্মী এই যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতার তালিকায় রয়েছেন। কাঠমান্ডুতে ভারতীয় দূতাবাস প্রকল্পের প্রধানদের সঙ্গে নিরন্তর যোগাযোগ রেখে পরিস্থিতির ওপর নজরদারি চালাচ্ছে। পাশাপাশি, কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রায় যাওয়া একাধিক পর্যটক দলও এই বিপর্যয়ের মুখে পড়েছেন।

রণধীর জয়সওয়াল বলেন, 'সেখানে বেশ কিছু মানুষ নিখোঁজ থাকতে পারেন। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সহায়তায় তাদের খুঁজে বের করার জন্য আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।' বিদেশ মন্ত্রক সূত্রে জানা গিয়েছে, তামিলনাড়ু থেকে যাওয়া দুটি বড় দলের যথাক্রমে ৩৭ এবং ৪৯ জন সদস্য এবং কেরলের ৩৩ জন তীর্থযাত্রীর খোঁজ মেলেনি। এছাড়া ‘রিচা ট্যুরস’-এর মাধ্যমে বিভিন্ন রাজ্য থেকে যাওয়া ৬১ জন নাগরিকের সঙ্গেও যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। তালিকায় রয়েছেন পশ্চিমবঙ্গ থেকে যাওয়া পর্যটকও। অন্যদিকে, সম্রাট ও ফ্লাই এভারেস্টের মতো ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে ওই এলাকায় পৌঁছানো পর্যটকদের একটা বড় অংশ আটকে পড়েছেন তিমুরে এলাকায়। যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ায় ঠিক কী পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে তা জানতে বেগ পেতে হচ্ছে উদ্ধারকারী দলগুলিকে।

তবে বিপর্যয়ের জেরে ভেঙে পড়া যোগাযোগ ব্যবস্থার মাঝেই উদ্ধার হওয়া ২১ জন তামিলনাড়ুর নাগরিকের সঙ্গে কথা বলেছেন নেপালে নিযুক্ত ভারতের রাষ্ট্রদূত। তাঁদের দ্রুত কাঠমান্ডুতে এনে ভারতে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর (PM Narendra Modi) সঙ্গে নেপালের প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহ-র আলোচনার পরই উদ্ধারকাজে গতি আনা হয়েছে। নিখোঁজদের নামের তালিকা বিদেশ মন্ত্রকের এক্স (X) হ্যান্ডেলে প্রকাশ করা হয়েছে। পরিবারের উদ্বেগের কথা মাথায় রেখে কেন্দ্র ও ভারতীয় দূতাবাস যৌথভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলায় সমস্ত পদক্ষেপ করছে বলে জানানো হয়েছে।

 
SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe