Tamil Nadu News: ভয়ঙ্কর ষড়যন্ত্র! তামিলনাড়ুর ইরোড জেলার একটি সরকারি স্কুলে ‘বিনামূল্যে প্রাতরাশ প্রকল্প’-এর অধীনে তৈরি করা সাম্বরে এক ছাত্রকে দিয়ে গোবরের গুঁড়ো মেশাতে বাধ্য করার অভিযোগে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করল পুলিশ। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে দ্রাবিড় ভূমিতে।

পুলিশ সূত্রে খবর, অভিযুক্তের নাম আরুমুগাম। স্কুলে রান্নার কাজ করা তার স্ত্রীকে বরখাস্ত করার প্রতিশোধ নিতেই তিনি এই জঘন্য কাণ্ড ঘটিয়েছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় পুলিশ ইতিমধ্যেই অভিযুক্ত আরুমুগামকে 'ভারতীয় ন্যায় সংহিতা'-র ১২৩ নম্বর ধারায় (অপরাধ সংগঠনের উদ্দেশ্যে বিষ বা অনুরূপ কোনও পদার্থের মাধ্যমে ক্ষতিসাধন) গ্রেফতার করেছে। ‘বিনামূল্যে প্রাতরাশ প্রকল্প’-এ রান্নার গুণমান নিয়ে অভিযোগ উঠেছিল। তাই ওই মহিলা রাঁধুনিকে চাকরি থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। অভিযোগ, স্ত্রীকে বরখাস্ত করায় ক্ষুব্ধ হয়ে আরুমুগাম এক ছাত্রকে দিয়ে জোর করে স্কুলের সাম্বরে গোবরের গুঁড়ো মিশিয়েছিলেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শিক্ষার্থীদের পরিবেশন করার আগে শিক্ষকরা খাবার চেখে দেখেছিলেন। তাতেই সাম্বারের স্বাদ অস্বাভাবিক তেতো বলে তাঁদের মনে হয়। প্রথমে তাঁরা ভেবেছিলেন, হয়তো ভুলবশত রান্নার সময় অতিরিক্ত হলুদ পড়ে গিয়েছে। যদিও তদন্তের পর পুলিশ জানিয়েছে, শুধুমাত্র শিক্ষকদের চেখে দেখার জন্য আলাদা করে রাখা খাবারের অংশটিতেই গোবরের গুঁড়ো মেশানো হয়েছিল। শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত খাবারে কিছু করা হয়নি। ঘটনাটি ঘটেছিল গত ২৯ আগস্ট। এরপর ১ সেপ্টেম্বর পুলিশের কাছে এ বিষয়ে অভিযোগ দায়ের করা হয়। ইতিমধ্যে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং এই ঘটনার সঙ্গে আর কেউ যুক্ত ছিলেন কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশের দাবি, শিক্ষকদের সতর্কতার কারণেই বড় বিপদ এড়ানো সম্ভব হয়েছে। সময়মতো খাবার পরীক্ষা না করা হলে ওই ভেজাল সাম্বর শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিবেশন হয়ে যেতে পারত। পুরো ঘটনায় স্কুলের নিরাপত্তা ও মধ্যাহ্নভোজের খাবার পরীক্ষার ব্যবস্থাও নতুন করে প্রশ্নের মুখে পড়েছে।