...
...
Next Story

New World Map: বদলে যাচ্ছে ওয়ার্ল্ড ম্যাপ! আফ্রিকা হবে আরও বড়, সমালোচনায় US

New World Map: আফ্রিকার দেশ টোগোর নেতৃত্বে এবং আফ্রিকান ইউনিয়নের সমর্থনে আনা ‘কারেক্ট দ্য ম্যাপ’ নামের প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিয়েছে ১৬৪টি দেশ। ছয়টি দেশ ভোটদানে বিরত থাকলেও বিপক্ষে ভোট দিয়েছে একমাত্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।

Published on: Sep 5, 2026, 14:19:54 IST
Advertisement

New World Map: বিশ্বের প্রচলিত মানচিত্র নিয়ে ঐতিহাসিক পদক্ষেপ রাষ্ট্রসংঘের। এবার রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদ বা জেনারেল অ্যাসেম্বলি বর্তমানে প্রচলিত মার্কেটর ওয়ার্ল্ড ম্যাপের বদল করতে চেয়েছে। তার বদলে নতুন একটি ম্যাপ ব্যবহারের পক্ষে ভোট দিয়েছে। সেখানে বিভিন্ন মহাদেশের প্রকৃত আয়তনের আরও নির্ভুলভাবে ফুটে উঠেছে। নতুন এই মানচিত্রে আফ্রিকাকে তুলনামূলকভাবে অনেক বড় দেখানো হয়েছে। আর ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকাকে ছোট দেখানো হয়েছে। আর এই উদ্যোগের তীব্র সমালোচনা করেছে ওয়াশিংটন।

বদলে যাচ্ছে ওয়ার্ল্ড ম্যাপ! (Bloomberg)
বদলে যাচ্ছে ওয়ার্ল্ড ম্যাপ! (Bloomberg)

আফ্রিকার দেশ টোগোর নেতৃত্বে এবং আফ্রিকান ইউনিয়নের সমর্থনে আনা ‘কারেক্ট দ্য ম্যাপ’ নামের প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিয়েছে ১৬৪টি দেশ। ছয়টি দেশ ভোটদানে বিরত থাকলেও বিপক্ষে ভোট দিয়েছে একমাত্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। প্রস্তাবে বলা হয়েছে, বর্তমানে বহুল ব্যবহৃত ‘মার্কেটর প্রজেকশন’ মানচিত্রে ভৌগোলিক বিকৃতির কারণে বিশ্বের মানুষের চিন্তায় আফ্রিকা মহাদেশের প্রতীকী অবমূল্যায়ন ঘটেছে। প্রচলিত ‘মার্কেটর প্রজেকশন’ (Mercator projection) তৈরি করেছিলেন ফ্লেমিশ মানচিত্রবিদ জেরার্ডাস মার্কেটর। ১৫৬৯ সালে তৈরি এই মানচিত্রের মূল উদ্দেশ্য ছিল সমুদ্রপথে নৌ-চলাচল সহজ করা।

তবে পৃথিবীর গোলাকার পৃষ্ঠকে সমতল মানচিত্রে তুলে ধরলে কিছু না কিছু বিকৃতি হওয়াই স্বাভাবিক। তাই মার্কেটর প্রোজেকশনে নিরক্ষরেখা থেকে যত দূরে যাওয়া যায়, বিশেষ করে মেরু অঞ্চলের দিকে, স্থলভাগ তত বেশি বড় দেখায়। ফলে উত্তর গোলার্ধের বিভিন্ন অঞ্চল তুলনায় অনেক বড় মনে হয়। অন্যদিকে, আফ্রিকার মতো নিরক্ষরেখার কাছাকাছি থাকা অঞ্চল তুলনামূলকভাবে ছোট দেখায়। এর সবচেয়ে ভাল উদাহরণ হল গ্রিনল্যান্ড ও আফ্রিকা। মার্কেটর ম্যাপে গ্রিনল্যান্ডকে আফ্রিকার প্রায় সমান আকারের মনে হয়। বাস্তবে আফ্রিকা প্রায় ১৪ গুণ বড় গ্রিনল্যান্ডের চেয়ে। এই প্রোজেকশন ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা এবং রাশিয়া মতো জায়গাগুলি আফ্রিকা, দক্ষিণ আমেরিকা ও এশিয়ার কিছু অংশের তুলনায় বেশি বড় ও গুরুত্বপূর্ণ বলে চোখে পড়ে। তবে এর অর্থ এই নয় যে মার্কেটর মানচিত্র ভৌগোলিকভাবে ভুল। জাহাজ ও নৌকা চলাচলের জন্য নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে তৈরি হওয়ায় এর এই বিকৃতি রয়েছে। কিন্তু স্কুল, অফিসে এই ধরনের ম্যাপ খুব ব্যবহার হয়। সেখানে মানুষ অনেক সময় মহাদেশগুলির আপেক্ষিক আকার সম্পর্কে ভুল ধারণা পেতে পারেন।

রাষ্ট্রসংঘের প্রস্তাবে ‘ইকুয়াল আর্থ প্রজেকশন’ (Equal Earth projection) ব্যবহারে উৎসাহ দেওয়া হয়েছে। ২০১৮ সালে একদল মানচিত্রবিদ এই প্রজেকশন তৈরি করেন। ইকুয়াল আর্থ হল একটি ‘ইক্যুয়াল এরিয়া প্রোজেকশন।’ অর্থাৎ, এতে বিভিন্ন দেশ ও মহাদেশের আয়তন তাদের প্রকৃত ভৌগোলিক আয়তনের অনুপাতে দেখানো হয়। ফলে আফ্রিকাকে প্রচলিত মানচিত্রের তুলনায় অনেক বড় দেখায়, আর ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকাকে তুলনামূলকভাবে ছোট দেখায়। লাতিন আমেরিকা, দক্ষিণ এশিয়া এবং ওশেনিয়াও আপেক্ষিকভাবে বেশি জায়গা পায়। ফ্রান্সের বিদেশমন্ত্রী জঁ-নোয়েল বারো জানিয়েছেন, ফ্রান্স মার্কেটর প্রজেকশন পদ্ধতি থেকে সরে আসছে। তিনি বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও চিনকে আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকা কিংবা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার তুলনায় মানচিত্রে দৃশ্যত বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিনের এই বিকৃতি মানুষের চিন্তাভাবনায়ও প্রভাব ফেলেছে এবং এখন তা সংশোধনের সময় এসেছে।

তবে রাষ্ট্রসংঘের এই সিদ্ধান্ত বাধ্যতামূলক নয়। এর ফলে ‘মার্কেটর প্রজেকশন’ নিষিদ্ধ হচ্ছে না। কোনও দেশ, স্কুল, প্রকাশনা সংস্থা বা প্রযুক্তি সংস্থাকেও নতুন মানচিত্র ব্যবহার করতে বাধ্য করা হয়নি। শিক্ষা, জনসচেতনতা এবং যেখানে দেশ বা মহাদেশের প্রকৃত আয়তনের তুলনা গুরুত্বপূর্ণ, সেখানে ইকুয়াল আর্থ ব্যবহারে উৎসাহ দেওয়া হয়েছে।

 
SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe