100% Ethanol Car Announcement by Gadkari: জ্বালানি ব্যবহারে বড় পরিবর্তনের পথে এগোচ্ছে ভারত। আগামী এক থেকে দুই মাসের মধ্যেই দেশের বাজারে এমন একাধিক গাড়ি আসতে পারে, যেগুলি পেট্রলের পাশাপাশি ১০০ শতাংশ ইথানলেও চলবে। বুধবার এই দাবি করলেন কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক মন্ত্রী নিতিন গড়করি। HT Auto Leaderboard Awards and Summit 2026 অনুষ্ঠানে দেশের গাড়ি শিল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে বলতে গিয়ে এই সম্ভাবনার কথা জানান তিনি।

গড়করী জানিয়েছেন, মহিন্দ্রা, টয়োটা, সুজুকি এবং হুন্ডাইয়ের মতো সংস্থাগুলি আগামী এক থেকে দুই মাসের মধ্যে ফ্লেক্স ফুয়েল ইঞ্জিনের গাড়ি নিয়ে আসতে পারে। এই ধরনের গাড়িতে পেট্রল অথবা সম্পূর্ণ ইথানল ব্যবহার করা সম্ভব হবে বলে জানান তিনি। ইতিমধ্যেই দেশের গাড়ি শিল্পে এই প্রযুক্তি নিয়ে কাজ শুরু হয়েছে। মারুতি সুজুকি গত জুন মাসে ওয়াগন আরের একটি ফ্লেক্স ফুয়েল সংস্করণ বাজারে এনেছে বলেও উল্লেখ করেছেন মন্ত্রী।
কেন ইথানল নির্ভরতার দিকে জোর দেওয়া হচ্ছে, তার ব্যাখ্যাও দিয়েছেন গড়করী। তাঁর বক্তব্য, বিদেশ থেকে জীবাশ্ম জ্বালানি আমদানির খরচ কমানো এবং দেশের কৃষি উৎপাদনকে জ্বালানি ও শক্তির ক্ষেত্রে কাজে লাগানোই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। তাঁর দাবি, ভারত বর্তমানে জীবাশ্ম জ্বালানি আমদানির পিছনে প্রায় ২২ লক্ষ কোটি টাকা খরচ করে। আমদানির উপর নির্ভরতা কমাতে বিকল্প জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো প্রয়োজন বলেই মনে করছে সরকার।
ইথানল উৎপাদনের সঙ্গে কৃষকদের আয় বৃদ্ধির বিষয়টিও অনুষ্ঠানে তুলে ধরেছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। তাঁর দাবি, ভুট্টা থেকে ইথানল তৈরির অনুমতি দেওয়ার পরে বাজারে ভুট্টার দাম উল্লেখযোগ্য ভাবে বেড়েছে। গড়করীর দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, ভুট্টার দাম কুইন্টাল প্রতি ১৩০০ টাকা থেকে বেড়ে ২৬০০ টাকার কাছাকাছি হয়েছে। এর ফলে উত্তরপ্রদেশ এবং বিহারের কৃষকেরা প্রায় ৪৫ হাজার কোটি টাকার আর্থিক সুবিধা পেয়েছেন বলে দাবি তাঁর।
{{/usCountry}}ইথানল উৎপাদনের সঙ্গে কৃষকদের আয় বৃদ্ধির বিষয়টিও অনুষ্ঠানে তুলে ধরেছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। তাঁর দাবি, ভুট্টা থেকে ইথানল তৈরির অনুমতি দেওয়ার পরে বাজারে ভুট্টার দাম উল্লেখযোগ্য ভাবে বেড়েছে। গড়করীর দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, ভুট্টার দাম কুইন্টাল প্রতি ১৩০০ টাকা থেকে বেড়ে ২৬০০ টাকার কাছাকাছি হয়েছে। এর ফলে উত্তরপ্রদেশ এবং বিহারের কৃষকেরা প্রায় ৪৫ হাজার কোটি টাকার আর্থিক সুবিধা পেয়েছেন বলে দাবি তাঁর।
{{/usCountry}}এ দিন পেট্রলের সঙ্গে ২০ শতাংশ ইথানল মেশানো E20 জ্বালানি নিয়েও নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন গড়করী। এই জ্বালানি নিয়ে বিতর্কের বিষয়টি সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়িয়েছে। তার মধ্যেই মন্ত্রী দাবি করেন, ২০২২ সাল থেকে প্রায় চার কোটি চার চাকার গাড়ি এবং ২০ কোটি দুই চাকার গাড়ি E20 ব্যবহার করছে। তাঁর বক্তব্য, এই সময়ের মধ্যে এ নিয়ে একটি অভিযোগও সরকারের কাছে আসেনি।
শুধু ইথানল নয়, দেশের গাড়ি শিল্পে বৈদ্যুতিক গাড়ির প্রসার নিয়েও আশাবাদ প্রকাশ করেছেন গড়করী। তাঁর দাবি, ২০৩০ সালের মধ্যে ভারতের বৈদ্যুতিক গাড়ির বাজার প্রায় ২০ লক্ষ কোটি টাকায় পৌঁছতে পারে। একই সঙ্গে বছরে এক কোটি গাড়ি বিক্রি এবং প্রায় পাঁচ কোটি কর্মসংস্থানের সম্ভাবনার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
গড়করী আরও জানিয়েছেন, ভারতীয় গাড়ি শিল্পকে আরও বড় করার পাশাপাশি আমদানির বোঝা কমানো এবং দূষণ নিয়ন্ত্রণই সরকারের মূল লক্ষ্য। সেই কারণেই ইথানল, বৈদ্যুতিক গাড়ি এবং অন্যান্য বিকল্প জ্বালানিকে একসঙ্গে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। আগামী কয়েক মাসে একাধিক ফ্লেক্স ফুয়েল গাড়ি বাজারে এলে ভারতের গাড়ি শিল্পে জ্বালানি ব্যবহারের ছবিতেও বড় পরিবর্তন আসতে পারে।