বিগত কয়েক মাসে দক্ষিণ এশিয়ার কূটনীতিতে অনেক কিছু বদলেছে। এককালে সুখে পাশাপাশি থাকা পাকিস্তান, আফগানিস্তান বর্তমানে যুদ্ধে লিপ্ত। অন্যদিকে, হাসিনা সরকারের পতনের পর বাংলাদেশে ইউনুস সরকারের সঙ্গে ভারত, সম্পর্কে এক বিশেষ পর্ব পার করে এবার তারেক জমানার ঢাকার সঙ্গে সম্পর্কের নয়া অধ্যায়ে রয়েছে। একদিকে, যখন ইরান বনাম আমেরিকা, ইজরায়েল তুমুল যুদ্ধ, তখন পাকিস্তান তার মধ্যস্থতা নিয়ে লাফালাফিতে ব্যস্ত! ইসলামাবাদে বসছে বহু দেশের প্রতিনিধিদের নিয়ে হাইভোল্টেজ বৈঠক। এমন এক সময়ে খবরে এসেছে বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রীর দিল্লি সফর।

বাংলাদেশে বিএনপির তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার ঢাকায় ক্ষমতায় আসার পর এই প্রথম সেদেশের বিদেশমন্ত্রী আসছেন দিল্লি। এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহেই দিল্লি আসছেন বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রী খলিলুর রহমান। প্রসঙ্গত, খলিলুর রহমান ইউনুস জমানাতেও বাংলাদেশের উপদেষ্টার ভার সামলেছেন। তবে এবার তিনি তারেক সরকারের প্রতিনিধি হয়ে ভারতে আসছেন।
কিছুদিন আগেই বাংলাদেশ জানিয়েছিল, শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে প্রত্যর্পণের বিষয়টি নিয়ে দিল্লিকে তারেক সরকার চিঠি না দিলেও, হাসিনাকে ঢাকা ফেরানোর প্রক্রিয়া জারি রয়েছে। অন্যদিকে, হাদি হত্যার অভিযুক্তদের কয়েকজনকে পাকড়াও করে এদেশের আদালতে তোলা হয়েছে। এমন এক পরিস্থিতিতে খলিলুরের দিল্লি সফর বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। অন্যদিকে, ইরান যুদ্ধের মাঝে, জ্বালানি ঘিরে কঠিন পরিস্থিতিতে ভারত ও বাংলাদেশ সম্পর্কের ক্ষেত্রেও খলিলুরের দিল্লি সফর বেশ তাৎপর্যপূর্ণ।
জানা গিয়েছে, আগামী ৭ এপ্রিল ভারতে ২ দিনের সফরে আসছেন খলিলুর রহমান। দিল্লিতে বিদেশমন্ত্রীর এস জয়শঙ্করের সঙ্গে খলিলুর রহমানের বৈঠক রয়েছে প্রথম দিনেই। এছাড়াও খলিলুর সাক্ষাৎ করতে পারেন অজিত ডোভালের সঙ্গে। পাশাপাশি ভারত সরকারের আরও কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিনিধির সঙ্গে খলিলুর রহমানের সাক্ষাতের বিষয়ে দুই পক্ষের মধ্যে যোগাযোগ চলছে। বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমের খবর অনুসারে, বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল এবং পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাসবিষয়ক মন্ত্রী হারদীপ সিং পুরির সঙ্গে খলিলুরের আলোচনার বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে কাজ চলছে। ইরান যুদ্ধের মাঝে জ্বালানি সংকটের মধ্যে পীযূষ গোয়েল ও হরদীপ সিং পুরীর সঙ্গে খলিলুরের সাক্ষাতের আলোচনার বিষয়টিও বেশ তাৎপর্যবহ বলে মনে করা হচ্ছে।