নীট প্রশ্নফাঁস ইস্যুকে কেন্দ্র করে আন্দোলনের অন্যতম মুখ অভিজিৎ দীপকের অবস্থান নিয়ে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে সরব অভিজিৎ দীপকেকে এবার পঞ্জাবে সাম্প্রতিক প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় তাঁর অবস্থান নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছে। সেই প্রশ্নের জবাব ঘিরেই রাজনৈতিক মহলে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে।

একটি সাংবাদিক বৈঠকে অভিজিৎ দীপকেকে প্রশ্ন করা হয়, যদি কেন্দ্রে প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করা হয়, তাহলে পঞ্জাবে একের পর এক প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় সেখানে দায়িত্বে থাকা সরকারের বিরুদ্ধেও কি একই দাবি তোলা হবে? প্রথমে তিনি প্রশ্নটি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ ওঠে। পরে বারবার একই প্রশ্ন করা হলে সংক্ষিপ্ত জবাবে তিনি বলেন, 'সেখানেও ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।'
এই মন্তব্যের পরই বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক তীব্র হয়। কারণ, সাম্প্রতিক সময়ে অভিজিৎ দীপকের আন্দোলনের মঞ্চে আম আদমি পার্টির জাতীয় আহ্বায়ক অরবিন্দ কেজরিওয়াল-সহ দলের একাধিক নেতা উপস্থিত ছিলেন। আর পঞ্জাবে বর্তমানে আম আদমি পার্টিরই সরকার রয়েছে। তাই বিরোধীরা প্রশ্ন তুলছে, দিল্লিতে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হলেও পঞ্জাবের ঘটনায় একই ধরনের রাজনৈতিক চাপ কেন দেখা যাচ্ছে না।
এই বিতর্ক আরও বাড়িয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। সেখানে দেখা যায়, অভিজিৎ দীপকেকে পঞ্জাবের প্রশ্নফাঁস নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি কিছুক্ষণ নীরব থাকেন। সেই ভিডিও পোস্ট করে এক্স-এ এক ব্যবহারকারী প্রশ্ন তোলেন, 'পঞ্জাবেও যখন প্রশ্নফাঁস হয়েছে, তখন কি অরবিন্দ কেজরিওয়ালের পদত্যাগও দাবি করবেন?'
এরই মধ্যে শিরোমণি আকালি দলের সাংসদ হরসিমরত কৌর বাদলও আম আদমি পার্টির বিরুদ্ধে দ্বিচারিতার অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর দাবি, দিল্লিতে প্রশ্নফাঁস ইস্যু নিয়ে বড় আন্দোলন হলেও পঞ্জাবে গত কয়েক বছরে একের পর এক নিয়োগ ও প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় দুর্নীতির অভিযোগ সামনে এসেছে। কিন্তু রাজ্য সরকার সেই ঘটনাগুলিতে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছে।
{{/usCountry}}এরই মধ্যে শিরোমণি আকালি দলের সাংসদ হরসিমরত কৌর বাদলও আম আদমি পার্টির বিরুদ্ধে দ্বিচারিতার অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর দাবি, দিল্লিতে প্রশ্নফাঁস ইস্যু নিয়ে বড় আন্দোলন হলেও পঞ্জাবে গত কয়েক বছরে একের পর এক নিয়োগ ও প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় দুর্নীতির অভিযোগ সামনে এসেছে। কিন্তু রাজ্য সরকার সেই ঘটনাগুলিতে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছে।
{{/usCountry}}হরসিমরত কৌরের অভিযোগ, গত চার বছরে পঞ্জাবে অন্তত ছয়টি বড় পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে নায়েব তহসিলদার নিয়োগ পরীক্ষা, পঞ্জাব স্কুল শিক্ষা বোর্ডের ইংরেজি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস, কৃষি আধিকারিক নিয়োগ পরীক্ষা এবং সম্প্রতি বাবা ফারিদ ইউনিভার্সিটি অব হেলথ সায়েন্সেসের ফার্মাসিস্ট নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ।
তিনি আরও দাবি করেন, ফার্মাসিস্ট নিয়োগ পরীক্ষার সময় পরীক্ষাকেন্দ্রের বাইরে একটি সংঘবদ্ধ চক্র সক্রিয় ছিল। ব্লুটুথ ডিভাইস ও গোপন ক্যামেরার মাধ্যমে পরীক্ষায় নকল করিয়ে দেওয়ার জন্য পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে ১০ থেকে ১৩ লক্ষ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছিল বলে অভিযোগ। এত গুরুতর অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পরও রাজ্য সরকার দ্রুত পরীক্ষা বাতিল করেনি বলেও তাঁর অভিযোগ।
অন্যদিকে, অভিজিৎ দীপকে এখনও কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতেই অনড় রয়েছেন। তাঁর মতে, প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় চূড়ান্ত রাজনৈতিক দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরই। তবে পঞ্জাব প্রসঙ্গে তাঁর সংক্ষিপ্ত মন্তব্যের পর আন্দোলনের নিরপেক্ষতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। ফলে প্রশ্নফাঁস ইস্যু ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও জোরদার হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।