বেশ কিছুদিন ধরেই পাকিস্তানের সঙ্গে সীমান্ত বিবাদে লিপ্ত তাদের প্রতিবেশী আফগানিস্তান। ডুরান্ড লাইন ঘিরে এই সংঘাতের মাঝেই পাকিস্তানের আফগান সীমান্ত লাগোয়া এলাকায় ড্রোন হামলার আশঙ্কা বেড়েই চলেছে। সেই ড্রোন হামলা থেকে নিজেদের পোস্ট বাঁচাতে পাকিস্তানি সেনার ভরসা এখন মাছ ধরার জাল!

তেহরিক-এ তালিবান পাকিস্তান বা টিটিপির দিকে বহুদিন ধরেই পাকিস্তান অভিযোগের আঙুল তুলেছে। অভিযোগ, তাদের নিক্ষেপ করা ড্রোন পাকিস্তানের আফগান সীমান্তের খাইবার পাখতুনখোয়া এলাকাকে তপ্ত করেছে। টিটিপির পদক্ষেপের জেরে নাজেহাল পাকিস্তানি সেনা তাই ড্রোন হামলা থেকে নিজেদের আফগানিস্তানের সীমান্ত ঘেঁষা পোস্ট বাঁচাতে মাছ ধরার জাল পোস্টের চারিদিকে টাঙিয়ে রাখছে। এমনই খবর প্রকাশিত হয়েছে আল জাজিরা-র প্রতিবেদনে।
প্রায় তিন মাসের অস্বস্তিকর শান্ত অবস্থার পর সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে লড়াই তীব্রতর হয়েছে । এর নেপথ্যে রয়েছে পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের ক্ষোভ কাবুলের বিরুদ্ধে। টিটিপি, যা পাকিস্তানি তালিবান নামেও পরিচিত, তাদেরকে আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ তুলে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে পাকিস্তান। আফগানিস্তান এই অভিযোগ অস্বীকার করলেও, পাকিস্তান দাবি করেছে যে তাদের নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর ধারাবাহিক হামলার পেছনে টিটিপি রয়েছে।
আফগানিস্তান থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে পাকিস্তানের হাঙ্গু জেলা। এপ্রিল মাসে সেখানে একটি পুলিশ পোস্টে বড়সড় হামলা হয়। টিটিপির বন্দুকধারীরা সেখানে নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর গুলি চালায় বলে অভিযোগ। তারপর সেখানে আছড়ে পড়ে মুড়িমুড়কর মতো ড্রোন। রিপোর্ট বলছে, ড্রোন রুখতে আর্থিক দুর্দশায় থাকা পাকিস্তান অ্যান্টি ড্রোন সিস্টেম মোতায়েনের বদলে, মাছ ধরার জাল নিয়ে আসে। নিরাপত্তা বাহিনীর পোস্ট গুলির ছাদ থেকে পাঁচিল পর্যন্ত মশারির মতো ওই মাছ ধরার জাল দিয়ে তারা পোস্ট ঢেকে দেয়, যাতে ড্রোন নিজের টার্গেটে পড়ার আগেই আটকে যায়। ধারণাটি তুলনামূলকভাবে সহজ। যদি কোনো ড্রোন জালে ঢুকে যায়, তাহলে এর প্রপেলারগুলো জড়িয়ে যেতে পারে, যার ফলে চেকপয়েন্টে পৌঁছানোর আগেই যানটি থেমে যেতে বা তার চলাচলে ব্যাঘাত ঘটতে পারে। সেখানে আল জাজিরাকে এক পুলিশ কর্তা জানিয়েছেন, ‘যদি কোনও ড্রোন চেকপয়েন্টের ওপর দিয়ে আসে, তাহলে সেটি জালে আটকা পড়ে নিষ্ক্রিয় বা থামানো হতে পারে।’
আল জাজিরার রিপোর্ট বলছে, নিরাপত্তার চেক পয়েন্ট গুলিকে মাছ ধরার জাল দিয়ে ঢাকতে খরচ পড়ছে ১,৪০০ মার্কিন ডলার, আর সেখানে অ্যান্টি ড্রোন সিস্টেম মোতায়েন করতে গেলে খরচ ৫ হাজার মার্কিন ডলার থেকে ৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। জানা যাচ্ছে, নিরাপত্তা বাহিনীর পোস্টগুলি, এমন মাছ ধরার জাল দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে পাকিস্তানের ডেরা ইসমাইল, করক, বান্নু, লাক্কি মারওয়াত, কোহাত এলাকায়।
{{/usCountry}}আল জাজিরার রিপোর্ট বলছে, নিরাপত্তার চেক পয়েন্ট গুলিকে মাছ ধরার জাল দিয়ে ঢাকতে খরচ পড়ছে ১,৪০০ মার্কিন ডলার, আর সেখানে অ্যান্টি ড্রোন সিস্টেম মোতায়েন করতে গেলে খরচ ৫ হাজার মার্কিন ডলার থেকে ৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। জানা যাচ্ছে, নিরাপত্তা বাহিনীর পোস্টগুলি, এমন মাছ ধরার জাল দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে পাকিস্তানের ডেরা ইসমাইল, করক, বান্নু, লাক্কি মারওয়াত, কোহাত এলাকায়।
{{/usCountry}}