পেট্রোল ও ডিজেলের ব্যবহার কমাতে এবং সরকারি খরচ নিয়ন্ত্রণে আনতে বড় সিদ্ধান্ত নিল ত্রিপুরা সরকার। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জ্বালানি সাশ্রয়ের আহ্বানের পর রাজ্য সরকার নির্দেশ দিয়েছে, আপাতত গ্রুপ ‘সি’ ও গ্রুপ ‘ডি’ কর্মীদের মাত্র ৫০ শতাংশ প্রতিদিন অফিসে উপস্থিত থাকবেন। বাকি কর্মীরা বাড়ি থেকে কাজ করবেন। এই সংক্রান্ত নির্দেশিকা বুধবার জারি করেছে ত্রিপুরা সরকারের জেনারেল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ রিফর্মস) দপ্তর।

উল্লেখ্য, পশ্চিম এশিয়ায় চলা অস্থির পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি সরবরাহের উপর চাপ বাড়ছে। সেই পরিস্থিতিতে জ্বালানি সংরক্ষণ এবং অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমানোর লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে রাজ্য সরকারের তরফ থেকে। প্রসঙ্গত, প্রধানমন্ত্রী সম্প্রতি দেশবাসীকে জ্বালানি সাশ্রয় এবং সম্ভব হলে ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ পদ্ধতি চালুর আবেদন জানিয়েছিলেন সম্প্রতি। ইরান যুদ্ধের জেরে হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ হয়ে আছে। এই আবহে জ্বালানি তেল পরিবহণে ব্যাঘাত ঘটছে। ভারতীয় ট্যাঙ্কার এর মধ্যেও হরমুজ প্রণালী পার করে দেশে জ্বালানি নিয়ে আসছে। তবে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী। যার জেরে চাপ পড়ছে দেশের বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভে। ভারতীয় মুদ্রার মূল্য ডলারের তুলনায় নীচে নামছে। এই আবহে প্রধানমন্ত্রী বিদেশ ভ্রমণ কমাতে, সোনা কেনা থেকে বিরত থাকতে বলেন। সঙ্গে ওয়ার্ক ফ্রম হোম, গণপরিবহণ ব্যবহারের ওপর জোর দেন তিনি। তার পরেই ত্রিপুরা সরকার এই নতুন নীতি কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নেয়।
ত্রিপুরার নির্দেশিকায় আরও বলা হয়েছে, সরকারি দপ্তরগুলির পাশাপাশি রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা, স্থানীয় প্রশাসনিক সংস্থা, স্বশাসিত প্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন অধীনস্ত অফিসগুলিকেও একই ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সরকারি বৈঠক ও প্রশাসনিক কাজের ক্ষেত্রে ভার্চুয়াল মাধ্যমে কাজ চালানোর উপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
{{/usCountry}}ত্রিপুরার নির্দেশিকায় আরও বলা হয়েছে, সরকারি দপ্তরগুলির পাশাপাশি রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা, স্থানীয় প্রশাসনিক সংস্থা, স্বশাসিত প্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন অধীনস্ত অফিসগুলিকেও একই ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সরকারি বৈঠক ও প্রশাসনিক কাজের ক্ষেত্রে ভার্চুয়াল মাধ্যমে কাজ চালানোর উপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
{{/usCountry}}ত্রিপুরা সরকারের মতে, এই সিদ্ধান্তের ফলে একদিকে যেমন জ্বালানির ব্যবহার কমবে, তেমনই সরকারি ব্যয়ও নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে। একইসঙ্গে প্রয়োজন ছাড়া যাতায়াত কমানো গেলে পরিবেশের উপর চাপও কিছুটা হ্রাস পাবে বলে প্রশাসনের আশা। বর্তমানে পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে প্রয়োজন অনুযায়ী আরও পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে বলেও সরকারি সূত্রে ইঙ্গিত মিলেছে।