কয়েকদিন আগেই নেপালে ভয়াবহ হড়পা বানের বিপর্যয়ের রেশ এখনও কাটেনি। সেদেশে ৬০০র বেশি জনের মৃত্যুর দুঃসংবাদ উঠে আসছে। স্বজনদের ঘরে ফেরার আশা নিয়ে বিশ্বের নানান প্রান্তের মানুষ রয়েছেন উৎকণ্ঠায়। নেপালের এমন বিপর্যয়ের পরিস্থিতির মাঝে সেখান থেকে ভারতের নদীপথে একের পর এক মৃতদেহ ভেসে আসছে। উত্তর প্রদেশের মহারাজগঞ্জ ও কুশীনগরে এপর্যন্ত ১০ টি মৃতদেহ ভেসে এসেছে বলে খবর। এই ভয়াবহ দৃশ্য ঘিরে এলাকায় রয়েছে আতঙ্ক। এরই মাঝে উত্তর প্রদেশের মন্দাকিনী নদী উঠেছে ফুঁসে। যার জেরে রামঘাট এলাকায় জল ঢুকতে শুরু করে দিয়েছে। জানা যাচ্ছে ভেসে গিয়েছে একটি ব্রিজও।

উত্তর প্রদেশের চিত্রকূটে বিপদসীমার ওপর দিয়ে বইছে মন্দাকিনী। গত ২৩ বছরে সেখানে রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছে বিপদসীমা পার করে ফেলেছে এই নদী। জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পুলকিত গর্গ জানিয়েছেন যে, নদীর জলস্তর ১৩৪.০২ সেন্টিমিটারে পৌঁছেছে; এটি ২০০৩ সালে স্থাপিত ১৩৪ সেন্টিমিটারের পূর্ববর্তী রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে এবং ১২৬ সেন্টিমিটারের বিপদসীমার অনেক উপরে উঠে গেছে। এদিকে, বন্যার জল ঢুকতে শুরু করেছে রামঘাট এলাকায়। এলাকা প্লাবিত হয়েছে। দোকানপাট, মন্দির ও মঠে জল প্রবেশ করতে শুরু করেছে। বেশ কিছু রাস্তা জলপথে পরিণত হয়েছে এবং আটকা পড়া বাসিন্দাদের সরিয়ে নিতে নৌকা ব্যবহার করা হচ্ছে। উন্হা, গোবারিয়া ও বাহাদুরসহ বিভিন্ন গ্রামেও বন্যা দেখা দিয়েছে। রামঘাট-হনুমানধারা রুটের একটি ব্রিজ প্রবল স্রোতে ভেসে গেছে বলে জানা গেছে। এছাড়া কারভিতে মন্দাকিনী সেতুর ওপর দিয়ে জল প্রবাহিত হওয়ায় ঝাঁসি-মির্জাপুর হাইওয়ে ৩৫-এ যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে, যার ফলে সেখানে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমের জন্য প্রশাসন এনডিআরএফ (NDRF)-এর চারটি, এসডিআরএফ (SDRF)-এর চারটি এবং পিএসি (PAC)-এর দুটি দল মোতায়েন করেছে এবং অতিরিক্ত কর্মীও জড়ো করা হচ্ছে। ঘরছাড়া বাসিন্দাদের জন্য খাদ্য ও বাসস্থানের ব্যবস্থা করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ বন্যা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেছেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ যাতে কোনো দুর্ভোগের শিকার না হন, তা নিশ্চিত করার জন্য কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন। রাজ্য সরকারের তথ্য অনুযায়ী, বৃষ্টিপাতের ফলে ২৬টি জেলা, ১ লাখ ৭১ হাজারের বেশি মানুষ এবং ২৫১টি গ্রাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ১ হাজারেরও বেশি মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং ৪৪৭টি বন্যা-ত্রাণ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে।
উত্তর প্রদেশের জলসম্পদ মন্ত্রী স্বতন্ত্র দেব সিং বলেছেন, নেপালের বন্যা পরিস্থিতির কারণে উত্তর প্রদেশের কোনো ঝুঁকি নেই, তবে কর্তৃপক্ষ সতর্ক রয়েছে।
{{/usCountry}}উত্তর প্রদেশের জলসম্পদ মন্ত্রী স্বতন্ত্র দেব সিং বলেছেন, নেপালের বন্যা পরিস্থিতির কারণে উত্তর প্রদেশের কোনো ঝুঁকি নেই, তবে কর্তৃপক্ষ সতর্ক রয়েছে।
{{/usCountry}}এদিকে, নেপালের বিপর্যয়ে ১০৮ জন ভারতীয়কে উদ্ধার করা হয়েছে, ২৭৫ জন ভারতীয় এখনও নিখোঁজ বলে জানিয়েছে বিদেশমন্ত্রক। এদিকে, এই কঠিন সময়ে নেপালের পাশে থাকার জন্য ভারতের ভূয়সী প্রশংসা করেছে নেপাল। কাঠমান্ডুর তরফে সেদেশের রাষ্ট্রপতি পাউদেল ভারতের রাষ্ট্রপতির উদ্দেশে একটি বার্তা দেন সোশ্যাল মিডিয়ায়। সেখানে ভারতের প্রধানমন্ত্রীরও প্রশংসা উঠে এসেছে। ইতিমধ্যেই ভারত থেকে তিন দফা ত্রাণ পৌঁছে গিয়েছে নেপালে।