কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের জন্য সুখবর। চলতি বছরের জুলাই থেকে মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) ৩ শতাংশ বাড়তে পারে বলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। শ্রম মন্ত্রকের অধীন লেবার ব্যুরো জুন ২০২৬-এর কনজিউমার প্রাইস ইনডেক্স ফর ইন্ডাস্ট্রিয়াল ওয়ার্কার্স (CPI-IW) প্রকাশ করার পর ডিএ বৃদ্ধির হিসাব কার্যত চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে বর্তমানে ৬০ শতাংশ থাকা ডিএ বেড়ে ৬৩ শতাংশ হতে পারে। তবে এই বৃদ্ধি কার্যকর হবে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর।

জানা গিয়েছে, জুন মাসে CPI-IW সূচক দাঁড়িয়েছে ১৫১.৯, যা মে মাসের ১৫০.৮-এর তুলনায় বেশি। এই তথ্যই জুলাই মাসের ডিএ নির্ধারণের ক্ষেত্রে শেষ এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সূচক। সপ্তম বেতন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, গত ১২ মাসের গড় CPI-IW-এর ভিত্তিতেই মহার্ঘ ভাতা নির্ধারণ করা হয়। সেই হিসাব অনুযায়ী ডিএ প্রায় ৬৩.৭৫ শতাংশে পৌঁছেছে। তবে কেন্দ্রের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী দশমিকের পরের অংশ বাদ দেওয়া হয়। ফলে কর্মীরা কার্যত ৬৩ শতাংশ হারে ডিএ পাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।
সরকারি সূত্রের দাবি, এই বৃদ্ধি সপ্তম বেতন কমিশনের অধীনে শেষ বড় ডিএ সংশোধন হতে পারে। কারণ, ইতিমধ্যেই অষ্টম বেতন কমিশন গঠনের ঘোষণা করেছে কেন্দ্র। যদিও নতুন কমিশনের সুপারিশ কার্যকর হতে এখনও কিছুটা সময় লাগবে। সেই কারণে নতুন বেতন কাঠামো চালু না হওয়া পর্যন্ত সপ্তম বেতন কমিশনের নিয়মেই ডিএ সংশোধন করা হবে।
প্রতি বছর কেন্দ্রীয় সরকার সাধারণত দু'বার মহার্ঘ ভাতা সংশোধন করে। ১ জানুয়ারি এবং ১ জুলাই থেকে সেই সংশোধন কার্যকর হয়। যদিও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা সাধারণত কয়েক মাস পরে করা হয়। অতীতের ধারা অনুযায়ী, জুলাইয়ের ডিএ বৃদ্ধি নিয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত সেপ্টেম্বর বা অক্টোবর মাসে প্রকাশিত হতে পারে। অনুমোদনের পর কর্মীরা জুলাই মাস থেকে বর্ধিত হারে ডিএ-র পাশাপাশি বকেয়া টাকাও পাবেন।
{{/usCountry}}প্রতি বছর কেন্দ্রীয় সরকার সাধারণত দু'বার মহার্ঘ ভাতা সংশোধন করে। ১ জানুয়ারি এবং ১ জুলাই থেকে সেই সংশোধন কার্যকর হয়। যদিও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা সাধারণত কয়েক মাস পরে করা হয়। অতীতের ধারা অনুযায়ী, জুলাইয়ের ডিএ বৃদ্ধি নিয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত সেপ্টেম্বর বা অক্টোবর মাসে প্রকাশিত হতে পারে। অনুমোদনের পর কর্মীরা জুলাই মাস থেকে বর্ধিত হারে ডিএ-র পাশাপাশি বকেয়া টাকাও পাবেন।
{{/usCountry}}ডিএ বৃদ্ধির ফলে বিভিন্ন স্তরের কর্মীদের মাসিক আয়ও বাড়বে। উদাহরণ হিসেবে, যাঁদের মূল বেতন ১৮ হাজার টাকা, তাঁদের প্রতি মাসে প্রায় ৫৪০ টাকা অতিরিক্ত মিলতে পারে। ৩৫,৪০০ টাকা মূল বেতন হলে অতিরিক্ত প্রায় ১,০৬২ টাকা এবং ৫৬,১০০ টাকা মূল বেতন হলে মাসে প্রায় ১,৬৮৩ টাকা বেশি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। একই সুবিধা পেনশনভোগীরাও ডিয়ারনেস রিলিফ (ডিআর) হিসেবে পাবেন।
তবে এখনও পর্যন্ত কেন্দ্রীয় সরকার এ বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি জারি করেনি। ডিএ বৃদ্ধির চূড়ান্ত হার নির্ভর করবে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার অনুমোদনের উপর। তা সত্ত্বেও লেবার ব্যুরোর প্রকাশিত সর্বশেষ CPI-IW তথ্যের ভিত্তিতে ৩ শতাংশ ডিএ বৃদ্ধির সম্ভাবনাই এখন সবচেয়ে জোরালো বলে মনে করছেন অর্থনীতি ও বেতন কাঠামো বিষয়ক বিশেষজ্ঞরা। ফলে এক কোটিরও বেশি কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগী এখন কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন।