রাজ্য রাজনীতিতে চাপের পরিস্থিতির মধ্যেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টকে ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার ইনস্টাগ্রামে নিজের চোখের ছবি পোস্ট করেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। ছবিতে চোখের কাছে ক্ষতচিহ্ন দেখা যাচ্ছে। সেই ছবির সঙ্গে তিনি লিখেছেন, “আমি এখনও শেষ হয়ে যাইনি।” পোস্টটি প্রকাশ্যে আসার পর রাজনৈতিক মহলে এর বার্তা নিয়ে নানা জল্পনা শুরু হয়েছে।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের চোখের চিকিৎসার বিষয়টি নতুন নয়। চিকিৎসার জন্য তিনি আগেও বিদেশে গিয়েছেন। চলতি সময়েও চোখের চিকিৎসার জন্য আদালতের অনুমতি নিয়ে তিনি বিদেশে রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। এর মধ্যেই তাঁর এই পোস্ট প্রকাশ্যে আসায় রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, নিজের কঠিন সময় এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক লড়াইয়ের ইঙ্গিত দিতেই এই বার্তা দেওয়া হয়েছে। তবে পোস্টটির সঙ্গে সরাসরি কোনও রাজনৈতিক বক্তব্য জুড়ে দেননি অভিষেক।
অন্যদিকে, পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে এই মুহূর্তের পরিস্থিতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর রাজ্যে সরকার পরিবর্তন হয়েছে এবং বিজেপি ক্ষমতায় এসেছে। মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। ফলে দীর্ঘদিন রাজ্যের ক্ষমতায় থাকা তৃণমূল এখন বিরোধী রাজনীতিতে রয়েছে।
এই পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যেই তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বকে ঘিরে নানা আইনি ও রাজনৈতিক চাপ রয়েছে। অভিষেকের নাম বিভিন্ন তদন্ত ও মামলার প্রসঙ্গে এসেছে। যদিও কোনও মামলায় অভিযোগ থাকা মানেই অপরাধ প্রমাণিত হওয়া নয়; সংশ্লিষ্ট মামলাগুলির আইনি প্রক্রিয়া এখনও পৃথকভাবে চলছে।
এর মধ্যেই মঙ্গলবার আরও একটি রাজনৈতিক ঘটনা নতুন মাত্রা যোগ করেছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেছেন, তাঁর প্রাক্তন ব্যক্তিগত সহকারী চন্দ্রনাথ রথের হত্যাকাণ্ডের পিছনে ‘ভাইপো গ্যাং’-এর ভূমিকা ছিল এবং হত্যার জন্য প্রায় ২ কোটি টাকা খরচ করা হয়েছিল। ‘ভাইপো’ শব্দটি দিয়ে তিনি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর ঘনিষ্ঠদের দিকে ইঙ্গিত করেছেন বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এটি শুভেন্দু অধিকারীর অভিযোগ; তদন্তে এর সত্যতা চূড়ান্তভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে—এমন দাবি করা যাচ্ছে না। চন্দ্রনাথ রথ হত্যা মামলার তদন্ত করছে সিবিআই এবং ১১ জনকে গ্রেফতার করে তাদের বিরুদ্ধে চার্জশিটও দেওয়া হয়েছে বলে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
{{/usCountry}}এর মধ্যেই মঙ্গলবার আরও একটি রাজনৈতিক ঘটনা নতুন মাত্রা যোগ করেছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেছেন, তাঁর প্রাক্তন ব্যক্তিগত সহকারী চন্দ্রনাথ রথের হত্যাকাণ্ডের পিছনে ‘ভাইপো গ্যাং’-এর ভূমিকা ছিল এবং হত্যার জন্য প্রায় ২ কোটি টাকা খরচ করা হয়েছিল। ‘ভাইপো’ শব্দটি দিয়ে তিনি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর ঘনিষ্ঠদের দিকে ইঙ্গিত করেছেন বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এটি শুভেন্দু অধিকারীর অভিযোগ; তদন্তে এর সত্যতা চূড়ান্তভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে—এমন দাবি করা যাচ্ছে না। চন্দ্রনাথ রথ হত্যা মামলার তদন্ত করছে সিবিআই এবং ১১ জনকে গ্রেফতার করে তাদের বিরুদ্ধে চার্জশিটও দেওয়া হয়েছে বলে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
{{/usCountry}}চন্দ্রনাথ রথের মা হাসিরানি রথকে নন্দীগ্রাম বিধানসভা উপনির্বাচনে প্রার্থী করেছে বিজেপি। মঙ্গলবার তাঁর মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময় শুভেন্দু অধিকারীও উপস্থিত ছিলেন। ফলে ওই হত্যাকাণ্ড এবং অভিষেককে ঘিরে রাজনৈতিক চাপের বিষয়টি একই দিনে আরও বেশি আলোচনায় আসে।
এই আবহেই অভিষেকের চোখের ছবি এবং “আমি এখনও শেষ হয়ে যাইনি”—বার্তা রাজনৈতিক মহলে তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। পোস্টটির সরাসরি ব্যাখ্যা অভিষেক নিজে দেননি। তাই এটি নিছক ব্যক্তিগত অনুভূতির প্রকাশ, নাকি রাজনৈতিক লড়াইয়ের বার্তা—তা নিয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর সুযোগ নেই।
তবে রাজনৈতিক বাস্তবতা হল, ক্ষমতার পরিবর্তনের পর তৃণমূলের সামনে এখন নতুন পরিস্থিতি। দলের সংগঠন, নেতৃত্বের ভূমিকা এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কৌশল নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। সেই সময়েই অভিষেকের এই পোস্ট বুঝিয়ে দিল অন্তত একটি বিষয়—তিনি নিজের প্রকাশ্য অবস্থান থেকে সরে যাননি এবং তাঁর রাজনৈতিক সক্রিয়তা নিয়ে জল্পনা জিইয়ে রাখতেই এই একটি ছবি যথেষ্ট হয়েছে।
আগামী দিনে অভিষেকের প্রত্যাবর্তন, দলের সাংগঠনিক ভূমিকা এবং চলমান মামলাগুলির গতিপথ—এই তিনটি বিষয়ই পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। আপাতত তাঁর ছোট্ট সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টই সেই আলোচনায় নতুন ইন্ধন জুগিয়েছে।