ইউনুস জমানায় ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক একদমই তলানিতে গিয়ে ঠেকেছিল। তবে তারেক জিয়া প্রধানমন্ত্রী হতেই সম্পর্কের সমীকরণ ক্রমেই ইতিবাচক দিকে ঘুরছে। আর তারই ইঙ্গিত হিসেবে দীর্ঘ কয়েক মাসে পরে ফের একবার চালু বল আগরতলা-ঢাকা-কলকাতা বাস পরিষেবা। বিগত দেড় বছরের বেশি সময় ধরে এই বাস পরিষেবা বন্ধ ছিল। তবে আপাতত সপ্তাহে দু'বার করে এই বাস চালু করা হয়েছে পরীক্ষামূলক ভাবে। পরবর্তীতে এই বাসের সংখ্যা বাড়ানো হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

রিপোর্ট অনুযায়ী, ২৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকার কমলাপুর বাস ডিপো থেকে পরীক্ষামূলকভাবে রয়েল মৈত্রীর একটি বাস যাত্রা শুরু করে। আখাউড়া আন্তর্জাতিক সীমান্ত দিয়ে সেই বাসটি ত্রিপুরা রাজ্যের আগরতলা প্রবেশ করে। এর আগে গত ২১ ফেব্রুয়ারি ত্রিপুরার আগরতলার কৃষ্ণনগরে বাস ডিপো থেকে ঢাকার উদ্দেশে একটি বাস যাত্রা করেছিল। আগরতলা থেকে ঢাকা হয়ে কলকাতা পর্যন্ত বাস পরিষেবা ফের চালু হওয়ায় স্বাগত জানিয়েছেন ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা। ত্রিপুরা রাজ্য সরকারের পরিবহনমন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী জানান, এই পরিষেবা পুনরায় চালু হওয়ার ফলে দুই দেশের মানুষের মধ্যে যোগাযোগ, পর্যটন ও ব্যাবসা-বাণিজ্য বাড়বে। এদিকে আগরতলা-ঢাকা-কলকাতা বাস সার্ভিসের জিএম ওয়ারিছ আলম ডিএস জানান, আপাতত সপ্তাহে দুই দিন পরীক্ষামূলকভাবে চলবে। তার পরে পরিস্থিতি স্থিতিশীল হয়ে গেলে সপ্তাহে তিন দিন করে নিয়মিত এই বাস পরিষেবা শুরু হবে।
উল্লেখ্য, ঢাকা হয়ে আগরতলা-কলকাতা এই বাস পরিষেবা আগেও চালু ছিল। তবে গত দেড় বছর ধরে রাজনৈতিক অস্থিরতা আর ভিসা জটিলতায় সাময়িকভাবে তা বন্ধ ছিল। বাংলাদেশে ভারতীয় ভিসা সেন্টার এবং ডেপুটি হাইকমিশনগুলোয় হামলার চেষ্টা করা হয়েছিল। এর জেরে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল ভিসা পরিষেবা। পরে নির্বাচনের প্রাক্কালে বাংলাদেশও ভারতীয়দের ভিসা দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছিল। এর জেরে আগরতলা থেকে কলকাতার যাত্রাপথের দূরত্ব বেড়ে গিয়েছিল তিনগুণ। প্রসঙ্গত, ত্রিপুরা রাজ্যের আগরতলা থেকে ট্রেনে গুয়াহাটি হয়ে কলকাতায় পৌঁছাতে প্রায় দেড় হাজার কিলোমিটার পথ অতিক্রম করতে হয়। তবে বাসে ঢাকা হয়ে সেই যাত্রাপথ মাত্র ৫০০ কিলোমিটারের। এই আবহে ফের এই বাস সার্ভিস চালু হওয়ায় উপকৃত হবেন সাধারণ মানুষ।