Arunachal Chinese Incursion Allegations: অরুণাচল প্রদেশের আপার সুবানসিরি জেলায় চিনা সেনার নতুন করে অনুপ্রবেশের অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। যদিও এই অভিযোগের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অরুণাচল প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী পেমা খান্ডু। তাঁর দাবি, প্রকৃত পরিস্থিতি জানতে স্থানীয় সংগঠন এবং ভারতীয় সেনার সঙ্গে কথা বলবেন তিনি। সীমান্তে ভারতীয় সেনা যথেষ্ট দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে বলেও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

সম্প্রতি কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়, আপার সুবানসিরি জেলার দুর্গম তাকসিং সার্কেলের পুকার লা এবং ওলো এলাকার কাছে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা (LAC) পেরিয়ে ভারতীয় ভূখণ্ডে ঢুকেছে চিনের পিপলস লিবারেশন আর্মি (PLA)। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগের ভিত্তিতেই এই খবর সামনে আসে।
এই প্রসঙ্গে পেমা খান্ডু বলেন, তিনি মনে করেন না যে এই মুহূর্তে এমন কোনও অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটছে। ভারতীয় সেনা সীমান্ত পাহারা দিচ্ছে এবং দেশের ভূখণ্ডের নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্যও গুরুত্ব দিয়ে শুনতে চান তিনি। এ জন্য সংশ্লিষ্ট এলাকার নাহ সম্প্রদায়ের মানুষ এবং স্থানীয় সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলার উদ্যোগ নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি ভারতীয় সেনার কাছ থেকেও গোটা পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
এর আগেও চলতি বছরের জুন মাসে আপার সুবানসিরি জেলায় চিনা অনুপ্রবেশ এবং পরিকাঠামো তৈরির অভিযোগ সামনে এসেছিল। তখন ভারতীয় সেনা স্পষ্ট ভাষায় সেই দাবি খারিজ করেছিল। জুনের শেষ সপ্তাহে দেওয়া এক বিবৃতিতে সেনার তরফে জানানো হয়েছিল, অরুণাচল প্রদেশে চিনা PLA-র সাম্প্রতিক অনুপ্রবেশ এবং শিবির তৈরির অভিযোগ সংক্রান্ত সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট ‘ভুল এবং ভিত্তিহীন’।
তবে স্থানীয় Nah Welfare Society (NWS) ভিন্ন দাবি করে আসছে। ২৬ জুন, ২০২৬ তারিখে আপার সুবানসিরির ডেপুটি কমিশনারের কাছে দেওয়া একটি স্মারকলিপিতে সংগঠনটি অভিযোগ করে, তাকসিং সেক্টরের একাধিক এলাকায় গত কয়েক বছরে চিনা বাহিনী পরিকাঠামো তৈরি করেছে। সংগঠনের দাবি, সেখানে রাস্তা, সেতু, সামরিক শিবির এবং অন্যান্য সহায়ক পরিকাঠামো গড়ে উঠেছে।
{{/usCountry}}তবে স্থানীয় Nah Welfare Society (NWS) ভিন্ন দাবি করে আসছে। ২৬ জুন, ২০২৬ তারিখে আপার সুবানসিরির ডেপুটি কমিশনারের কাছে দেওয়া একটি স্মারকলিপিতে সংগঠনটি অভিযোগ করে, তাকসিং সেক্টরের একাধিক এলাকায় গত কয়েক বছরে চিনা বাহিনী পরিকাঠামো তৈরি করেছে। সংগঠনের দাবি, সেখানে রাস্তা, সেতু, সামরিক শিবির এবং অন্যান্য সহায়ক পরিকাঠামো গড়ে উঠেছে।
{{/usCountry}}NWS-এর প্রেসিডেন্ট কেরু চাডেরের স্বাক্ষর করা ওই স্মারকলিপিতে বলা হয়, গত ১০-১৫ বছরে এই কার্যকলাপ ধীরে ধীরে বেড়েছে এবং ২০২০ সালের পর তা আরও তীব্র হয়েছে। স্থানীয় মানুষ যে এলাকাগুলিতে ঐতিহ্যগত ভাবে শিকার, পশুচারণ এবং বনজ সম্পদ সংগ্রহের জন্য যাতায়াত করতেন, সেগুলির কয়েকটি এখন চিনা সেনার নিয়ন্ত্রণে চলে গিয়েছে বলে অভিযোগ সংগঠনের।
NWS পাঁচটি এলাকার নামও উল্লেখ করেছে—ওয়িং (আসাফিলা এলাকা), পানিয়ার (চুজার্তা এলাকা), মারপান (মারনাফে), পোটরাং লেক এবং টিন্ডিংটাং (TG)। সংগঠনের দাবি, এই এলাকাগুলির কয়েকটি তাকসিং সদর দফতরের কাছাকাছি এবং কিছু জায়গা সারি অঞ্চলের মানুষের কাছে সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ।
তবে NWS স্পষ্ট করেছে, ভারতীয় সেনার প্রতি তাদের কোনও অবিশ্বাস নেই। বরং দীর্ঘদিন ধরে সীমান্ত রক্ষার জন্য সেনার ভূমিকার প্রশংসা করেও তারা জানিয়েছে, চিনা পরিকাঠামো নির্মাণের গতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। দ্রুত পরিস্থিতি যাচাই করে সীমান্ত সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করার জন্য রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছে সংগঠনটি।
উল্লেখ্য, অরুণাচল প্রদেশের সঙ্গে চিনের প্রায় ১,০৮০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে। ফলে সীমান্তবর্তী প্রত্যন্ত এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ এবং সরকারি বা সামরিক পর্যায়ের বক্তব্য—দুইয়েরই গুরুত্ব রয়েছে। নতুন অভিযোগের পর মুখ্যমন্ত্রী পেমা খান্ডুর সেনা ও স্থানীয় সংগঠনের সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগে গোটা বিষয়টি আরও একবার পর্যালোচনার পথে এগোচ্ছে।