Punjab CM Bhagwant Mann: ভোটমুখী পাঞ্জাবে খোদ মুখ্যমন্ত্রীর দফতরকে (CMO) ঘিরে উঠল বড়সড় দুর্নীতির অভিযোগ। এই মামলায় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)-র তরফে পাঞ্জাবের ডিজিপিকে চিঠি দেওয়া হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। এবার মামলার তদন্তভার কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআইয়ের হাতে তুলে দিল পাঞ্জাব ও হরিয়ানা হাইকোর্ট। আদালতের এই নির্দেশের ফলে আপ শাসিত পাঞ্জাবে মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মানের সরকারের উপর রাজনৈতিক চাপ আরও বাড়ল। মুখ্যমন্ত্রীর দফতরকে ঘিরে ওঠা অভিযোগের তদন্ত এবার কী দিকে এগোয়, সেদিকেই নজর রয়েছে রাজনৈতিক মহলের।

জানা যাচ্ছে, রাজ্যে আধিকারিকদের বদলি, পদন্নোতি, ভূমি ব্যবহার পরিবর্তন-সহ একাধিক ক্ষেত্রে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ তুলে পাঞ্জাবের ডিজিপিকে তিনটি চিঠি দিয়েছিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। চিঠিতে মুখ্যমন্ত্রীর কার্যালয়ে বেসরকারি ব্যক্তিদের হস্তক্ষেপ এবং একটি চক্র সক্রিয় থাকার অভিযোগ করা হয়। চিঠিতে বলা হয়, এই বদলি ও পদোন্নতিতে একটি বেসরকারি চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে। ইডির লেখা ওই চিঠিতে পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মানের বিশেষ দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) রাজবীর ঘুমানের নামও উল্লেখ করা হয়েছে। হাউজিং সোসাইটি-সংক্রান্ত অর্থ পাচার এবং সিএলইউ-এর অনুমতিতেও দুর্নীতি হয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় ব্যবহৃত হয়েছে জাল অনুমতিপত্র।
তবে ইডির তরফ থেকে দফায় দফায় চিঠি দেওয়া হলেও পাঞ্জাব পুলিশ কোনও পদক্ষেপ করেনি বলে অভিযোগ। এরপরেই এরপরই মামলা গড়ায় উচ্চ আদালতে। ইডির চিঠিকে হাতিয়ার করে পাঞ্জাব ও হরিয়ানা হাইকোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেন নিখিল সরাফ নামে এক আইনজীবী। সোমবার এই মামলার শুনানিতে আদালত গোটা মামলার তদন্তভার সিবিআইয়ের হাতে তুলে দেয়। পাঞ্জাব ও হরিয়ানা হাইকোর্টের নির্দেশ কেন্দ্রীয় সংস্থাই এই দুর্নীতির অভিযোগের তদন্ত করবে। আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতেই পাঞ্জাবে বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে খোদ মুখ্যমন্ত্রীর দফতরের দুর্নীতির এই অভিযোগকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতি সরগরম হয়ে উঠেছে। তবে যাবতীয় অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মান। আগস্ট মাসেই মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, যে অভিযোগ করা হচ্ছে তার কোনও সত্যতা নেই। বিজেপির সরকার ইডি, সিবিআইয়ের মতো কেন্দ্রীয় সংস্থাকে ব্যবহার করে বিরোধীদের নিশানা করছে। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও বিরোধী শাসিত রাজ্যগুলির দুর্নাম করার ষড়যন্ত্র চলছে।