Abhishek Banerjee Update: বিদেশে গিয়ে চিকিৎসা করানোর আবেদনে অবশেষে স্বস্তি পেলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কলকাতা হাই কোর্ট এবং সুপ্রিম কোর্টে একাধিক দফা আইনি লড়াইয়ের পর সোমবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চ অভিষেকের তিন সপ্তাহের বিদেশ সফরে অনুমতি দিয়েছে। তবে বিদেশযাত্রার আগে এবং সফর চলাকালীন বেশ কিছু তথ্য তদন্তকারী সংস্থাকে জানাতে হবে তাঁকে।

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, কোথায়, কবে এবং কতদিনের জন্য অভিষেক বিদেশে থাকবেন, কোন বিমানে যাতায়াত করবেন, বিদেশে কোথায় থাকবেন এবং কোথায় চিকিৎসা করাবেন—এই সমস্ত তথ্য তদন্তকারী সংস্থার কাছে জমা দিতে হবে। একইসঙ্গে হলফনামা দিয়ে জানাতে হবে যে ডিপ্লোম্যাটিক পাসপোর্ট ছাড়া তাঁর কাছে আর কোনও পাসপোর্ট নেই। তবে তদন্তকারী সংস্থা অভিষেকের দেওয়া যাবতীয় তথ্য গোপন রাখবে বলেও নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
সোমবার শুনানিতে কেন্দ্রের তরফে অ্যাডিশনাল সলিসিটর জেনারেল এসভি রাজু বিদেশযাত্রার অনুমতি দেওয়ার বিরোধিতা করেন। তাঁর দাবি, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ১৬টি মামলা রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে তাঁকে বিদেশ যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হলে তিনি আর দেশে ফিরে নাও আসতে পারেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন কেন্দ্রের আইনজীবী।
এর পাল্টা যুক্তি দেন অভিষেকের আইনজীবী গোপাল শঙ্করনারায়ণ। তিনি জানান, অভিষেক একজন সাংসদ এবং তাঁর কাছে ডিপ্লোম্যাটিক পাসপোর্ট রয়েছে। পাশাপাশি তিনি একটি সর্বভারতীয় রাজনৈতিক দলের সাধারণ সম্পাদক। তাঁর স্ত্রী ও দুই সন্তানও রয়েছেন। ফলে বিদেশে গিয়ে আর দেশে ফিরবেন না—এমন আশঙ্কার কোনও বাস্তব ভিত্তি নেই বলেই দাবি করেন তিনি।
দুই পক্ষের বক্তব্য শোনার পর বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী চিকিৎসার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ করেন। তাঁর বক্তব্য, একজন ব্যক্তির নিজের চিকিৎসা কোথায় করাবেন, তা নির্ধারণ করার অধিকার রয়েছে। একইভাবে বিদেশে যাওয়ার অধিকারও একজন ব্যক্তির রয়েছে। এরপর প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ তিন সপ্তাহের বিদেশ সফরে অভিষেকের ক্ষেত্রে কোনও বাধা সৃষ্টি না করার নির্দেশ দেয়।
{{/usCountry}}দুই পক্ষের বক্তব্য শোনার পর বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী চিকিৎসার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ করেন। তাঁর বক্তব্য, একজন ব্যক্তির নিজের চিকিৎসা কোথায় করাবেন, তা নির্ধারণ করার অধিকার রয়েছে। একইভাবে বিদেশে যাওয়ার অধিকারও একজন ব্যক্তির রয়েছে। এরপর প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ তিন সপ্তাহের বিদেশ সফরে অভিষেকের ক্ষেত্রে কোনও বাধা সৃষ্টি না করার নির্দেশ দেয়।
{{/usCountry}}চোখের চিকিৎসার জন্য বিদেশ যেতে চেয়ে প্রথমে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন অভিষেক। কিন্তু একক বেঞ্চ তাঁর আবেদন খারিজ করে দেয়। গত ২০ জুলাই বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য জানিয়েছিলেন, কলকাতায় যদি ওই চিকিৎসা সম্ভব না হয়, তবেই বিদেশে যাওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে। প্রয়োজনে কলকাতায় মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করে চিকিৎসার বিষয়ে মতামত নেওয়ার কথাও বলেছিল আদালত।
হাই কোর্টের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে প্রথমে সুপ্রিম কোর্টে যান অভিষেক। তাঁর আইনজীবী দাবি করেন, ডিজে মামলায় আদালতের নির্দেশ মেনে তদন্তে সহযোগিতা করেছেন তিনি এবং কণ্ঠস্বরের নমুনাও দিয়েছেন। তারপরও বিদেশ যাওয়ার অনুমতি না দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে তাঁরা শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হন। তবে সেই পর্যায়ে সুপ্রিম কোর্ট মামলা খারিজ করে বিষয়টি ফের হাই কোর্টে পাঠিয়েছিল।
এরপর হাই কোর্টে ফের শুনানি হয়। আদালতের তরফে SSKM হাসপাতালে চিকিৎসা করানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য বলেছিলেন, যে কোনও নাগরিক চিকিৎসার জন্য নিজের পছন্দের জায়গা বেছে নিতে পারেন। তবে অভিষেকের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা এবং কয়েকটি মামলায় তদন্ত চলার কারণে আদালত বিষয়টি সতর্কতার সঙ্গে দেখছে বলে জানিয়েছিল।
অভিষেকের আইনজীবী রেবেকা জন অবশ্য জানিয়েছিলেন, সাংসদ SSKM-এ চিকিৎসা করাতে ইচ্ছুক নন। শেষ পর্যন্ত ফের সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন অভিষেক। সোমবার শীর্ষ আদালতের নির্দেশে তাঁর বিদেশযাত্রার পথ খুলে গেল। ফলে চিকিৎসার জন্য তিন সপ্তাহ বিদেশে থাকার ক্ষেত্রে আপাতত আর কোনও আইনি বাধা রইল না।