প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে আত্মনির্ভরতার পথে আরও এক গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য ভারতের। সম্পূর্ণ দেশীয়ভাবে তৈরি AK-203 রাইফেল, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘শের’, সফলভাবে ফায়ারিং ট্রায়াল সম্পন্ন করেছে। উত্তরপ্রদেশের আমেঠির কোর্ওয়া এলাকায় Indo-Russian Rifles Private Limited বা IRRPL-এর কারখানায় তৈরি এই রাইফেলের পরীক্ষামূলক গুলি চালানোর পর্ব সফল হয়েছে বলে জানিয়েছে উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীর দফতর।

বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্ট করে এই সাফল্যের কথা জানায় মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের দফতর। সেখানে দাবি করা হয়েছে, আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে প্রতিরক্ষা উৎপাদনে ভারত আরও একধাপ এগিয়ে গেল। সম্পূর্ণ দেশীয়ভাবে নির্মিত AK-203 ‘শের’-এর ফায়ারিং ট্রায়াল সফল হওয়াকে প্রতিরক্ষা শিল্পে উত্তরপ্রদেশের ক্রমবর্ধমান গুরুত্বের নিদর্শন হিসেবেও তুলে ধরা হয়েছে।
আমেঠির কোর্ওয়ায় IRRPL-এর উৎপাদন কেন্দ্রে AK-203 রাইফেল তৈরি করা হয়েছে। এই প্রকল্প ভারত ও রাশিয়ার প্রতিরক্ষা সহযোগিতারও একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ। দীর্ঘদিন ধরেই দেশে আধুনিক ছোট আগ্নেয়াস্ত্রের উৎপাদন বাড়ানো এবং বিদেশ থেকে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম আমদানির উপর নির্ভরতা কমানোর উপর জোর দিয়েছে কেন্দ্র। সেই বৃহত্তর আত্মনির্ভরতার উদ্যোগের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই দেশীয় উৎপাদন পরিকাঠামোকে আরও শক্তিশালী করার চেষ্টা চলছে।
উত্তরপ্রদেশ সরকারও প্রতিরক্ষা উৎপাদনের জন্য রাজ্যকে একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করছে। মুখ্যমন্ত্রীর দফতরের দাবি, যোগী আদিত্যনাথের নেতৃত্বে উত্তরপ্রদেশ এখন প্রতিরক্ষা শিল্পের অন্যতম বড় গন্তব্য হয়ে উঠছে। আমেঠিতে AK-203-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ রাইফেল তৈরি হওয়া সেই দাবিকে আরও জোরালো করছে। এর ফলে রাজ্যে প্রতিরক্ষা শিল্পে বিনিয়োগ, প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং কর্মসংস্থানের সুযোগও বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
‘শের’-এর ফায়ারিং ট্রায়াল সফল হওয়ায় শুধু একটি রাইফেলের পরীক্ষাই সম্পন্ন হল না, দেশীয় প্রতিরক্ষা উৎপাদনের ক্ষেত্রেও এর তাৎপর্য রয়েছে। আধুনিক অস্ত্রশস্ত্র দেশেই তৈরি হলে দ্রুত সরবরাহ, রক্ষণাবেক্ষণ এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রতিরক্ষা পরিকল্পনায় সুবিধা পাওয়া সম্ভব। একই সঙ্গে বিদেশি সরবরাহ ব্যবস্থার উপর নির্ভরতা কমানোও সম্ভব হবে।
{{/usCountry}}‘শের’-এর ফায়ারিং ট্রায়াল সফল হওয়ায় শুধু একটি রাইফেলের পরীক্ষাই সম্পন্ন হল না, দেশীয় প্রতিরক্ষা উৎপাদনের ক্ষেত্রেও এর তাৎপর্য রয়েছে। আধুনিক অস্ত্রশস্ত্র দেশেই তৈরি হলে দ্রুত সরবরাহ, রক্ষণাবেক্ষণ এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রতিরক্ষা পরিকল্পনায় সুবিধা পাওয়া সম্ভব। একই সঙ্গে বিদেশি সরবরাহ ব্যবস্থার উপর নির্ভরতা কমানোও সম্ভব হবে।
{{/usCountry}}এদিকে, AK-203-এর সাফল্যের খবরের পাশাপাশি উত্তরপ্রদেশ সরকারের আরও একটি বড় উদ্যোগের কথাও সামনে এসেছে। বুধবারই লখনউয়ে ‘লোকমাতা অহল্যাবাই মাতৃশক্তি যাত্রা’ প্রকল্পের সূচনা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। প্রকল্পের আওতায় রাজ্যের ৬০ বছর বা তার বেশি বয়সি মহিলাদের জন্য বিনামূল্যে বাসে যাতায়াতের সুবিধা দেওয়া হবে। এই প্রকল্পের অধীনে বিশেষ বাসেরও সূচনা করা হয়েছে।
প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগী আদিত্যনাথ বলেন, বয়স্ক মহিলাদের যাতায়াত আরও সহজ, সুবিধাজনক ও মর্যাদাপূর্ণ করাই এই উদ্যোগের লক্ষ্য। তাঁর বক্তব্য, পরিবারের পাশাপাশি সমাজকে দীর্ঘদিন ধরে যাঁরা সামলেছেন, সেই ‘মাতৃশক্তি’র সম্মান ও সুবিধাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও ঘোষণা করেছেন, রাখিবন্ধনের দিন মায়েরা, বোনেরা ও মেয়েদের সঙ্গে একজন সহযাত্রীর জন্যও বিনামূল্যে বাসযাত্রার সুবিধা থাকবে। অর্থাৎ ওই বিশেষ দিনে আরও বেশি সংখ্যক মহিলা সরকারি পরিবহণ ব্যবস্থার সুবিধা নিতে পারবেন।
একদিকে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে ‘শের’-এর সফল ফায়ারিং ট্রায়াল, অন্যদিকে প্রবীণ মহিলাদের জন্য বিনামূল্যে বাস পরিষেবা—একই দিনে উত্তরপ্রদেশ সরকারের দুই ভিন্ন ধরনের উদ্যোগ সামনে এল। তবে প্রতিরক্ষা উৎপাদনের ক্ষেত্রে আমেঠিতে তৈরি দেশীয় AK-203-এর সাফল্য জাতীয় নিরাপত্তা ও আত্মনির্ভরতার দিক থেকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।