অসুস্থতার মধ্যেও আন্দোলন থেকে সরছেন না ককরোচ জনতা পার্টির প্রধান অভিজিৎ দীপকে। শনিবার সকালে একটি ভিডিও বার্তায় তিনি জানান, তাঁর টাইফয়েড ধরা পড়েছে। চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা চলছে এবং প্রতিদিন আইভি ড্রিপ নিতে হচ্ছে। তবে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলেও আন্দোলন থামবে না বলেই স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন তিনি। তাঁর দাবি, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া হবে।

ভিডিও বার্তায় অভিজিৎ বলেন, গত কয়েকদিন ধরেই তিনি অসুস্থ বোধ করছিলেন। রক্ত পরীক্ষার রিপোর্টে টাইফয়েড ধরা পড়েছে। বর্তমানে নিয়মিত চিকিৎসা চলছে এবং চিকিৎসকদের পরামর্শ মেনে তিনি ওষুধের পাশাপাশি আইভি ড্রিপও নিচ্ছেন। অসুস্থ শরীর নিয়েও তিনি আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত সকলকে ধন্যবাদ জানান। তাঁর কথায়, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার জন্য ককরোচ জনতা পার্টির কর্মী-সমর্থক এবং সাধারণ মানুষকে অভিনন্দন জানাই। এই আন্দোলন ইতিমধ্যেই একটি বড় জনআন্দোলনের রূপ নিয়েছে।
অভিজিৎ আরও বলেন, শারীরিক অসুস্থতা আন্দোলনের পথে বাধা হতে পারে না। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, যতক্ষণ না কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করছেন, ততক্ষণ তাঁদের আন্দোলন চলবে। শিক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা এবং প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় দায় নির্ধারণের দাবিতে তাঁরা আপস করবেন না বলেও দাবি করেন তিনি।
উল্লেখ্য, নিট প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় জবাবদিহির দাবিতে এবং দেশের পরীক্ষা ব্যবস্থায় সংস্কারের দাবিতে গত ২৬ জুন দিল্লির যন্তর মন্তরে আমরণ অনশন শুরু করেছিলেন সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক। পরে সেই আন্দোলনে যোগ দেয় ককরোচ জনতা পার্টি। ধীরে ধীরে আন্দোলনটি সারা দেশের ছাত্র-যুবদের সমর্থন পেতে শুরু করে এবং দিল্লিতে তা বড় আকার ধারণ করে।
প্রায় ২৬ দিন অনশন চালানোর পর গত বৃহস্পতিবার সোনম ওয়াংচুক অনশন ভাঙেন। জানা যায়, দীর্ঘ অনশনের কারণে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছিল। এরপর আন্দোলনের নেতৃত্ব আরও জোরদার করতে ১৮ জুলাই থেকে অনশন শুরু করেন অভিজিৎ দীপকে। সেই অনশন চলাকালীনই তাঁর টাইফয়েড ধরা পড়েছে।
{{/usCountry}}প্রায় ২৬ দিন অনশন চালানোর পর গত বৃহস্পতিবার সোনম ওয়াংচুক অনশন ভাঙেন। জানা যায়, দীর্ঘ অনশনের কারণে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছিল। এরপর আন্দোলনের নেতৃত্ব আরও জোরদার করতে ১৮ জুলাই থেকে অনশন শুরু করেন অভিজিৎ দীপকে। সেই অনশন চলাকালীনই তাঁর টাইফয়েড ধরা পড়েছে।
{{/usCountry}}সোনম ওয়াংচুক অনশন ভাঙার পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সামাজিক মাধ্যমে তাঁর দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন। প্রধানমন্ত্রী লেখেন, সোনমজি যেন চিকিৎসকদের পরামর্শ মেনে চলেন এবং দ্রুত সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসেন। তাঁর সুস্বাস্থ্য কামনা করে ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনাও করেন প্রধানমন্ত্রী।
অন্যদিকে, ককরোচ জনতা পার্টিও সোনম ওয়াংচুকের অনশন ভাঙার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে। দলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দেশের জন্য নিজের জীবনকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলে তিনি যে লড়াই করেছেন, তা সকলের কাছে অনুপ্রেরণা। তাঁর সুস্থ হয়ে ওঠাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
এদিকে অভিজিৎ দীপকের অসুস্থতার খবর সামনে আসার পর আন্দোলন ঘিরে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। তবে তাঁর বার্তা স্পষ্ট—শারীরিক অসুস্থতা সত্ত্বেও আন্দোলন থেকে তিনি সরে দাঁড়াচ্ছেন না। শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ এবং পরীক্ষা ব্যবস্থায় জবাবদিহি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার অবস্থানেই অনড় রয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি।