বাংলাদেশের রাজনৈতিক পটে, সাম্প্রতিককালে বিএনপির সঙ্গে আওয়ামির প্রবল দ্বন্দ্বের ঘটনা পরম্পরাই উঠে আসে। ২০২৪ সালে বাংলাদেশ দেখেছে অভ্যুত্থানের হাত ধরে মুজিবর কন্যা তথা আওয়ামি লিগের নেত্রী শেখ হাসিনা সরকারের পতন। যে আওয়ামি লিগের সরকারের আমলে এককালে বিএনপির নেত্রী তথা বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ দায়ের হয়। সেই খালেদাপুত্র তারেক রহমান বর্তমান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। এদিকে, তারেকের আমলে বাংলাদেশের এক অনুষ্ঠানে হাসিনার পিতা তথা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানকে নিয়ে এক নেতার মুখে নেতিবাচক বক্তব্য উঠে আসে। এরপর সেই অনুষ্ঠানে যা ঘটেছে, তা কেড়েছে শিরোনাম।
বাংলাদেশের প্রথম সারির সংবাদমাধ্যম, প্রথম আলোর খবর অনুসারে, বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে বাংলাদেশের পটুয়াখালিতে জেলা জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের এক নেতা মাওলানা আবদুল হক কাওসারীর এক বিতর্কিত বক্তব্য উঠে আসে। রিপোর্ট বলছে, ওই অনুষ্ঠানে আবদুল হক বলেছিলেন, একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কোনো অবদান ছিল না। এরপরই তাঁকে ওই অনুষ্ঠান থেকে বের করে দিতে বাধ্য হয় বাংলাদেশের প্রশসান।
অনুষ্ঠানটি ছিল এক সংবর্ধনামূলক অনুষ্ঠান। সেখানে উপস্থিত বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যরা ওই নেতার ওই বক্তব্য শুনতেই প্রতিবাদে মুখর হন। তারপরই তাঁদের প্রতিবাদের জেরে তারেক রহমানের প্রশাসন, অনুষ্ঠানস্থল থেকে ওই নেতাকে বের করে দেয়।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠান আয়োজন করে জেলা প্রশাসনই। সেখানে জেলা-উপজেলার প্রায় ৪০০ থেকে সাড়ে ৪০০ বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। আমন্ত্রিত ছিলেন প্রায় সব রাজনৈতিক দলের শীর্ষস্থানীয় নেতারা। প্রশাসনেরও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা সেখানে উপস্থিত ছিলেন। জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের ওই নেতা মঞ্চে উঠে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধকে স্বীকার করলেও, তাতে মুজিবর রহমানের অবদান মেনে নেননি। এরপরই ক্ষোভে ফেটে পড়েন সেখানে উপস্থিত অনেকে। সভাস্থলে উত্তেজনা দেখা দেয়। রিপোর্ট দাবি করেছে, ঘটনার ভিডিয়ো ইতিমধ্যেই ভাইরাল হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধাদের দাবির মুখে আবদুল হককে অনুষ্ঠান থেকে চলে যেতে বলে জেলা প্রশাসন।