EPFO Rule Change: চাকরিজীবীদের জন্য বড় সিদ্ধান্ত কেন্দ্রের। ইপিএফও-র বাধ্যতামূলক কভারেজের ক্ষেত্রে বেতনসীমা বাড়ানোর প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা। এতদিন মাসে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত বেতনের ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক ইপিএফও কভারেজের নিয়ম কার্যকর ছিল। এবার সেই সীমা বাড়িয়ে ২৫ হাজার টাকা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হয়েছে এই নিয়ম। কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তে অতিরিক্ত ৫১ লক্ষেরও বেশি কর্মী ইপিএফও-র আওতায় আসতে পারেন।
কী পরিবর্তন হয়েছে?

২০০৪ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত ইপিএফওর ক্ষেত্রে ওয়েজ লিমিট বা বেতনের সীমা অপরিবর্তিত ছিল। ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে সেই সীমা বাড়িয়ে ১৫০০০ করা হয়। একইভাবে এবার আরও ১০,০০০ টাকা বাড়ানো হল। এই কয়েক বছরে বিভিন্ন সেক্টরে কর্মীদের যে বেতন বেড়েছে, আয় বেড়েছে, তার উপর ভিত্তি করেই এই অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। এর ফলে বেসরকারি খাতের যে সব কর্মচারী ২৫,০০০ টাকা (বেসিক + ডিএ) বেতন পান, তাঁদের ইপিএফ-এর মাধ্যমে অবসরকালীন সঞ্চয়, বা ইপিএস-র অধীনে পেনশন এবং ইডিএলআই-এর আওতায় বিমা সুরক্ষার সুবিধা পেতে পারবেন, সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের নিয়ম অনুযায়ী।
আমি যদি মাসে ২০,০০০ টাকা উপার্জন করি তাহলে কী হবে?
এই পরিবর্তনের ফলে সবচেয়ে বেশি লাভবান হতে পারে এই গোষ্ঠীই। পুরনো ঊর্ধ্বসীমা অনুযায়ী, যে কর্মী মাসে ২০,০০০ টাকা বেতনে (basic wage) কোনও সংস্থায় যোগ দিতেন, তিনি বিধিবদ্ধ সীমার বাইরে থাকায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে ইপিএফও-র আওতাভুক্ত হতেন না। যেহেতু ২০,০০০ টাকা এখন নতুন সীমার নীচে, তাই প্রযোজ্য নিয়ম সাপেক্ষে সেই কর্মী এখন বাধ্যতামূলক কভারেজের আওতায় চলে আসবেন। সেই অনুযায়ী, ওই কর্মী অবসরের জন্য জমা রাখা প্রভিডেন্ট ফান্ড সঞ্চয়, ইপিএস (EPS)-এর অধীনে পেনশনের যোগ্যতা এবং এমপ্লয়িজ ডিপোজিট লিঙ্কড ইন্স্যুরেন্স (EDLI) স্কিমের আওতায় বিমা সুরক্ষার সুবিধা পাবেন।
আমি যদি ১০,০০০ টাকা উপার্জন করি তাহলে কী হবে?
এই ঘোষণার ফলে এই গোষ্ঠীর ক্ষেত্রে কোনও বদল আসছে না। ইপিএফও-র আওতাভুক্ত সংস্থায় কর্মরত যে কর্মীরা ১৫,০০০ টাকার নীচে উপার্জন করতেন, তাঁরা প্রযোজ্য নিয়ম অনুসারে ইতিমধ্যেই এই কভারেজের আওতায় ছিলেন। এই সিদ্ধান্তের ফলে তাঁরা কোনও নতুন কভারেজ পাচ্ছেন না, কারণ এটি শুধুমাত্র সর্বোচ্চ সীমা ১৫,০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৫,০০০ টাকা করেছে।
আমি যদি ২৫,০০০ টাকার বেশি উপার্জন করি তাহলে কী হবে?
{{/usCountry}}এই ঘোষণার ফলে এই গোষ্ঠীর ক্ষেত্রে কোনও বদল আসছে না। ইপিএফও-র আওতাভুক্ত সংস্থায় কর্মরত যে কর্মীরা ১৫,০০০ টাকার নীচে উপার্জন করতেন, তাঁরা প্রযোজ্য নিয়ম অনুসারে ইতিমধ্যেই এই কভারেজের আওতায় ছিলেন। এই সিদ্ধান্তের ফলে তাঁরা কোনও নতুন কভারেজ পাচ্ছেন না, কারণ এটি শুধুমাত্র সর্বোচ্চ সীমা ১৫,০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৫,০০০ টাকা করেছে।
আমি যদি ২৫,০০০ টাকার বেশি উপার্জন করি তাহলে কী হবে?
{{/usCountry}}এই বেতন কাঠামোর মধ্যে থাকা বর্তমান পিএফ সদস্যদের ক্ষেত্রে প্রতি মাসে আরও বেশি টাকা কাটা হতে পারে। যেখানে অবদান বিধিবদ্ধ ঊর্ধ্বসীমায় সীমাবদ্ধ ছিল, সেখানে সর্বোচ্চ কর্মী অবদান ছিল ১৫,০০০ টাকার ১২ শতাংশ, অর্থাৎ মাসে ১,৮০০ টাকা। নতুন ঊর্ধ্বসীমায় এটি দাঁড়িয়েছে ২৫,০০০ টাকার ১২ শতাংশ, অর্থাৎ মাসে ৩,০০০ টাকা; ফলে কর্মীর বেতন থেকে কর্তনের পরিমাণ প্রতি মাসে সর্বোচ্চ ১,২০০ টাকা পর্যন্ত বাড়তে পারে। এই কর্মীদের জন্য এর অর্থ হবে প্রতি মাসে হাতে পাওয়া বেতন (টেক-হোম পে) কিছুটা কমে যাওয়া এবং তাঁদের পিএফ সঞ্চয়ে আরও বেশি টাকা জমা হওয়া।
সরকার এখন কেন এই পদক্ষেপ নিল?
১৫,০০০ টাকার এই সীমা ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে কার্যকর করা হয়েছিল এবং টানা ১২ বছর ধরে এতে কোনও পরিবর্তন করা হয়নি; অথচ এই সময়ে বেতন এবং ন্যূনতম মজুরি উভয়ই উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নিয়মিত বেতনভুক্ত একজন কর্মীর গড় মাসিক আয় এখন প্রায় ২৩,০০০ টাকা এবং বেশ কয়েকটি রাজ্যে ন্যূনতম মজুরি ইতিমধ্যেই ১৫,০০০ টাকা ছাড়িয়ে গেছে। সরকারের বক্তব্য হল, পুরনো ঊর্ধ্বসীমাটি নিয়মিত কর্মীদের বর্তমান আয়ের বাস্তব চিত্রের সঙ্গে আর সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না এবং সেই কারণেই এই সীমা বাড়িয়ে ২৫,০০০ টাকা করা হয়েছে।
কত মানুষ প্রভাবিত হবেন?
সরকারের অনুমান, কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তে অতিরিক্ত ৫১ লক্ষেরও বেশি কর্মী ইপিএফও-র আওতায় আসতে পারেন। ইপিএফও-তে একজন কর্মী যতটা অবদান রাখে, কোম্পানিও ততটাই অবদান প্রতি মাসে জমা করে। ইপিএফও (EPFO)-এর নিয়মের এই পরিবর্তন সরকারি কোষাগারের উপর একটি উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলবে। সরকারের আনুমানিক ব্যয়ের হিসাব বিবেচনা করলে, মজুরির সীমা বৃদ্ধির ফলে বার্ষিক ব্যয় দাঁড়াবে ১১,৩৩৯ কোটি টাকা, যেখানে বর্তমান বার্ষিক বাজেট সহায়তা প্রায় ১০,২৫০ কোটি টাকা। ফলস্বরূপ, পাঁচ বছরে মোট আনুমানিক ব্যয় দাঁড়াবে প্রায় ৫৬,৬৯৬ কোটি টাকা।