Woman tears clothes train: বিনা টিকিটে ট্রেনে উঠে টিকিট পরীক্ষকের (TTE) সঙ্গে বচসায় জড়িয়ে নিজের জামাকাপড় ছিঁড়ে ফেলেন এক তরুণী। আর সেই দায় টিটিই-র ঘাড়ে চাপিয়ে দেওয়ার হুমকি দেন তিনি। ভেবেছিলেন রেলকর্মীদের বিপদে ফেলবেন ওই তরুণী। কিন্তু এক সহযাত্রীর ভিডিও রেকর্ডিংয়ে মুহূর্তের মধ্যেই ফাঁস হয়ে গেল তাঁর সমস্ত নাটক প্রকাশ্যে চলে আসে।

গত ১৭ সেপ্টেম্বর দানাপুর-সিকান্দরাবাদ এক্সপ্রেসে ঘটে যাওয়া এই চাঞ্চল্যকর ঘটনার ভিডিও এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক ভাইরাল। যদিও ভিডিওটির সত্যতা যাচাই করেনি হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা। ভিডিওটিতে দেখা গেছে, ওই ট্রেনের সেকেন্ড এসি কামরায় টিকিট পরীক্ষা করছিলেন রেলের আধিকারিকরা। এক শিশুকে সঙ্গে নিয়ে কামরায় বসেছিলেন ওই তরুণী। তাঁর কাছে টিকিট দেখতে চাইলে তিনি তা দেখাতে পারেননি। তাঁকে কামরা থেকে নেমে যেতে বলা হলে তিনি সেখান থেকে পালিয়ে থার্ড এসি কামরায় গিয়ে বসেন। টিটিই-র দল সেখানেও পৌঁছয় এবং টিকিট কাটার অনুরোধ জানায়। অভিযোগ, টিকিট না কেটে উল্টে রেলকর্মীদের সঙ্গে তর্কজুড়ে দেন ওই তরুণী। মুখোমুখি বসে থাকা এক যাত্রী পুরো ঘটনাটি নিজের মোবাইলে রেকর্ড করছিলেন।
ভিডিও-তে দেখা যায়, তরুণী দাবি করছিলেন যে তিনি টাকা দিতে রাজি আছেন। কিন্তু টিটিই জানান, উপযুক্ত টিকিট ছাড়া ট্রেনে যাওয়া যাবে না। এক পর্যায়ে ওই তরুণী দাবি করেন, তাঁর ভাইও নাকি একজন টিটিই এবং হেল্পলাইন নম্বর খোঁজার অজুহাতে পাশে থাকা যাত্রীদের বলেন যে তিনি টিটিই-কে মিথ্যা মামলায় ফাঁসাবেন। এরপর ভিডিওটিতে দেখা যায়, কথা বলতে বলতেই আচমকা নিজের জামাকাপড় নিজেই ছিঁড়ে ফেলে চিৎকার ও কুমন্তব্য করতে থাকেন তরুণী। অন্যদিকে, টিটিইদের ঘটনাটি সম্পর্কে রেল কন্ট্রোলকে জানানোর বিষয়ে আলোচনা করতে শোনা যায়। এরপর বিকেল ৪টে নাগাদ ট্রেনটি উত্তরপ্রদেশের পণ্ডিত দিনদয়াল উপাধ্যায় জংশনে পৌঁছলে রেল কন্ট্রোলের মেসেজ পেয়ে আরপিএফ (RPF)-এর মহিলা টিম তৈরি ছিল। তরুণীকে ট্রেন থেকে নামিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন তাঁরা। তখনই রেকর্ডিং করা ওই সহযাত্রী আরপিএফ টিম ও রেল আধিকারিকদের সামনে ভিডিওটি তুলে ধরেন। সেখানে স্পষ্ট দেখা যায়, কীভাবে তিনি নিজে নিজের পোশাক ছিঁড়ে ফাঁদ তৈরি করেছিলেন।
টিটিই নাম জানতে চাইলে ওই তরুণী নিজেকে ‘রাধিকা তিওয়ারি’ বলে পরিচয় দেন। তিনি ওই ট্রেনে দানাপুর থেকে প্রয়াগরাজের উদ্দেশ্যে যাচ্ছিলেন। শেষ পর্যন্ত রেলের নিয়মানুযায়ী উপযুক্ত জরিমানা আদায় ও নতুন টিকিট দেওয়ার পরই তাঁকে ছাড়েন আরপিএফ আধিকারিকরা। রেল আধিকারিক এস কে ভার্মা জানান, ভিডিওটি না থাকলে টিটিই-দের মিথ্যা হেনস্থার মুখে পড়তে হত। পণ্ডিত দিনদয়াল উপাধ্যায় রেল বিভাগের জনসংযোগ কর্মকর্তা বিশ্বনাথ বলেন, ওই তরুণীকে সেকেন্ড এসি কামরায় টিকিট ছাড়া ভ্রমণ করতে দেখা যায় এবং পরে টিকিট আনতে বলা হলে তিনি থার্ড এসি কামরায় চলে যান। তাঁর কথায়, 'রেল কর্মীরা তাকে বারবার টিকিট আনতে অনুরোধ করলেও তিনি তা করেননি। এরপর কর্মীরা রেল কন্ট্রোলকে বিষয়টি জানান।'
{{/usCountry}}টিটিই নাম জানতে চাইলে ওই তরুণী নিজেকে ‘রাধিকা তিওয়ারি’ বলে পরিচয় দেন। তিনি ওই ট্রেনে দানাপুর থেকে প্রয়াগরাজের উদ্দেশ্যে যাচ্ছিলেন। শেষ পর্যন্ত রেলের নিয়মানুযায়ী উপযুক্ত জরিমানা আদায় ও নতুন টিকিট দেওয়ার পরই তাঁকে ছাড়েন আরপিএফ আধিকারিকরা। রেল আধিকারিক এস কে ভার্মা জানান, ভিডিওটি না থাকলে টিটিই-দের মিথ্যা হেনস্থার মুখে পড়তে হত। পণ্ডিত দিনদয়াল উপাধ্যায় রেল বিভাগের জনসংযোগ কর্মকর্তা বিশ্বনাথ বলেন, ওই তরুণীকে সেকেন্ড এসি কামরায় টিকিট ছাড়া ভ্রমণ করতে দেখা যায় এবং পরে টিকিট আনতে বলা হলে তিনি থার্ড এসি কামরায় চলে যান। তাঁর কথায়, 'রেল কর্মীরা তাকে বারবার টিকিট আনতে অনুরোধ করলেও তিনি তা করেননি। এরপর কর্মীরা রেল কন্ট্রোলকে বিষয়টি জানান।'
{{/usCountry}}এদিকে, ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরা ওই তরুণীর আচরণে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। অনেকেই মন্তব্য করেছেন, 'সহযাত্রী ভিডিও রেকর্ড না করলে একজন সৎ সরকারি কর্মচারীর চাকরি চলে যেত এবং জীবন নষ্ট হয়ে যেত।' বিনা টিকিটে ভ্রমণ এবং সরকারি কর্মচারীর কাজে বাধা দেওয়ার অপরাধে অবিলম্বে ওই তরুণীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন নেটিজেনরা।