রাশিয়ার সঙ্গে ইউক্রেনের যুদ্ধ আজ একাধিক বছর পার করেছে। সদ্য রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুনিতের সঙ্গে দেখা করে শান্তির বার্তা দেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এরপর রাশিয়ার সফর শেষে ইউক্রেনে পৌঁছন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শংকর। তিনিও ইউক্রেনকে জানান, দুই দেশের যুদ্ধের মাঝে, স্থায়ী শান্তি ফেরাতে যেকোনো উপায়ে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত ভারত। এরপরই আমেরিকার প্রতিনিধিরা রাশিয়া পৌঁছয়, দুই দেশের সংঘাতে শান্তি আলোচনার লক্ষ্যে। তবে রাশিয়ার ওপর মার্কিনি নানান নিষেধাজ্ঞা এখনও চর্চায় রয়েছে। রাশিয়ার থেকে ভারতের তেল কেনার বিষয়টিও মার্কিন বার্তায় আগেও উঠে এসেছে। এরই মাঝে রাশিয়ার থেকে ভারতের তেল কেনার ঘটনা নিয়ে মুখ খোলেন ভারতে অবস্থিত রুশ দূত ডেনিস অলিপভ।

রাশিয়ার থেকে ভারতের তেল কেনা প্রসঙ্গে রুশ দূত ডেনিস অলিপভ কার্যত নাম না করে আমেরিকাকে খোঁচা দিয়ে বলেন, ‘ভারত রাশিয়াকে সহায়তা করার উদ্দেশ্যে রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনে না। তারা নিজেদের এবং নিজেদের জাতীয় উন্নয়নের জন্যই তেল কিনছে।’ রাশিয়ার প্রধান জ্বালানি সরবরাহকারীদের সাথে লেনদেন অব্যাহত রাখা বিভিন্ন দেশ ও কোম্পানির বিরুদ্ধে পশ্চিমী নিয়ন্ত্রণকারীদের কঠোর নজরদারি এবং ‘সেকেন্ডারি স্যাংশন’ বা পরোক্ষ নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকি বেড়ে চলার প্রেক্ষাপটে তিনি এই মন্তব্য করেন। এদিকে, এএনআই-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রাশিয়ার দূত উল্লেখ করেছেন যে, ভারতের জ্বালানি চাহিদা পূরণে মস্কো প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং নয়াদিল্লির প্রয়োজন অনুযায়ী যেকোনো পরিমাণ তেল সরবরাহ করতে তারা প্রস্তুত।
তিনি রাশিয়ার তেল বাণিজ্যকে লক্ষ্য করে পশ্চিমী জোটের আরোপিত গৌণ নিষেধাজ্ঞা ও শুল্ককে শাস্তিমূলক ‘চাপ প্রয়োগের কৌশল’ হিসেবে অভিহিত করেন এবং উল্লেখ করেন যে, এটি গঠনমূলক বৈশ্বিক সম্পৃক্ততার পরিপন্থী। অলিপভ বলেন, ‘ভারতের যতটুকু তেল প্রয়োজন, আমরা তার পুরোটাই সরবরাহ করতে প্রস্তুত। দুর্ভাগ্যবশত, যারা নিষেধাজ্ঞা ও শুল্ক আরোপ করে, তারা আন্তরিক সহযোগিতার পরিবর্তে চাপ সৃষ্টির পথ বেছে নিয়েছে; আর এ কারণেই তারা তেলের ক্ষেত্রে ভারতের জন্য আমাদের চেয়ে ভালো কোনো প্রস্তাব দিতে পারছে না।’ অলিপভ বলেন, ‘প্রশ্ন হলো,ভারত কতটা আত্মবিশ্বাসী? ভারত প্রমাণ করেছে যে তারা নিজেদের অবস্থানে অটল থাকতে এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করতে সক্ষম। আর যখন আমরা তেল বাণিজ্যের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞার কথা বলি, তখন শুল্কের বিষয়টিও তেল সরবরাহ ক্ষেত্রে রাশিয়া ও ভারতের মধ্যের সহযোগিতার সাথে জড়িত। ভারতের কাছে এই স্বার্থগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’