...
...
Next Story

Anti-paper Leak Bill 2026: লোকসভায় কাটল জট! 'প্রশ্নপত্র ফাঁস-বিরোধী' বিল নিয়ে সংসদে বিতর্ক আজ

Anti-paper Leak Bill 2026: সোমবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং লোকসভায় বিলটি উপস্থাপন করেন। তবে বিরোধী সাংসদদের লাগাতার স্লোগান ও বিক্ষোভের কারণে সরকার দু'দফা বিলটি নিয়ে এগোতে ব্যর্থ হয়।

Published on: Jul 28, 2026, 12:17:54 IST
Advertisement

Anti-paper Leak Bill 2026: লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার উদ্যোগ এবং সভায় ধারাবাহিক আলোচনার ফলে ইতিবাচক ফল পাওয়া গেল। প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর শাস্তির বিধান রেখে আনা ‘পাবলিক এক্সামিনেশনস (প্রিভেনশন অফ আনফেয়ার মিনস) বিল, ২০২৬’ নিয়ে সংসদে সৃষ্ট অচলাবস্থার অবসান ঘটেছে এবং সমস্ত প্রধান রাজনৈতিক দল মঙ্গলবার এই গুরুত্বপূর্ণ বিলটির উপর বিতর্ক শুরু করতে সম্মত হয়েছে। গত কয়েকদিন ধরে ছাত্র আন্দোলন, পুলিশি সহিংসতার অভিযোগ এবং সরকারের বিরুদ্ধে বিরোধীদের টানা বিক্ষোভের মধ্যেই বিলটি নিয়ে সংসদে তুমুল বিতর্কের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

লোকসভায় কাটল জট! (Sansad TV)
লোকসভায় কাটল জট! (Sansad TV)

সোমবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং লোকসভায় বিলটি উপস্থাপন করেন। তবে বিরোধী সাংসদদের লাগাতার স্লোগান ও বিক্ষোভের কারণে সরকার দু'দফা বিলটি নিয়ে এগোতে ব্যর্থ হয়। বিরোধীরা সম্প্রতি প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে হওয়া ছাত্র আন্দোলনে পুলিশের ভূমিকা এবং আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগের অভিযোগে কেন্দ্রকে ঘিরে ধরে।

বিরোধীদের তীব্র প্রতিবাদ

গত ২০ জুলাই প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে হওয়া ছাত্র আন্দোলনের সময় দিল্লি-সহ বিভিন্ন রাজ্যে পুলিশি অভিযানের অভিযোগ তুলে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের জবাব দাবি করে বিরোধী জোট। তাদের অভিযোগ, আন্দোলনকারীদের ওপর অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করা হয়েছে এবং দিল্লিতে পেলেট গান ব্যবহারের ঘটনাও ঘটেছে। এসব ঘটনার পর শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেন। দিনভর অচলাবস্থার পর সন্ধ্যায় লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। পরে সিদ্ধান্ত হয়, মঙ্গলবার বিলটি নিয়ে ছয় ঘণ্টাব্যাপী বিস্তারিত আলোচনা হবে। সংসদ সূত্রে জানা গেছে, স্পিকার বৈঠকে বলেন, দেশের কোটি কোটি শিক্ষার্থী ও প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার স্বচ্ছতার সঙ্গে এই বিষয়টি জড়িত। তাই দলীয় অবস্থানের ঊর্ধ্বে উঠে একটি অর্থবহ আলোচনা হওয়া প্রয়োজন।

ছয় ঘণ্টার বিতর্ক, ৯৩টি সংশোধনী

নতুন সংশোধনী ‘পাবলিক এক্সামিনেশনস (প্রিভেনশন অফ আনফেয়ার মিনস) বিল, ২০২৬’-এ বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রস্তাব দিয়েছে। ছাত্রদের আন্দোলনের পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দেওয়া আশ্বাস অনুযায়ী এই সংশোধনী আনা হয়েছে বলে জানিয়েছে সরকার। প্রস্তাবিত আইনে প্রশ্নপত্র ফাঁস, পরীক্ষায় জালিয়াতি বা অন্য কোনও অসাধু উপায়ে জড়িত ব্যক্তির জন্য ন্যূনতম পাঁচ বছর থেকে সর্বোচ্চ দশ বছরের কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ ৫০ লক্ষ টাকার জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। এছাড়া পরীক্ষা পরিচালনায় যুক্ত কোনও সংস্থা বা পরিষেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধে ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানা, পরীক্ষা পরিচালনার সম্পূর্ণ ব্যয় আদায় এবং আট বছরের জন্য সরকারি পরীক্ষার সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাব রয়েছে।

বর্তমান আইনে একই অপরাধে তিন থেকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড, ১০ লক্ষ টাকা জরিমানা এবং পরিষেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ১ কোটি টাকা জরিমানা ও চার বছরের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। নতুন বিলে আরও প্রস্তাব করা হয়েছে, অভিযোগপত্র দাখিলের তিন মাসের মধ্যে বিচার শেষ করতে হবে। এ জন্য ফাস্ট-ট্র্যাক কোর্ট, বিশেষ তদন্তকারী টাস্কফোর্স, নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে তদন্ত এবং বিচার চলাকালীন প্রতিদিন শুনানির ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

সরকারের বিরুদ্ধে বিরোধীদের অভিযোগ

রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতা মল্লিকার্জুন খাড়গে বলেন, স্বাধীন ভারতের ইতিহাসে ছাত্রদের এভাবে মারধর ও টেনে-হিঁচড়ে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা নজিরবিহীন। এ জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে জবাবদিহি করতে হবে। লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেন, ছাত্রদের বিরুদ্ধে অপ্রয়োজনীয় বলপ্রয়োগ করা হয়েছে এবং বহু শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। তিনি বলেন, আন্দোলনকারী ছাত্রদের বিরুদ্ধে নয়, বরং তাদের ওপর হামলার অভিযোগে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভার নেতা ডেরেক ও'ব্রায়েন বলেন, ছাত্র ও যুবসমাজকে হতাশ করা যাবে না। সংসদের ভেতরে ও বাইরে বিরোধীদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। অন্যদিকে দ্রাবিড় মুন্নেত্র কাঝগম (ডিএমকে)-এর সাংসদ তিরুচি শিবা প্রশ্ন তোলেন, বিদ্যমান আইন কার্যকরভাবে প্রয়োগ না করেই নতুন আইন আনার যৌক্তিকতা কী। তিনি দাবি করেন, নিট পরীক্ষার বর্তমান কাঠামো নিয়েও নতুন করে ভাবার সময় এসেছে।

সরকারের পাল্টা অবস্থান

সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, কেন্দ্র ইতিমধ্যেই দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেছেন, দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে ফাস্ট-ট্র্যাক কোর্ট গঠনের ঘোষণা করা হয়েছে এবং শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারের জন্য উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি গঠন করা হয়েছে। এরপরও বিরোধীরা সংসদের কার্যক্রম ইচ্ছাকৃতভাবে বাধাগ্রস্ত করছে বলে অভিযোগ শাসকদলের।

 
SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe