Mukul Choudhary: রুদ্ধশ্বাস। রোমহর্ষক। রাজকীয়। পেন্ডুলামের মতো দুলছিল ম্যাচটা। কখনও এগিয়ে কলকাতা নাইট রাইডার্স। পরক্ষণেই আবার মনে হচ্ছিল, লখনউ সুপার জায়েন্টস। একের পর এক উইকেট পড়ছিল লখনউয়ের। কিন্তু একা কুম্ভ হয়ে লড়াই করে যাচ্ছিলেন মুকুল চৌধুরী। বৃহস্পতিবার ইডেন গার্ডেন্সে মাত্র ২৭ বলে অপরাজিত ৫৪ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলে নাইটদের মুখের গ্রাস কেড়ে নিয়ে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন মাত্র ২২ বছরের মুকুল চৌধুরী। শেষ বলে লখনউ সুপার জায়ান্টসকে জেতান তিনি। তবে মুকুলের এই ইনিংস কিন্তু হঠাৎ আসা ঝড় নয়। এর আগেই সতীর্থ অর্জুন তেন্ডুলকরে তাঁর ছক্কা হাঁকানোর ক্ষমতা নিয়ে কেকেআরকে সতর্ক করে দিয়েছিলেন।

সম্প্রতি সাংবাদিক শুভঙ্কর মিশ্রকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সচিন-পুত্র বলেছিলেন, মুকুলের ৩৬০-ডিগ্রি হিটিং ক্ষমতা দেখে তিনি হতবাক হয়ে গিয়েছিলেন। তাঁর কথায়, 'মুকুল চৌধুরী দুর্দান্ত ছক্কা মারতে পারে। গতকাল একটি প্র্যাকটিস ম্যাচে ওর ছক্কাগুলো দেখেছি। আমি সত্যিই মুগ্ধ হয়েছিলাম। স্কোয়ার লেগ, পয়েন্ট, আপার কাট। সব জায়গাতেই ও শট খেলতে পারে। ওর ব্যাটিং দেখে আমি সত্যিই মুগ্ধ।' বৃহস্পতিবার শেষ ৪ ওভারে লখনউয়ের জেতার জন্য দরকার ছিল ৫৪ রান। সেই সময় প্রায় একাই লড়াই চালান মুকুল। ক্যামেরন গ্রিন, কার্তিক ত্যাগী, বৈভব অরোরার মতো বোলারদের বিরুদ্ধে চার-ছক্কার বন্যা বইয়ে দেন তিনি। মাঠজুড়ে তাঁর '৩৬০ ডিগ্রি' শট খেলার দক্ষতা কার্যত হতবাক করে দেয় কেকেআরের বোলারদের।
ম্যাচ শেষে লখনউ অধিনায়ক ঋষভ পন্থও বলেছেন, 'আমার কাছে বলার মতো কোনও ভাষা নেই। অসাধারণ পারফরম্যান্স। আমি শুধু ওর উপর বিশ্বাস রেখেছিলাম। সেই বিশ্বাসই ওকে অসাধারণ কিছু করতে সাহায্য করেছে। আমরা এ বিষয়ে বেশি কথা বলতে চাই না, কিন্তু ভিতরে ভিতরে অনেক কিছু তৈরি হচ্ছে।' অন্যদিকে, লখনউ কোচ জাস্টিন ল্যাঙ্গার রাজস্থানের ক্রিকেটারের ভূয়সী প্রশংসা করে তাঁর তুলনা টানেন দুই ভারতীয় কিংবদন্তি বিরাট কোহলি ও মহেন্দ্র সিং ধোনির সঙ্গে। তাঁর কথায়, 'ও সত্যিকারের অ্যাথলিট। উইকেটের মধ্যে দৌড়নোটা একেবারে বিরাটের মতো। আর ম্যাচ রিডিং অনেকটা ধোনির মতো। এত কম বয়সে এমন ম্যাচ সেন্স খুব কমই দেখা যায়।' সবচেয়ে বড় কথা, উইকেট কিপার ব্যাটসম্যানের ভূমিকায় খেললেও ফাস্ট বোলার হিসেবে নিজের ক্রিকেট জীবন শুরু করেছিলেন মুকুল। ভারতীয় ক্রিকেটে এতদিন নামটা খুব একটা পরিচিত না হলেও কলকাতার ম্যাচে নিজের আগ্রাসী ব্যাটিং দিয়ে এবার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছেন রাজস্থানের এই খেলোয়াড়। তাঁর ক্রিকেটের যাত্রাপথটা ঠিক কেমন ছিল? প্রশ্ন শেষ হওয়া মাত্র আত্মবিশ্বাসী মুকুল শোনালেন অবিশ্বাস্য কথা। বলে দিলেন, ‘আমার বাবা বিয়ের আগেই ভেবেছিলেন ছেলে হবে। আর সেই ছেলে হবে ক্রিকেটার। আমার জীবনে বাবার অবদান ভোলার নয়। বাবাকেই উৎসর্গ করছি আজকের এই ইনিংস।’ অনেকেই মনে করছেন এভাবে খেলা চালিয়ে যেতে পারলে, আগামী দিনে ভারতীয় দলে জায়গা করে নেওয়ার সুযোগ থাকবে মুকুল চৌধুরীর হাতে।