রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর ভাঙনের মুখে পড়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। দলের ২০ জন সাংসদ বিদ্রোহ করে এনসিপিআই (NCPI)-তে যোগ দেওয়ার পর এবার লোকসভাতেও তার স্পষ্ট প্রভাব দেখা গেল। বাদল অধিবেশনের প্রথম দিন থেকেই বদলে গেল তৃণমূল সাংসদদের বসার আসন। এতদিন প্রথম সারিতে বসা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরিয়ে দ্বিতীয় সারিতে পাঠানো হয়েছে। তাঁর জায়গায় এবার থেকে বসবেন এনসিপিআই-এর সংসদীয় দলনেতা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়।

লোকসভায় দীর্ঘদিন ধরেই প্রথম সারিতে বসতেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূল কংগ্রেসের লোকসভার দলনেতা হওয়ার পর তাঁকে প্রথম সারির গুরুত্বপূর্ণ আসন দেওয়া হয়েছিল। সেই সময় দলের প্রবীণ সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে পিছনের সারিতে বসতে হয়েছিল। কিন্তু দলের ভাঙনের পর পরিস্থিতি পুরোপুরি বদলে গেল। সোমবার থেকে শুরু হওয়া বাদল অধিবেশনে অভিষেকের সেই আসনেই বসতে দেখা যাবে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে।
সংসদ সূত্রের খবর, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রথম সারি থেকে সরিয়ে দ্বিতীয় সারিতে বসার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ লোকসভার ভেতরেও তৃণমূলের সাংসদদের অবস্থান বদলে গেল দলের বর্তমান শক্তি অনুযায়ী।
এই পরিবর্তনের পিছনে রয়েছে সাংসদ সংখ্যার হিসাব। বাজেট অধিবেশন পর্যন্ত লোকসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ সংখ্যা ছিল ২৮। কিন্তু দল ভাঙার পর ২০ জন সাংসদ এনসিপিআই-তে যোগ দেওয়ায় তৃণমূলের সাংসদ সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৮-এ। অন্যদিকে বিদ্রোহী সাংসদদের নিয়ে গঠিত এনসিপিআই এখন এনডিএ-র অন্যতম বড় শরিক দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। সেই কারণেই সংসদে তাদের গুরুত্বও বেড়েছে।
রবিবারই এনসিপিআই-এর সংসদীয় দলের বৈঠকে সাংসদদের হাতে নতুন আসন বরাদ্দের চিঠি তুলে দেওয়া হয়। লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা তাঁদের আবেদন মেনে আলাদা বসার ব্যবস্থা করেন। এরপরই সোমবার থেকে কার্যকর হয় নতুন আসন বিন্যাস।
{{/usCountry}}রবিবারই এনসিপিআই-এর সংসদীয় দলের বৈঠকে সাংসদদের হাতে নতুন আসন বরাদ্দের চিঠি তুলে দেওয়া হয়। লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা তাঁদের আবেদন মেনে আলাদা বসার ব্যবস্থা করেন। এরপরই সোমবার থেকে কার্যকর হয় নতুন আসন বিন্যাস।
{{/usCountry}}এর আগে এনসিপিআই-এর সংসদীয় দলনেতা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় প্রশ্ন তুলেছিলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে মাত্র আটজন সাংসদ নিয়ে থাকা তৃণমূল কংগ্রেসকে কেন এখনও প্রথম সারিতে বসার সুযোগ দেওয়া হবে। তাঁর এই মন্তব্যের পরই নতুন আসন বিন্যাস কার্যকর হওয়ায় রাজনৈতিক মহলে জল্পনা আরও বেড়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, লোকসভার আসন বিন্যাস শুধু আনুষ্ঠানিক বিষয় নয়, বরং সংসদে কোনও দলের রাজনৈতিক গুরুত্ব ও সংখ্যাগত শক্তিরও প্রতিফলন। তাই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রথম সারির আসন হারানো এবং সেই জায়গায় সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বসা নিঃসন্দেহে একটি বড় রাজনৈতিক বার্তা বহন করছে।
বাদল অধিবেশনের শুরুতেই এই পরিবর্তন তৃণমূলের বর্তমান অবস্থাকে আরও স্পষ্ট করে দিল বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। দলভাঙনের প্রভাব এবার শুধু রাজ্যের রাজনীতিতেই নয়, সংসদের অন্দরেও চোখে পড়তে শুরু করেছে। আগামী দিনে এই পরিবর্তন সংসদে বিরোধী রাজনীতির সমীকরণে কতটা প্রভাব ফেলবে, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।