...
...
Next Story

Anti India Comment: ভারতীয়দের বিরুদ্ধে অনলাইন বিদ্বেষে কড়া সিঙ্গাপুর, লরেন্স ওয়ংয়ের সাফ বার্তা—‘বর্ণবিদ্বেষ বরদাস্ত নয়’

সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী লরেন্স ওয়ং স্পষ্ট জানিয়েছেন, দেশের কোনও সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ বা পক্ষপাতকে স্বাভাবিক ঘটনায় পরিণত হতে দেওয়া হবে না। একইসঙ্গে অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া ঘৃণামূলক মন্তব্যের বিরুদ্ধে সমাজের প্রত্যেককে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

Published on: Sep 6, 2026, 22:41:51 IST
Advertisement

নেপাল-তিব্বত অঞ্চলের ভয়াবহ বন্যা এবং সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের (SIA) এয়ার ইন্ডিয়ায় বিনিয়োগকে কেন্দ্র করে অনলাইনে ভারতীয়দের বিরুদ্ধে বর্ণবিদ্বেষী মন্তব্যের ঘটনায় কড়া অবস্থান নিল সিঙ্গাপুর সরকার। প্রধানমন্ত্রী লরেন্স ওয়ং স্পষ্ট জানিয়েছেন, দেশের কোনও সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ বা পক্ষপাতকে স্বাভাবিক ঘটনায় পরিণত হতে দেওয়া হবে না। একইসঙ্গে অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া ঘৃণামূলক মন্তব্যের বিরুদ্ধে সমাজের প্রত্যেককে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী লরেন্স ওয়ং স্পষ্ট জানিয়েছেন, দেশের কোনও সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ বা পক্ষপাতকে স্বাভাবিক ঘটনায় পরিণত হতে দেওয়া হবে না। (REUTERS)
প্রধানমন্ত্রী লরেন্স ওয়ং স্পষ্ট জানিয়েছেন, দেশের কোনও সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ বা পক্ষপাতকে স্বাভাবিক ঘটনায় পরিণত হতে দেওয়া হবে না। (REUTERS)

রবিবার এক বিবৃতিতে লরেন্স ওয়ং বলেন, বিভিন্ন বিষয়ে জোরালো বিতর্ক হতেই পারে। কিন্তু কোনও যুক্তিসঙ্গত আলোচনা বা মতামতের আড়ালে কোনও সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে পক্ষপাত, বিদেশিদের প্রতি বিদ্বেষ কিংবা জাতিগত ঘৃণা ছড়ানো মেনে নেওয়া যায় না। তাঁর বক্তব্য, সিঙ্গাপুরের সামাজিক সংহতির অন্যতম ভিত্তিই হল বিভিন্ন জাতি ও সম্প্রদায়ের মানুষের পারস্পরিক সম্মান।

এই বিতর্কের সূত্রপাত মূলত দুটি পৃথক বিষয়কে কেন্দ্র করে। প্রথমত, নেপাল-তিব্বত অঞ্চলে ভয়াবহ বন্যায় বহু মানুষের মৃত্যু ও নিখোঁজ হওয়ার পর অনলাইনে কিছু ব্যক্তি নিখোঁজ সিঙ্গাপুরীয়দের নিয়েও অত্যন্ত আপত্তিকর মন্তব্য করেন। তাঁদের মধ্যে এমন মন্তব্যও ছিল, যেখানে জাতিগত পরিচয়কে সামনে এনে উদ্ধারকাজ নিয়ে বিদ্বেষ প্রকাশ করা হয়। সিঙ্গাপুরের নয় জন নাগরিক এখনও নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।

দ্বিতীয়ত, এয়ার ইন্ডিয়ায় সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনা শুরু হওয়ার পর সোশ্যাল মিডিয়ায় ভারতীয়দের লক্ষ্য করে কুরুচিকর ও বর্ণবিদ্বেষী মন্তব্য ছড়িয়ে পড়ে। এই মন্তব্যে ভারতীয়দের নিয়ে নানা ধরনের জাতিগত স্টেরিওটাইপ ব্যবহার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সিঙ্গাপুরের সিনিয়র মন্ত্রী কে শানমুগম। এমনকি এয়ার ইন্ডিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সংস্থার ভারতীয় বংশোদ্ভূত কর্তাদেরও তাঁদের জাতিগত পরিচয়ের কারণে নিশানা করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী ওয়ংও জানিয়েছেন, প্রতিটি ঘৃণামূলক মন্তব্যকে প্রশাসনের পক্ষে ঠেকানো সম্ভব নয়। কিন্তু সমাজ কীভাবে সেই মন্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানাবে, সেটি গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর বক্তব্য, সাধারণ মানুষকে এমন বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করতে হবে এবং সেগুলিকে আরও প্রচার বা বৈধতা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া যাবে না। তাঁর মতে, জাতি ও ধর্মের বিভাজনকে রাজনৈতিক বা সামাজিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করার চেষ্টা সিঙ্গাপুরের জন্য বিপজ্জনক।

এই অবস্থানকে সমর্থন করেছেন সিঙ্গাপুরের সিনিয়র মন্ত্রী তথা প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী লি সিয়েন লুংও। তিনি বলেছেন, জাতি, ভাষা বা ধর্ম নির্বিশেষে সব সিঙ্গাপুরীয়ের একে অপরের পাশে দাঁড়ানো উচিত। তাঁর মতে, নেপালের বন্যা এবং এয়ার ইন্ডিয়া সংক্রান্ত বিতর্ককে ব্যবহার করে ভারতীয় সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ছড়ানো অত্যন্ত উদ্বেগজনক। সংকটের সময়ে প্রয়োজন সহমর্মিতা ও সংহতি, জাতিগত ঘৃণা নয়।

এয়ার ইন্ডিয়ায় বিনিয়োগ নিয়ে অবশ্য অর্থনৈতিক প্রশ্ন তোলা যাবে কি না, তা নিয়েও পৃথক রাজনৈতিক বিতর্ক চলছে। বিরোধী দলের সাংসদ কেনেথ টিয়ং জানিয়েছেন, তাঁর প্রশ্নগুলি সম্পূর্ণ বাণিজ্যিক বিষয়কে ঘিরে, জাতিগত বিদ্বেষের সঙ্গে তার কোনও সম্পর্ক নেই। SIA-র বিনিয়োগ নিয়ে যুক্তিসঙ্গত সমালোচনা এবং কোনও জাতিগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে আক্রমণ—দুই বিষয়কে আলাদা করে দেখার প্রয়োজন রয়েছে।

সব মিলিয়ে লরেন্স ওয়ংয়ের বার্তা স্পষ্ট—সিঙ্গাপুরে মতপার্থক্য থাকতে পারে, ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্কও হতে পারে, কিন্তু সেই বিতর্কের আড়ালে কোনও জাতি বা সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়ানো চলবে না। নেপালের বিপর্যয় এবং এয়ার ইন্ডিয়ায় SIA-র বিনিয়োগকে ঘিরে সাম্প্রতিক অনলাইন বিতর্ক ফের দেখিয়ে দিল, বহুজাতিক ও বহু-জাতিগোষ্ঠীর সমাজে সামাজিক সম্প্রীতি রক্ষা কতটা গুরুত্বপূর্ণ।

 
ABOUT THE AUTHOR
Abhijit Chowdhury

২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।

SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe