নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিরোধীদের ক্ষোভ যেন এবার আরও তীব্র। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবির সঙ্গে এবার সরাসরি গ্রেফতারির দাবিও তুললেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের দফতরের দিকে ইন্ডিয়া জোটের মিছিল চলাকালীন জ্ঞানেশকে নিশানা করে একের পর এক অভিযোগ তোলেন তিনি। তাঁর দাবি, ভোটারদের অধিকার খর্ব করা হয়েছে এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে যে অভিযোগ বিরোধীরা এত দিন করে আসছিলেন, সাম্প্রতিক সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণে তারই প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে।

এ দিন সকাল সাড়ে দশটা নাগাদ সংসদের মকরদ্বার থেকে শুরু হয় বিরোধীদের মিছিল। কংগ্রেস নেত্রী সনিয়া গান্ধী, রাহুল গান্ধী, প্রিয়ঙ্কা গান্ধীর পাশাপাশি অভিষেক এবং ইন্ডিয়া জোটের একাধিক দলের সাংসদ ছিলেন সেখানে। জাতীয় নির্বাচন কমিশনের দফতর পর্যন্ত যাওয়ার কর্মসূচি থাকলেও কমিশন ভবনের প্রায় ৫০০ মিটার আগে ব্যারিকেড দিয়ে মিছিল আটকে দেয় পুলিশ। ড্রোনে নজরদারিও চলছিল। পরিস্থিতি ঘিরে পুলিশের সঙ্গে মিছিলকারীদের টানাপড়েনের আবহ তৈরি হয়।
সেই মিছিলেই সাংবাদিকদের সামনে অভিষেকের বক্তব্য, নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিরোধীদের অভিযোগ যে একেবারে ভিত্তিহীন নয়, তা সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক পর্যবেক্ষণ থেকেই স্পষ্ট। বিশেষ করে ফর্ম ৬ এবং এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে আদালতের পর্যবেক্ষণের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ভোটার তালিকা সংক্রান্ত প্রক্রিয়ায় গুরুতর প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
অভিষেকের অভিযোগ, জ্ঞানেশ কুমারের নেতৃত্বাধীন কমিশনের সিদ্ধান্তে বাংলা, বিহার এবং মহারাষ্ট্রে বহু মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। ট্রাইব্যুনালে লক্ষ লক্ষ নাম অমীমাংসিত অবস্থায় পড়ে রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। তাঁর ভাষায়, মানুষের ভোটের অধিকার ক্ষুণ্ণ হয়েছে। তাই শুধু পদত্যাগ চাইলেই হবে না, মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে গ্রেফতারির পদক্ষেপও প্রয়োজন।
তবে এই অভিযোগ নিয়ে রাজনৈতিক পালটা চাপও শুরু হয়েছে। বিজেপির বাংলা শাখার সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য ইন্ডিয়া জোটের অস্তিত্ব নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর বক্তব্য, বিরোধী শিবির নিজেদের রাজনৈতিক ব্যর্থতা আড়াল করতেই নির্বাচন কমিশনকে নিশানা করছে। মানুষের প্রত্যাখ্যানের পর এই ধরনের বক্তব্য সামনে আনা হচ্ছে বলেও কটাক্ষ করেছেন তিনি।
{{/usCountry}}তবে এই অভিযোগ নিয়ে রাজনৈতিক পালটা চাপও শুরু হয়েছে। বিজেপির বাংলা শাখার সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য ইন্ডিয়া জোটের অস্তিত্ব নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর বক্তব্য, বিরোধী শিবির নিজেদের রাজনৈতিক ব্যর্থতা আড়াল করতেই নির্বাচন কমিশনকে নিশানা করছে। মানুষের প্রত্যাখ্যানের পর এই ধরনের বক্তব্য সামনে আনা হচ্ছে বলেও কটাক্ষ করেছেন তিনি।
{{/usCountry}}এর আগে জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে বিরোধীদের আপত্তি নতুন নয়। নির্বাচন কমিশনের অন্দরে মতবিরোধের খবর প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই তাঁকে সরানোর দাবি জোরদার হয়েছে। বিরোধীদের একাংশের অভিযোগ, গুরুত্বপূর্ণ কিছু সিদ্ধান্তে কমিশনের সমস্ত সদস্যের মধ্যে যথেষ্ট সমন্বয় ছিল না। এই আবহেই বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে।
মঙ্গলবারের মিছিল তাই শুধু একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি ছিল না, নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে বিরোধীদের বৃহত্তর আক্রমণের মঞ্চও হয়ে উঠল। অভিষেকের মন্তব্যে সেই সুর আরও চড়া হল। এখন নজর, বিরোধীদের এই লাগাতার চাপের মুখে নির্বাচন কমিশন কী জবাব দেয় এবং জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে বিতর্ক কোন দিকে গড়ায়।