মুম্বইয়ে বিক্ষোভে যোগ দিতে গিয়ে পুলিশের হাতে আটক হয়েছিলেন বলিউড অভিনেতা ইমরান খান। এ বার তাঁকে ভারত থেকে তাড়ানোর দাবি তুললেন বিজেপি নেতা কিরীট সোমাইয়া। তাঁর অভিযোগ, বিদেশি নাগরিক হয়েও রাজনৈতিক আন্দোলনে যোগ দিয়েছেন অভিনেতা। এ নিয়ে মুম্বই পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগও জানিয়েছেন বিজেপির প্রাক্তন সাংসদ। ইমরানের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি। এমনকি, তাঁকে অবিলম্বে ভারত থেকে বহিষ্কারের দাবিও তুলেছেন সোমাইয়া। নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলনে ইমরানের যোগ দেওয়া ঘিরেই নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে।
কী অভিযোগ সোমাইয়ার?

মুম্বই পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মনোজ কুমার শর্মাকে চিঠি লিখেছেন সোমাইয়া। তাঁর দাবি, বিদেশি নাগরিক হিসেবে ইমরান খান কী ভাবে রাজনৈতিক আন্দোলনে যোগ দিলেন, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। বিক্ষোভের অনুমতি ছিল না বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি। বিদেশি নাগরিক হয়েও আইন ভেঙে রাজনৈতিক আন্দোলনে যোগ দেওয়ার অধিকার তাঁর রয়েছে কি না, সেই প্রশ্ন তুলেছেন বিজেপি নেতা।
সমাজমাধ্যমে একটি পোস্টেও এই বিষয়ে সরব হয়েছেন সোমাইয়া। সেখানে তিনি ইমরানকে অবিলম্বে ভারত থেকে বহিষ্কারের দাবি জানিয়েছেন। তবে ইমরানের নাগরিকত্বের বিষয়টি নিয়ে সোমাইয়ার বক্তব্যই এখন পর্যন্ত সামনে এসেছে। পুলিশ বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তরফে এ নিয়ে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা জানা যায়নি।
কেন আটক হয়েছিলেন অভিনেতা?
গত ১০ অক্টোবর মুম্বইয়ের অগস্ট ক্রান্তি ময়দানে বিক্ষোভ দেখানোর কথা ছিল ককরোচ জনতা পার্টির সমর্থকদের। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লির যন্তর মন্তরে আন্দোলনের ডাক দিয়েছিল ওই সংগঠন। তার সমর্থনেই মুম্বইয়ে জমায়েতের পরিকল্পনা করা হয়।
কিন্তু অগস্ট ক্রান্তি ময়দানে বিক্ষোভের অনুমতি দেয়নি পুলিশ। এলাকায় কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। একাধিক জায়গায় ব্যারিকেড বসানো হয়। পুলিশ জানিয়েছিল, অনুমতি ছাড়া জমায়েত করা যাবে না। সেই পরিস্থিতিতে ময়দানের কাছে পৌঁছনো বহু মানুষকে আটক করা হয়। তাঁদের মধ্যে ছিলেন অভিনেতা ইমরান খানও। মহাত্মা গান্ধীর প্রপৌত্র তুষার গান্ধী এবং শিবসেনা উদ্ধব গোষ্ঠীর বিধায়ক বরুণ সারদেসাইও আটক হন। পরে ইমরানকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
‘আমি কোনও দাবি নিয়ে আসিনি’
{{/usCountry}}কিন্তু অগস্ট ক্রান্তি ময়দানে বিক্ষোভের অনুমতি দেয়নি পুলিশ। এলাকায় কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। একাধিক জায়গায় ব্যারিকেড বসানো হয়। পুলিশ জানিয়েছিল, অনুমতি ছাড়া জমায়েত করা যাবে না। সেই পরিস্থিতিতে ময়দানের কাছে পৌঁছনো বহু মানুষকে আটক করা হয়। তাঁদের মধ্যে ছিলেন অভিনেতা ইমরান খানও। মহাত্মা গান্ধীর প্রপৌত্র তুষার গান্ধী এবং শিবসেনা উদ্ধব গোষ্ঠীর বিধায়ক বরুণ সারদেসাইও আটক হন। পরে ইমরানকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
‘আমি কোনও দাবি নিয়ে আসিনি’
{{/usCountry}}আটক হওয়ার আগে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছিলেন ইমরান। তাঁর বক্তব্য ছিল, কোনও বিশেষ দাবি নিয়ে তিনি বিক্ষোভে যোগ দেননি। শহরের একজন বাসিন্দা হিসেবে মানুষের চলাফেরার স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতেই সেখানে গিয়েছিলেন। কেন সাধারণ মানুষের যাতায়াতে বাধা দেওয়া হচ্ছে এবং কেন তাঁদের কণ্ঠস্বর দমন করা হচ্ছে, তা জানতে চান তিনি। কোনও রাজনৈতিক দল বা সংগঠনের সদস্য হিসেবেও সেখানে যাননি বলে দাবি করেন অভিনেতা।
পুলিশের গাড়িতে বসে একটি ছবিও সমাজমাধ্যমে পোস্ট করেছিলেন ইমরান। সেই ছবি ঘিরে আলোচনা শুরু হয়। তাঁর আটক হওয়ার ঘটনা নিয়ে সরব হন বিভিন্ন মহলের মানুষ। এ বার নাগরিকত্বের প্রশ্ন তুলে তাঁকে বহিষ্কারের দাবি জানানোয় বিতর্ক আরও বেড়েছে।
সব মিলিয়ে, একটি বিক্ষোভে যোগ দেওয়াকে কেন্দ্র করে ইমরান খানের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক আক্রমণ তীব্র হয়েছে। সোমাইয়ার অভিযোগের ভিত্তিতে মুম্বই পুলিশ কী পদক্ষেপ করে, এখন নজর সেদিকেই। তবে অভিযোগ আর প্রমাণিত তথ্য এক নয়। অভিনেতার নাগরিকত্ব এবং তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ নিয়ে সরকারি ভাবে কী জানানো হয়, সেটাই গুরুত্বপূর্ণ।