Saudi Arabia: ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের লাগাতার আক্রমণের মুখে বড় বিপাকে পড়েছে সৌদি আরব। যুদ্ধক্ষেত্রে সৌদি সমর্থিত বাহিনীগুলো একের পর এক এলাকা হারাচ্ছে। বিশেষ করে ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূল এবং কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মান্দেব প্রণালীর সিংহভাগ হুথি বিদ্রোহীদের দখলে চলে যাওয়ার পর মহা-সংকটের মুখে তেলসমৃদ্ধ উপসাগরীয় দেশ সৌদি আরব। এই আবহে 'মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি'-র সদস্য পাকিস্তানের মতো ঘনিষ্ঠ মিত্র দেশগুলি ইয়েমেন অভিযানে সেনা পাঠাতে অস্বীকার করায় শেষ পর্যন্ত ইজরায়েলের সাহায্য চাইতে বাধ্য হয়েছে রিয়াদ।

ইজরায়েলের সংবাদমাধ্যম 'দ্য জেরুজালেম পোস্ট'-র প্রতিবেদন অনুসারে, ইজরায়েল ও সৌদি আরব হুথি সামরিক হুমকি মোকাবেলায় গোপন আলোচনা করেছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এই আলোচনায় মধ্যস্থতা করেছে। ইজরায়েলি গণমাধ্যম ‘ইজরায়েল হায়োম'-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরিস্থিতি সামাল দিতে সৌদি যুবরাজ মহম্মদ বিন সালমান উপসাগরীয় দেশগুলো ও মিশরের কাছে সাহায্য চেয়েছেন। তবে সৌদি প্রধানমন্ত্রী মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)--এর মাধ্যমে পরোক্ষভাবে ইজরায়েলের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মান্দেব পপ্রণালীর নিয়ন্ত্রণ যেন হুথিদের হাতে চলে না যায়, সেজন্য গোয়েন্দা তথ্য ও অন্যান্য সামরিক সহায়তা চেয়েছে রিয়াদ।
প্যালেস্টাইন রাষ্ট্র গঠিত না হওয়া পর্যন্ত ইজরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক না রাখার নীতিতে সৌদি আরব বরাবরই অটল ছিল। তাই ইজরায়েলের সাহায্য চাওয়ার বিষয়টি বেশ ব্যতিক্রমী। বিশ্লেষকদের মতে, এই সংকটময় পরিস্থিতি সৌদিকে ইজরায়েলের কাছাকাছি নিয়ে আসতে পারে। এদিকে সৌদি আরব ব্রিটেনের কাছেও সাহায্য চেয়েছে। বাব আল-মান্দেব প্রণালী থেকে হুথিদের হটানো এবং তেল কাঠামো রক্ষায় সহায়তা চেয়েছে রিয়াদ। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বার্নহাম সামরিক উপদেষ্টা পাঠাতে রাজি হয়েছেন, তবে অতিরিক্ত কোনও সহায়তার প্রতিশ্রুতি এখনও দেননি। সৌদি যুবরাজ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছেও সরাসরি হুথিদের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন। তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি যুদ্ধে জড়াতে রাজি না হয়ে শুধু গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে সহায়তার কথা বলেছে।
মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির সদস্য দেশ পাকিস্তান ও তুরস্ক কেবল মধ্যস্থতা করার চেষ্টা করলেও যুদ্ধ জড়িয়ে পড়তে চাচ্ছে না। ইসলামাবাদের কর্মকর্তারা বলেছেন, কোনও সামরিক ভূমিকা নেওয়া হলে তা শুধু সৌদি ভূখণ্ড রক্ষার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে। কিন্তু বিদেশের মাটিতে কোনও যুদ্ধে পাক সেনা সরাসরি অংশ নেবে না। পক্ষান্তরে, সুয়েজ খালের বাণিজ্যের কথা চিন্তা করে মিশর সৌদির পাশেই রয়েছে।
সংকটে সৌদি আরব
{{/usCountry}}মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির সদস্য দেশ পাকিস্তান ও তুরস্ক কেবল মধ্যস্থতা করার চেষ্টা করলেও যুদ্ধ জড়িয়ে পড়তে চাচ্ছে না। ইসলামাবাদের কর্মকর্তারা বলেছেন, কোনও সামরিক ভূমিকা নেওয়া হলে তা শুধু সৌদি ভূখণ্ড রক্ষার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে। কিন্তু বিদেশের মাটিতে কোনও যুদ্ধে পাক সেনা সরাসরি অংশ নেবে না। পক্ষান্তরে, সুয়েজ খালের বাণিজ্যের কথা চিন্তা করে মিশর সৌদির পাশেই রয়েছে।
সংকটে সৌদি আরব
{{/usCountry}}গত এক সপ্তাহে হুথি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের ওপর হামলা বাড়িয়েছে। তেলের পাইপলাইন ও পাম্পিং স্থাপনায় ড্রোন হামলায় প্রধান পাইপলাইনে আংশিক বিঘ্ন ঘটেছে। ইয়েমেন-সৌদি সীমান্তের কাছে একটি মসজিদ ও পার্শ্ববর্তী ভবনে থাকা নাগরিকদের ওপরও হামলা চালিয়েছে হুথিরা। এ ছাড়া লোহিত সাগরে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বেশ কয়েকটি দ্বীপ দখল করে নিয়েছে তারা। বাব আল-মান্দেব প্রণালী দিয়ে সৌদি জাহাজ চলাচলও বন্ধ করে দিয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে হুথিরা ইতিমধ্যে মোগা বন্দর দখল নিয়ে নিয়েছে এবং সৌদি বাহিনীকে পিছু হটতে বাধ্য করেছে। এমনকী তারা দক্ষিণ সৌদি আরবের তেল স্থাপনা ও বিমান ঘাঁটিতেও নিয়মিত ড্রেন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। সূত্রগুলো এটাকে সৌদি আরবের ওপর ‘অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক অবরোধ’ বলে বর্ণনা করেছে। এই নিরাপত্তা পরিস্থিতি সৌদি আরব-সহ এই অঞ্চলের অন্যান্য দেশকেও উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। নিরাপত্তা সূত্রগুলো জানাচ্ছে, একটি বিশেষ শঙ্কা কাজ করছে। সেটা হলো— মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরান ও হুথিদের সঙ্গে কোনও সমঝোতায় পৌঁছায়, তাহলে সৌদি আরব-সহ অন্যান্য দেশকে একা হুমকির মুখে পড়তে হবে।