ভারত-চিন সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পথে আরও এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। সোমবার বেজিং যাচ্ছেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল। মঙ্গলবার চিনের বিদেশমন্ত্রী তথা তাঁর সমকক্ষ ওয়াং ই-র সঙ্গে বৈঠক হওয়ার কথা। সীমান্ত সমস্যা নিয়ে হবে ২৫তম দফার ‘স্পেশাল রিপ্রেজেন্টেটিভ’ বা বিশেষ প্রতিনিধি পর্যায়ের আলোচনা।

দুই দেশের ৩৪৮৮ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ। সেই সমস্যার সমাধানের জন্য ২০০৩ সালে তৈরি হয়েছিল এই বিশেষ প্রতিনিধি ব্যবস্থাটি। এবার সেই আলোচনাতেই ফের মুখোমুখি হচ্ছেন ডোভাল এবং ওয়াং ই। ডোভালের এই সফরের সময়টিও যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, আগামী মাসে নয়াদিল্লিতে ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন হওয়ার কথা। ১২ এবং ১৩ সেপ্টেম্বরের ওই বৈঠকে চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং যোগ দিতে পারেন বলে খবর। বেজিং এখনও সরকারি ভাবে সফরের কথা ঘোষণা করেনি। তবে কূটনৈতিক মহলে তাঁর ভারত সফরের সম্ভাবনা জোরালো।
শি এ বার ভারতে এলে তা হবে দীর্ঘ সাত বছর পর তাঁর সফর। ভারত-চিন সম্পর্কের বরফ গলানোর ক্ষেত্রে সেই সফর নতুন বার্তা দিতে পারে। ডোভালের বেজিং সফর তাই শুধু সীমান্ত বৈঠক নয়। সামনে সম্ভাব্য শি-মোদী বৈঠকের প্রস্তুতিও বলে মনে করা হচ্ছে। তবে ছবিটা পুরোপুরি মসৃণ নয়। লাদাখে ২০২০ সালের সংঘাতের পর ভারত-চিন সম্পর্ক দীর্ঘ সময় তলানিতে ছিল। ২০২৪ সালের অক্টোবরে পূর্ব লাদাখের অচলাবস্থা কাটাতে দুই দেশ একটি সমঝোতায় পৌঁছয়। তার পর থেকে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার কিছু পদক্ষেপ হয়েছে।
কৈলাস মানস সরোবর যাত্রা ফের শুরু হয়েছে। সরাসরি বিমান পরিষেবা চালুর উদ্যোগ হয়েছে। চিনা নাগরিকদের ভিসার ক্ষেত্রেও কিছুটা শিথিলতা এসেছে। কিন্তু প্রকৃত সীমান্ত উত্তেজনা কমানো এবং সেনা প্রত্যাহারের প্রশ্নে এখনও বড় অগ্রগতি হয়নি। বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করও সম্প্রতি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, সীমান্তে পরিস্থিতিই ভারত-চিন সম্পর্কের গতিপথ ঠিক করবে। ২০২০ সালের পর চার বছর ধরে পূর্ব লাদাখে সেনা মোতায়েন এবং সংঘাতের কারণে দুই দেশের সম্পর্ক ছয় দশকের মধ্যে অন্যতম খারাপ পর্যায়ে পৌঁছেছিল।
{{/usCountry}}কৈলাস মানস সরোবর যাত্রা ফের শুরু হয়েছে। সরাসরি বিমান পরিষেবা চালুর উদ্যোগ হয়েছে। চিনা নাগরিকদের ভিসার ক্ষেত্রেও কিছুটা শিথিলতা এসেছে। কিন্তু প্রকৃত সীমান্ত উত্তেজনা কমানো এবং সেনা প্রত্যাহারের প্রশ্নে এখনও বড় অগ্রগতি হয়নি। বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করও সম্প্রতি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, সীমান্তে পরিস্থিতিই ভারত-চিন সম্পর্কের গতিপথ ঠিক করবে। ২০২০ সালের পর চার বছর ধরে পূর্ব লাদাখে সেনা মোতায়েন এবং সংঘাতের কারণে দুই দেশের সম্পর্ক ছয় দশকের মধ্যে অন্যতম খারাপ পর্যায়ে পৌঁছেছিল।
{{/usCountry}}গত বছরের অগস্টে নয়াদিল্লিতে হয়েছিল ২৪তম দফার বিশেষ প্রতিনিধি বৈঠক। সেখানে সীমান্তে শান্তি এবং স্থিতাবস্থা বজায় রাখার গুরুত্ব ফের তুলে ধরা হয়েছিল। ন্যায্য এবং পারস্পরিক ভাবে গ্রহণযোগ্য সীমান্ত সমাধানের জন্য ২০০৫ সালের রাজনৈতিক নির্দেশিকাকেও ভিত্তি হিসাবে সামনে রাখা হয়। এ ছাড়া সীমান্ত নির্ধারণের ক্ষেত্রে দ্রুত অগ্রগতির জন্য বিশেষজ্ঞ গোষ্ঠী তৈরির সিদ্ধান্ত হয়েছিল। সীমান্ত ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর করতে ওয়ার্কিং গ্রুপ তৈরির কথাও বলা হয়েছিল। পূর্ব এবং মধ্য সেক্টরেও নতুন সামরিক যোগাযোগ ব্যবস্থা তৈরির সিদ্ধান্ত হয়। তবে এসব সিদ্ধান্ত বাস্তবে কতটা এগিয়েছে, তা নিয়ে এখনও স্পষ্ট ছবি নেই।
এর মধ্যেই চলতি অগস্টের ৬ তারিখ দিল্লিতে ভারত-চিন সীমান্ত বিষয়ক WMCC বৈঠক হয়েছে। সেখানে সীমান্ত নির্ধারণ, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা এবং সীমান্তপারের সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়। একই সঙ্গে ২৫তম বিশেষ প্রতিনিধি বৈঠকের প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছে। ফলে ডোভাল-ওয়াং বৈঠককে ঘিরে প্রত্যাশা বাড়ছে। সীমান্তে স্থিতাবস্থা ফেরানো যাবে কি না, সেনা উত্তেজনা কমবে কি না, আর ব্রিকসের আগে দুই দেশের সম্পর্ক নতুন পথে হাঁটবে কি না—নজর এখন বেজিংয়ের বৈঠকের দিকে।