মায়ানমারে ভারতবিরোধী জঙ্গিদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার অভিযোগে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা ছয় ইউক্রেনীয় নাগরিক এবং একজন মার্কিন নাগরিককে গ্রেফতার করেছে মার্চের মাঝামাঝি সময়। এবং এই গ্রেফতারির নেপথ্যে রাশিয়ার গোপন তথ্য ছিল বলে দাবি করা হয়েছে রিপোর্টে। জানা যাচ্ছে, রাশিয়ার গোয়েন্দারা এই বিদেশিদের নিয়ে গোপন তথ্য পাঠিয়েছিল ভারতকে। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই এই বিদেশিদের ধরে এনআইএ। রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৪ সাল থেকেই ভারত হয়ে মায়ানমারে যাওয়া আসা করছে মার্কিন ভাড়াটে ম্যাথু ভ্যানডাইক। এনআইএ-র প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, সন্দেহভাজনদের খুঁজে বের করতে প্রায় তিন মাস ধরে উত্তর-পূর্বাঞ্চলে অভিযান চালিয়েছে এনআইএ-র দল। পরে ভারতের তিনটি শহর থেকে ধরা হয়েছিল ভ্যানডাইক, ম্যাক্সিম হোনচারুক, পেট্রো হুবরা, সুকমানোভস্কি ইভান, স্টেফানকিভ মারিয়ান, স্লিভিয়াক তারাস এবং কামিনস্কি ভিক্টরকে।

মার্কিন নাগরিক ম্যাথু ভ্যানডাইককে গ্রেফতার করা হয়েছিল কলকাতা থেকে। নিজেকে নিরাপত্তা সংক্রান্ত অ্যানালিস্ট হিসেবে দাবি করে ম্যাথু। এছাড়াও সে একাধারে 'যুদ্ধের রিপোর্টার', ডকুমেন্টারি পরিচালকও বটে। একাধিক দেশে সে 'ফ্রিলান্সিং' করে। এই ম্যাথু আদতে 'ভাড়াটে স্বাধীনতাকামী'। লিবিয়া থেকে শুরু করে ভেনেজুয়েলা, ইউক্রেনে 'কাজ' করার অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। নিজেই সে দাবি করেছে, অন্য দেশে তার 'কোভার্ট অপারেশন' বা গোপন অভিযান চলে। ২০২৪ সালে মার্কিন সরকারি আধিকারিকদের সঙ্গে দেখা করার বিষয়ে নিজেই ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করেছিল ম্যাথু। লিবিয়ার গৃহযুদ্ধের সময় গাদ্দাফির বিরুদ্ধে লড়াইতে নেমেছিল ম্যাথু। ২০১১ সালে ধরা পড়ে ৬ মাস জেলেও ছিল সে। সনস অফ লিবার্টি ইন্টারন্যাশনাল নামক একটি মার্সিনারি সংস্থা চালায় ম্যাথু। বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে এই সংস্থার মাধ্যমে 'বিদ্রোহীদের' প্রশিক্ষণ দেয় ম্যাথু। ভ্যানডাইক দাবি করে, তার সংস্থার সঙ্গে আমেরিকার সরকারের কোনও যোগ নেই। তবে উল্লেখ্য বিষয়, সব ক্ষেত্রেই মার্কিন সরকার যেদিকে ঝুঁকে থাকে, ম্যাথু ভ্যানডাইকও সেই পক্ষের হয়েই 'কাজ' করে।
মায়ানমারে ভারতবিরোধী জঙ্গিদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার ঘটনায় গ্রেফতার কজন আবার ইউক্রেনের গুপ্তচর সংস্থার সঙ্গে যুক্ত বলে দাবি করলেন আইরিশ সাংবাদিক চেয় বাওয়েস। তিনি দাবি করলেন, ধৃত মারিয়ান স্টেফানকিভ ইউক্রেনের ইন্টেলিজেন্স সংস্থা GUR-এর সঙ্গে যুক্ত। এছাড়াও নাৎজি সংগঠন 'রাইট সেক্টরের' সঙ্গেও মারিয়ান যুক্ত ছিল বলে দাবি করেন বাওয়েস। এদিকে ইউক্রেনের প্রাক্তন সাংসদ ভাদিম রবিনোভিচ আবার দাবি করেছেন, এই মারিয়ান ইউক্রেনের সেনাবাহিনীর স্বেচ্ছাসেবী ইউনিট আরাটা ভলান্টিয়ারের সঙ্গে যুক্ত। এছাড়াও 'কোলো চস্তি' নামে একটি এনজিও-র প্রতিষ্ঠাতা এই মারিয়ান। ভারতে ধৃত ইউক্রেনিয়ানদের অধিকাংশই এই সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত বলে দাবি করেন প্রাক্তন সাংসদ রবিনোভিচ। ইউক্রেনের প্রাক্তন সাংসদ দাবি করেন, মারিয়ান এবং তার সংগঠন একটা সময় ইউক্রেনে পাইপলাইন উড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিল।
{{/usCountry}}মায়ানমারে ভারতবিরোধী জঙ্গিদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার ঘটনায় গ্রেফতার কজন আবার ইউক্রেনের গুপ্তচর সংস্থার সঙ্গে যুক্ত বলে দাবি করলেন আইরিশ সাংবাদিক চেয় বাওয়েস। তিনি দাবি করলেন, ধৃত মারিয়ান স্টেফানকিভ ইউক্রেনের ইন্টেলিজেন্স সংস্থা GUR-এর সঙ্গে যুক্ত। এছাড়াও নাৎজি সংগঠন 'রাইট সেক্টরের' সঙ্গেও মারিয়ান যুক্ত ছিল বলে দাবি করেন বাওয়েস। এদিকে ইউক্রেনের প্রাক্তন সাংসদ ভাদিম রবিনোভিচ আবার দাবি করেছেন, এই মারিয়ান ইউক্রেনের সেনাবাহিনীর স্বেচ্ছাসেবী ইউনিট আরাটা ভলান্টিয়ারের সঙ্গে যুক্ত। এছাড়াও 'কোলো চস্তি' নামে একটি এনজিও-র প্রতিষ্ঠাতা এই মারিয়ান। ভারতে ধৃত ইউক্রেনিয়ানদের অধিকাংশই এই সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত বলে দাবি করেন প্রাক্তন সাংসদ রবিনোভিচ। ইউক্রেনের প্রাক্তন সাংসদ দাবি করেন, মারিয়ান এবং তার সংগঠন একটা সময় ইউক্রেনে পাইপলাইন উড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিল।
{{/usCountry}}অপরদিকে দিল্লিতে অবস্থিত ইউক্রেনিয়ান দূতাবাস দাবি করল, ধৃতদের যেন ছেড়ে দেওয়া হয়। এই নিয়ে ইউক্রেনের যুক্তি, জঙ্গি কার্যকলাপের সঙ্গে যে এই ৬ জন যুক্ত ছিল, তার কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তাদের আরও দাবি, ভারতে অনেক সংরক্ষিত এলাকা আছে যেখানে বিনা অনুমতিতে যাওয়া নিষেধ, তবে সেই সব জায়গা চিহ্নিত করা নেই। এই আবহে 'ভুল' করে এই ইউক্রেনিয়ানরা সংরক্ষিত জায়গায় চলে গিয়ে থাকতে পারেন। তবে এখানে প্রশ্ন উঠছে, ভুল করে সংরক্ষিত জায়গায় চলে গেলেও, আন্তর্জাতিক সীমান্তও পার করা যায় ভুলবশত?
রিপোর্ট অনুযায়ী, এই মামলায় ধৃতদের বিরুদ্ধে ইউএপিএ-র ১৮ নং ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। এছাড়া বেআইনি অনুপ্রবেশ, বেআইনি অস্ত্র রাখা এবং ড্রোন প্রশিক্ষণ দেওয়া সংক্রান্ত বিভিন্ন ধারায় তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হয়েছিল। ধৃত ইউক্রেনিয়ানদের ৩ জনকে লখনউ এবং ৩ জনকে দিল্লি বিমানবন্দরে ধরেছিল ইমিগ্রেশন ব্যুরো। পরে তাদের এনআইএ-র হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল। রিপোর্ট অনুযায়ী, এই ৭ বিদেশি বৈধ ভিসাতেই ভারতে এসেছিল। তবে বিনা অনুমতিতে তারা মিজোরামে গিয়েছিল। সেখান থেকে তারা মায়ানমারে গিয়েছিল এবং ভারতবিরোধী জঙ্গি গোষ্ঠীর সঙ্গে দেখা করেছিল। সেখানে তারা সেই সব জঙ্গিদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছিল। এদিকে তদন্তে উঠে এসেছে, ইউরোপ থেকে একাধিক ড্রোন মিজোরামে আমদানি করেছিল এই বিদেশিরা। এনআইএ অভিযোগ করেছে, ভারতের বিরুদ্ধে জঙ্গি হামলার ছক কষছিল এই বিদেশিরা।