Nepal Flash Flood: নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার (Nepal Flash Flood) পর ধ্বংসস্তূপের নিচে ও জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে আটকা পড়া মানুষদের উদ্ধারে মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছেন উদ্ধারকারীরা। বাইরে ধ্বংসস্তূপের পাহাড়, ভেতরে অন্ধকার সুড়ঙ্গ-এর মধ্যেই জীবিতদের সন্ধানে চলছে ঝুঁকিপূর্ণ অভিযান।

নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিভিন্ন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গ ও ভূগর্ভস্থ স্থাপনা থেকে নিখোঁজ হয়ে গিয়েছেন ৬০০ জনেরও বেশি শ্রমিক (Trapped Tunnel Workers)। তাঁদের খুঁজে বের করাই এখন উদ্ধার অভিযানের প্রধান লক্ষ্য। গত বুধবার নেপালের বিভিন্ন উপত্যকায় পাহাড় থেকে নেমে আসে বরফ, পাথর, কাদা ও ধ্বংসাবশেষের ভয়াবহ স্রোত। মুহূর্তের মধ্যে তছনছ হয়ে যায় বিস্তীর্ণ এলাকা। ভয়াবহ এই দুর্যোগে নেপালে মৃতের সংখ্যা (Death toll) প্রায় ১০০০ ছুঁইছুঁই। সীমান্তের তিব্বত অংশে আরও ১৬ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। নেপালে এখনও ৪ হাজার ২৪৭ জন নিখোঁজ রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ৫৯২ জন বিদেশি নাগরিক। অন্যদিকে, তিব্বতে নিখোঁজ রয়েছেন ৫৪৬ জন। তাঁদের মধ্যে ২৬১ জন বিদেশি নাগরিক।
সুড়ঙ্গে জীবনের খোঁজ
নেপালে নিখোঁজদের বড় একটি অংশের সন্ধান মিলতে পারে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলোর সুড়ঙ্গ ও ভূগর্ভস্থ স্থাপনায়। তাই উদ্ধারকারী দলগুলোর প্রধান মনোযোগ এখন এসব এলাকায়। উদ্ধারকারী দলের প্রকাশ করা ছবি ও ভিডিওতে দেখা গেছে, সুড়ঙ্গের প্রবেশপথে জমে থাকা কাদা ও ধ্বংসাবশেষ সরাতে ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হচ্ছে। কোথাও আবার উদ্ধারকারীরা কোদাল দিয়ে কাদার স্তর সরিয়ে ভেতরে প্রবেশের পথ তৈরি করছেন। উদ্ধার অভিযানে অংশ নেওয়া আশিস গুরুং সাধারণত গাইড হিসেবে কাজ করেন। ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যেও তিনি উদ্ধারকারী দলের সঙ্গে সুড়ঙ্গে প্রবেশের চেষ্টা করছেন। দ্য গার্ডিয়ান-কে তিনি বলেন, ‘সবখানে শুধু কাদা। সুড়ঙ্গের ভেতরের অবস্থা আরও খারাপ ছিল। নড়াচড়া করা খুব কঠিন, কাদা অনেক গভীর।’
রবিবার সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর একটি রাসুয়ার চিলিমে একটি জলবিদ্যুৎকেন্দ্রে প্রবেশের চেষ্টা করে তাঁর দল। গুরুং জানান, সুড়ঙ্গে ঢোকার আগে পর্বতারোহীরা কাঠের তক্তা দিয়ে কাদার গভীরতা পরীক্ষা করেন। পরে সেগুলো অস্থায়ী সেতু হিসেবে ব্যবহার করা হয়। নিজেদের নিরাপত্তার জন্য দড়ির ব্যবস্থাও করা হয়, যাতে বিপজ্জনক কাদা ও জলের মধ্য দিয়ে এগোনোর সময় নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা যায়। তিনি বলেন, সুড়ঙ্গের ভেতর দিয়ে হাঁটা অত্যন্ত কঠিন ছিল। এক পর্যায়ে জল তাঁদের বুক পর্যন্ত উঠে আসে। গুরুং বলেন, ‘আমরা প্রথম স্টেশনের কাছাকাছি, প্রায় ১৩০ মিটার ভেতরে পৌঁছেছিলাম। অতটা ভেতরে আরও দূর পর্যন্ত দেখা যাচ্ছিল; মনে হচ্ছিল শুধু মৃতদেহ পড়ে আছে।’ তবে ভয়াবহ সেই দৃশ্যের মধ্যেও জীবিত কাউকে উদ্ধারের আশা ছাড়ছেন না উদ্ধারকারীরা। জলবিদ্যুৎ সংস্থাটি উদ্ধারকারী দলকে সুড়ঙ্গের একটি মানচিত্র দিয়েছে। সেটি দেখে ধারণা করা হচ্ছে, সুড়ঙ্গের ভেতরের কিছু নিরাপদ স্থানে মানুষ আশ্রয় নিয়ে থাকতে পারেন। গুরুং বলেন, ‘ভেতরে তাদের একটি নিরাপদ জায়গা আছে। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ হয়তো বেঁচে আছেন। আমি আশা করছি তাঁরা বেঁচে আছেন।’
{{/usCountry}}রবিবার সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর একটি রাসুয়ার চিলিমে একটি জলবিদ্যুৎকেন্দ্রে প্রবেশের চেষ্টা করে তাঁর দল। গুরুং জানান, সুড়ঙ্গে ঢোকার আগে পর্বতারোহীরা কাঠের তক্তা দিয়ে কাদার গভীরতা পরীক্ষা করেন। পরে সেগুলো অস্থায়ী সেতু হিসেবে ব্যবহার করা হয়। নিজেদের নিরাপত্তার জন্য দড়ির ব্যবস্থাও করা হয়, যাতে বিপজ্জনক কাদা ও জলের মধ্য দিয়ে এগোনোর সময় নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা যায়। তিনি বলেন, সুড়ঙ্গের ভেতর দিয়ে হাঁটা অত্যন্ত কঠিন ছিল। এক পর্যায়ে জল তাঁদের বুক পর্যন্ত উঠে আসে। গুরুং বলেন, ‘আমরা প্রথম স্টেশনের কাছাকাছি, প্রায় ১৩০ মিটার ভেতরে পৌঁছেছিলাম। অতটা ভেতরে আরও দূর পর্যন্ত দেখা যাচ্ছিল; মনে হচ্ছিল শুধু মৃতদেহ পড়ে আছে।’ তবে ভয়াবহ সেই দৃশ্যের মধ্যেও জীবিত কাউকে উদ্ধারের আশা ছাড়ছেন না উদ্ধারকারীরা। জলবিদ্যুৎ সংস্থাটি উদ্ধারকারী দলকে সুড়ঙ্গের একটি মানচিত্র দিয়েছে। সেটি দেখে ধারণা করা হচ্ছে, সুড়ঙ্গের ভেতরের কিছু নিরাপদ স্থানে মানুষ আশ্রয় নিয়ে থাকতে পারেন। গুরুং বলেন, ‘ভেতরে তাদের একটি নিরাপদ জায়গা আছে। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ হয়তো বেঁচে আছেন। আমি আশা করছি তাঁরা বেঁচে আছেন।’
{{/usCountry}}কঠিন এই লক্ষ্য পূরণে সোমবার পাহাড়ি জায়গাটিতে বিস্ফোরণ ঘটিয়েছেন উদ্ধারকারীরা। এরপর তারা ত্রিশূলি ৩-এ সাইটে বাতাস সরবরাহ শুরু করেন। বর্তমানে উদ্ধারকাজের নেতৃত্বে রয়েছে চিন ও নেপালের সামরিক বাহিনীর সদস্যদের নিয়ে গঠিত একটি আন্তর্জাতিক দল। এই দলে ভারত, দক্ষিণ কোরিয়া ও অস্ট্রেলিয়ার বিশেষজ্ঞরাও রয়েছেন। নেপাল জলবিদ্যুতের ওপর অনেক বেশি মাত্রায় নির্ভরশীল এবং পার্বত্য অঞ্চলে নদী ব্যবস্থায় এসব বিদ্যুৎ প্রকল্প গড়ে তুলতে বছরের পর বছর ব্যয় করেছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বন্যায় অন্তত ১১টি নির্মাণ সম্পন্ন বা নির্মাণাধীন জলবিদ্যুত প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে সুড়ঙ্গে অক্সিজেন ব্যবস্থা থাকায় এখনও আটকে থাকাদের বেঁচে থাকার আশা রাখছেন পরিবারের সদস্যরা। উদ্ধারকাজে যুক্ত থাকা অস্ট্রেলীয় প্রকৌশলী আর্নল্ড ডিক্স জানান, বন্যার তোড়ে সবকিছু নিশ্চিহ্ন হয়ে এলাকাটি চাঁদের মাটির মতো বিরান হয়ে গেছে। সুড়ঙ্গে পৌঁছাতে বাড়ি সমান বড় বড় পাথর বিস্ফোরণ ঘটিয়ে গুঁড়িয়ে দিতে হচ্ছে। তবে মাটির নিচের পরিবেশ বাইরের তীব্র প্লাবন থেকে সুরক্ষা দেওয়ায় তিনি এখনও জীবিত পাওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন।
এদিকে নেপালের স্বাস্থ্য মন্ত্রক জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া ৯০০ মৃতদেহের মধ্যে মাত্র ৪ শতাংশ শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। ডিএনএ পরীক্ষায় বিশেষজ্ঞ ১৮ সদস্যের একটি পৃথক ভারতীয় ফরেনসিক দল ২৯ আগস্ট থেকে ঘটনাস্থলে রয়েছে। ভাটির জেলা চিতওয়ানের নদীতীরে প্রায় ৩০০ দেহ ভেসে আসায় ফ্রিজারের অভাবে গণকবর দেওয়া শুরু করেছে প্রশাসন। পরবর্তীতে স্বজনদের দেহ হস্তান্তরের লক্ষ্যে ডিএনএ নমুনা সংরক্ষণ করে অস্থায়ীভাবে মৃতদেহ সমাহিত করা হচ্ছে।