পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূলের দলীয় নাম ও নির্বাচনী প্রতীক নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্ক এবার জাতীয় স্তরেও আলোচনায় এসেছে। এই ইস্যুতে নির্বাচন কমিশন এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন অভিজিৎ দীপকে। তিনি কমিশনের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গোষ্ঠীর প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্যকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে।

সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের ভাঙনকে কেন্দ্র করে দলটির পুরনো নাম এবং নির্বাচনী প্রতীক ‘জোড়া ফুল’ নিয়ে নির্বাচন কমিশনের কাছে বিষয়টি যায়। পরিস্থিতি বিবেচনা করে কমিশন ওই নাম ও প্রতীক ‘ফ্রিজ’ করার সিদ্ধান্ত নেয়। অর্থাৎ, সংশ্লিষ্ট বিরোধ মেটা না পর্যন্ত কোনও পক্ষই আগের পরিচয় ও প্রতীক ব্যবহার করতে পারবে না। এরপর দুই গোষ্ঠীকে আলাদা নাম ও প্রতীক বেছে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়।
এই সিদ্ধান্তের পরই কমিশনের বিরুদ্ধে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন অভিজিৎ দীপকে। তিনি অভিযোগ করেন, কমিশনের পদক্ষেপে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির অস্তিত্বই প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে। এমনকি তাঁর বক্তব্যে কমিশনকে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যাওয়ার কটাক্ষও করা হয়েছে। তাঁর মন্তব্যের মূল বক্তব্য ছিল, নির্বাচন কমিশন যদি একটি দলের পক্ষেই কাজ করে, তাহলে অন্য রাজনৈতিক দলগুলির জন্য গণতান্ত্রিক প্রতিযোগিতার জায়গা সংকুচিত হয়ে যাবে।
অভিজিৎ দীপকে আরও দাবি করেন, একসঙ্গে সব বিরোধী দলের প্রতীক বাতিল করে দিলে নির্বাচনী প্রক্রিয়া একপাক্ষিক হয়ে পড়তে পারে। তিনি কমিশনের উদ্দেশে এমনই মন্তব্য করেন, যা পরে রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক তৈরি করে। তবে এগুলি তাঁর ব্যক্তিগত রাজনৈতিক বক্তব্য এবং কমিশনের বিরুদ্ধে তাঁর অভিযোগ হিসেবে প্রকাশিত হয়েছে।
{{/usCountry}}অভিজিৎ দীপকে আরও দাবি করেন, একসঙ্গে সব বিরোধী দলের প্রতীক বাতিল করে দিলে নির্বাচনী প্রক্রিয়া একপাক্ষিক হয়ে পড়তে পারে। তিনি কমিশনের উদ্দেশে এমনই মন্তব্য করেন, যা পরে রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক তৈরি করে। তবে এগুলি তাঁর ব্যক্তিগত রাজনৈতিক বক্তব্য এবং কমিশনের বিরুদ্ধে তাঁর অভিযোগ হিসেবে প্রকাশিত হয়েছে।
{{/usCountry}}এদিকে পশ্চিমবঙ্গে নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর উপনির্বাচনের আগে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ বিভাজন আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুই গোষ্ঠীই আলাদা প্রার্থী দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছিল। সেই পরিস্থিতিতেই দলীয় নাম ও প্রতীক নিয়ে জটিলতা তৈরি হয় এবং বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের সামনে যায়। কমিশনের সিদ্ধান্তের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গোষ্ঠী নতুন পরিচয় গ্রহণ করেছে—‘মমতা অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’। তাদের জন্য একটি ফুটবল খেলোয়াড়ের লোগো-ভিত্তিক প্রতীক বরাদ্দ হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, বিপরীত গোষ্ঠীর জন্য ‘ডেমোক্রেটিক তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম এবং খাম বা এনভেলপ প্রতীক দেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। নন্দীগ্রাম থেকে মমতা গোষ্ঠীর প্রার্থী না থাকলেও রেজিনগরে রবিউল আলম চৌধুরীকে প্রার্থী করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।
শুধু রাজনৈতিক বক্তব্যেই বিষয়টি থেমে থাকেনি। নির্বাচনী প্রতীক সংক্রান্ত বিরোধ এবার সুপ্রিম কোর্টেও পৌঁছেছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গোষ্ঠী শীর্ষ আদালতে আবেদন করেছে এবং বিষয়টির দ্রুত শুনানির দাবি জানিয়েছে। তাঁদের আইনজীবী কপিল সিব্বল কমিশনের সিদ্ধান্তের সময় ও পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। ফলে উপনির্বাচনের আগে দলীয় নাম ও প্রতীক নিয়ে বিরোধ এখনও আইনি এবং রাজনৈতিক—দুই ক্ষেত্রেই সক্রিয় রয়েছে।
এখন নজর থাকবে সুপ্রিম কোর্ট এই বিষয়ে কী নির্দেশ দেয় এবং নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তে কোনও পরিবর্তন আসে কি না। একই সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গোষ্ঠী ও অন্য গোষ্ঠী নির্বাচনী ময়দানে নিজেদের পরিচয় কতটা প্রতিষ্ঠা করতে পারে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।