মঙ্গলবার সকালে ঘূর্ণিঝড় মন্থা আরও শক্তিশালী হয়ে ‘প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে’ পরিণত হয়েছে। আর এর কারণে ওড়িশা এবং বিশাখাপত্তনমের মধ্য দিয়ে যাওয়া ৩২টি দূরপাল্লার ট্রেন বাতিল করা হয়েছে। এই নিয়ে ভুবনেশ্বরের ইস্ট কোস্ট রেলওয়ের প্রধান জনসংযোগ কর্মকর্তা (সিপিআরও) দীপক রাউত এএনআইকে বলেন, 'যাত্রীরা যাতে খুব বেশি ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সেজন্য আমরা বিশাখাপত্তনমের মধ্য দিয়ে যাওয়া ৩২টি ট্রেন বাতিল করেছি। আজ বিকেল ৪টা পর্যন্ত ট্রেন চালানোর জন্য আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করছি; এদিকে লোকাল মেমু এবং অন্যান্য ট্রেন বাতিল করা হয়েছে। বাতিল ট্রেনের তালিকা সোশ্যাল মিডিয়া এবং আমাদের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে আপলোড করা হয়েছে... ডাইভারশনের বিষয়ে, টাটানগর-এর্নাকুলাম এক্সপ্রেসের পথ পরিবর্তন করা হয়েছে এবং দুটি ট্রেনকে সংক্ষিপ্তভাবে থামানো হয়েছে- ভুবনেশ্বর-জগদলপুর এক্সপ্রেস এবং রাউরকেলা-জগদলপুর এক্সপ্রেস।'

এছাড়া ইস্ট কোস্ট রেলের তরফে জানানো হয়েছে, ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত বিশাখাপত্তনম- তিরুপতি, বিশাখাপত্তনম-চেন্নাই, বিশাখাপত্তনম- কিরণদুল, বিশাখাপত্তনম-কোরাপুট রুটে ট্রেন পরিষেবা বন্ধ থাকবে। সব মিলিয়ে ৬৫টিরও বেশি লোকাল এবং এক্সপ্রেস ট্রেন বাতিল করেছে রেল। এদিকে ঘূর্ণিঝড় মন্থার কারণে মঙ্গলবার অন্ধ্রপ্রদেশের গন্নাভরম বিমানবন্দরে ৩০টিরও বেশি ফ্লাইট বাতিল করার ঘোষণা করা হয়েছে। বিশাখপত্তনম বিমানবন্দর থেকেও মঙ্গলবারের জন্য সমস্ত ফ্লাইট পরিচালনা স্থগিত করা হয়েছে।
রিপোর্ট অনুযায়ী, ল্যান্ডফলের সময় এই ঘূর্ণিঝড়টির গতিবেগ থাকবে সর্বোচ্চ ১১০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা। এই ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে দক্ষিণবঙ্গে আচমকা পালটে যাবে আবহাওয়া। দক্ষিণবঙ্গের একধিক জেলায় আগামী কয়েকদিন ভারী বৃষ্টি হতে পারে। বর্তমানে এই ঘূর্ণিঝড়টি পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগরের উপরে আছে। দক্ষিণ-পশ্চিম এবং সংলগ্ন দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরের উপর দিয়ে ঘূর্ণিঝড় মন্থা গত ৬ ঘণ্টা ধরে ১৫ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা বেগে উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়েছে।
আজ, ২৮ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে ভোর সাড়ে ৫টা নাগাদ এই ঘূর্ণিঝড়টি মছিলিপট্টনম (অন্ধ্রপ্রদেশ) থেকে ১৯০ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপূর্বে, কাকিনাড়া (অন্ধ্রপ্রদেশ) থেকে ২৭০ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণ-পূর্বে, বিশাখাপত্তনম (অন্ধ্রপ্রদেশ) থেকে ৩৪০ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণ-পূর্বে, গোপালপুর (ওড়িশা) থেকে ৫৫০ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে ছিল। এই ঘূর্ণিঝড়টি উত্তর-উত্তরপশ্চিম দিকে এগিয়ে গিয়ে আজ সন্ধ্যা বা রাত নাগাদ মছিলিপট্টনম এবং কলিঙ্গপট্টনমের মাঝামাঝি এলাকা দিয়ে ভূভাগে প্রবেশ করবে।