Operation Delta Hunt: দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও শান্তি বজায় রাখতে এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ গুজরাট পুলিশের। রাজ্যজুড়ে অনুপ্রবেশকারীদের শিকড় উপড়ে ফেলতে শুরু হয়েছে এক নিবিড় এবং অতর্কিত তল্লাশি অভিযান, যার পোশাকি নাম দেওয়া হয়েছে ‘অপারেশন ডেল্টা হান্ট।' গুজরাট সরকারের এক বিবৃতি অনুসারে, এই ম্যারাথন অভিযানে রাজ্যজুড়ে এখনও পর্যন্ত মোট ৩৬২ জন অবৈধ বাংলাদেশি নাগরিককে গ্রেফতার এবং ৭৮২ জনেরও বেশি সন্দেহভাজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে পুলিশ।

গুজরাটের বিভিন্ন শহর ও জেলাজুড়ে একযোগে চালানো এই অভিযানে বাংলাদেশি নাগরিকদের গ্রেফতারের তালিকায় ১০৩ জন পুরুষ, ১৮৮ জন মহিলা এবং ৭১ জন শিশু রয়েছে। পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই অভিযানে সবচেয়ে বেশি অনুপ্রবেশকারী ধরা পড়েছে আহমেদাবাদ শহর থেকে মোট ১৫৫ জন। এছাড়া সুরাট থেকে ৮৪ জন, আহমেদাবাদ গ্রামীণ এলাকা থেকে ৩৪ জন, পূর্ব কচ্ছ-গান্ধীধাম থেকে ১৩ জন এবং ভারুচ-সহ অন্যান্য জেলা থেকে ১২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আহমেদাবাদ পুলিশের যুগ্ম কমিশনার (ক্রাইম) শারদ সিংঘাল বলেন, গুজরাটের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তথা উপ-মুখ্যমন্ত্রী হর্ষ সাংঘভির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর এই অভিযানের নীলনকশা তৈরি করা হয়। পুলিশের দাবি, বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশি নাগরিক কোনও বৈধ নথিপত্র ছাড়াই গুজরাটে প্রবেশ করে বসবাস করছে, এমন গোপন খবর ভিত্তিতেই এই অভিযান শুরু হয়।
আহমেদাবাদের পুলিশ কমিশনার জিএস মালিক জানান, ক্রাইম ব্রাঞ্চ ও স্পেশাল অপারেশন গ্রুপ-সহ (এসওজি) পুলিশের ৩০টিরও বেশি বিশেষ দলকে শহরজুড়ে মোতায়েন করা হয়েছে। কোনও সন্দেহভাজন যেন রাজ্য ছেড়ে পালাতে না পারে, সে জন্য শহরের বিভিন্ন বাস টার্মিনাল, সড়ক এবং রেলওয়ে স্টেশনগুলোতে একযোগে কড়া পুলিশি নাকাবন্দি করা হয়। এই সুপরিকল্পিত জালে ধরা পড়ে পালাতে যাওয়া আরও ১৮ জন সন্দেহভাজন। তদন্তে নেমে পুলিশের হাতে এসেছে বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য। ধৃতদের মধ্যে অনেকেই স্বীকার করেছে যে, তারা দুই থেকে চার বছর বা তারও বেশি সময় আগে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকা দিয়ে বেআইনিভাবে ভারতে প্রবেশ করেছিল। এরপর সেখানে স্থানীয় দালালদের মোটা অঙ্কের টাকা খাইয়ে ভুয়ো স্থানীয় নথি তৈরি করে এবং সেই সব কাগজপত্রের জোরে ভারতের সরকারি পরিচয়পত্র যেমন আধার কার্ড ও ভোটার আইডি জোগাড় করতে সক্ষম হয়। অভিযান চলাকালীন এমন বেশ কিছু ভুয়ো পরিচয়পত্র উদ্ধার করা হয়েছে এবং পুলিশ বর্তমানে এই আন্তর্জাতিক জালিয়াত চক্রটির উৎস সন্ধানে তল্লাশি চালাচ্ছে।
গুজরাটের ডিরেক্টর জেনারেল অফ পুলিশ (ডিজিপি) ড. কে. এল. এন. রাও জানিয়েছেন, ‘সাইবার সেন্টার অফ এক্সিলেন্স’-এর সহায়তায় একটি বিশেষ টেলিকম ডাটা বিশ্লেষণ করে এই অভিযান চালানো হয়। যেসব ভারতীয় মোবাইল নম্বর থেকে বাংলাদেশের নম্বরে নিয়মিত যোগাযোগ করা হতো, তার ওপর ভিত্তি করে প্রায় ৬,২০০ জন সন্দেহভাজন বাংলাদেশির একটি বিশাল ডেটাবেস তৈরি করা হয়েছিল। সেই তথ্যের সূত্র ধরেই একযোগে মাঠে নামে পুলিশ বাহিনী। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হর্ষ সাংভী এই অভাবনীয় সাফল্যের জন্য গুজরাট পুলিশের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন এবং জানিয়েছেন, যারা অবৈধভাবে অনুপ্রবেশকারীদের আশ্রয়, কর্মসংস্থান বা ভুয়ো নথিপত্র দিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে, আটকদের আইনগত প্রক্রিয়া মেনে দ্রুত বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর (ডিপোর্টেশন) প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলেও জানানো হয়েছে।
{{/usCountry}}গুজরাটের ডিরেক্টর জেনারেল অফ পুলিশ (ডিজিপি) ড. কে. এল. এন. রাও জানিয়েছেন, ‘সাইবার সেন্টার অফ এক্সিলেন্স’-এর সহায়তায় একটি বিশেষ টেলিকম ডাটা বিশ্লেষণ করে এই অভিযান চালানো হয়। যেসব ভারতীয় মোবাইল নম্বর থেকে বাংলাদেশের নম্বরে নিয়মিত যোগাযোগ করা হতো, তার ওপর ভিত্তি করে প্রায় ৬,২০০ জন সন্দেহভাজন বাংলাদেশির একটি বিশাল ডেটাবেস তৈরি করা হয়েছিল। সেই তথ্যের সূত্র ধরেই একযোগে মাঠে নামে পুলিশ বাহিনী। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হর্ষ সাংভী এই অভাবনীয় সাফল্যের জন্য গুজরাট পুলিশের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন এবং জানিয়েছেন, যারা অবৈধভাবে অনুপ্রবেশকারীদের আশ্রয়, কর্মসংস্থান বা ভুয়ো নথিপত্র দিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে, আটকদের আইনগত প্রক্রিয়া মেনে দ্রুত বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর (ডিপোর্টেশন) প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলেও জানানো হয়েছে।
{{/usCountry}}