জম্মু ও কাশ্মীরের সাম্বা জেলার সাম্ব এলাকার দুর্গম বনাঞ্চলের থেকে এক সন্দেহভাজন স্যাটেলাইট ফোনের সিগন্যালের হদিশ মিলেছে বলে খবর। জানা গিয়েছে, ভিন দেশে নির্মিত স্যাটেলাইটের সংযোগের সিগন্যালের হদিশ মিলেছে ওই জঙ্গল থেকে। ঘটনার পরই হাই অ্যালার্টে রয়েছে নিরাপত্তা বাহিনী। ঘটনাস্থলে পৌঁছয় নিরাপত্তা বাহিনী। এলাকা ঘিরে ফেলে তারা। শুরু হয় দুর্গম জঙ্গলের ভিতর তল্লাশি অভিযান।

জানা যাচ্ছে, ওই জঙ্গল এলাকার ভিতর থেকে ইরিডিয়াম স্যাটেলাইট কমিউনিকেশন ডিভাইস থেকে একটি সিগন্যালের হদিশ এদিন সকাল ১১ টা ১৫ মিনিটে পাওয়া গিয়েছে। ওই সন্দেহজনক সিগন্যালের হদিশ পেতেই জম্মু কাশ্মীর পুলিশ, সেনা, স্পেশ্যাল অপারেশন গ্রুপ সাম্বা সেক্টরের সাম্ব বনাঞ্চলের দিকে এগোয়। বনাঞ্চল দিয়ে ঘেরা ওই পাহাড়ি উপত্যকাকে মুহূর্তে ঘিরে ফেলে বাহিনী। এলাকা জুড়ে ড্রোন দিয়েও তল্লাশি চলছে। উল্লেখ্য, এই পাহাড়ি উপত্যকার কাছ দিয়েই বইছে বসন্তর নদী। যে নদীপথ পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের আন্তর্জাতিক সীমান্তের দিকের পথ প্রশস্ত করে।
প্রসঙ্গত, দুর্গম এলাকায় ইরিডিয়াম স্যাটেলাইট ভারতীয় সেনাও ব্যবহার করে থাকে। এই স্যাটেলাইট সংযোগের মাধ্যমে পাহাড়ি বা দুর্গম বনাঞ্চলে তারা যোগাযোগ রাখার কাজ চালিয়ে যায়। তবে নিরাপত্তাবাহিনী খতিয়ে দেখছে যে, আদৌ এই স্যাটেলাইট ডিভাইস, সীমান্তপারের কেউ, জঙ্গলের অন্দরে ব্যবহার করছিল কি না! উল্লেখ্য, ২০২৫ সালে পহেলগাঁওতে যে সন্ত্রাসী হামলা হয়, সেখানে জঙ্গলের ভিতরে পাকিস্তানি মদতপুষ্ট জঙ্গিদের বসবাসের হদিশ মেলে। এদিকে, জানা যাচ্ছে, এদিনের তল্লাশিতে এখনও কোনও স্যাটেলাইট ডিভাইসের হদিশ পাওয়া যায়নি। সন্দেহ রয়েছে, ওই এলাকায় কোনও পাকিস্তানি গুপ্তচর বা জঙ্গিদের হ্যান্ডেলার রয়েছে কি না, তা নিয়ে। সন্দেহ করা হচ্ছে, হয়তো, কোনও জঙ্গি সীমান্তের ওপারে হ্যান্ডেলারদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার পর ওই স্যাটেলাইট ডিভাইস বন্ধ রেখেছে। যার ফলেই ওই ডিভাইস খুঁজে পাওয়া যায়নি, বা সম্ভাব্য কোনও সন্দেহভাজনের হদিশ মিলছে না। গোটা উপত্যকা জুড়ে চলছে চিরুনি তল্লাশি। প্রসঙ্গত, এই সাম্বা সেক্টর দিয়ে আগেও বহু জঙ্গি অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটেছে। ২০২৪ সালের জানুয়ারি মাসে এই এলাকাতেই থুরায়া স্যাটেলাইট ফোনের খোঁজ মিলেছিল। সেই সময়ও জারি হয় হাই অ্যালার্ট।