যন্তর মন্তরে বিক্ষোভে যোগ দিতে গিয়ে বিমানের ভিতর থেকেই আটক হয়েছেন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। আর সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে নিশানা করলেন দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা আম আদমি পার্টির প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়াল। তাঁর অভিযোগ, দেশে এখন এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, যা জরুরি অবস্থার সময়কেও ছাপিয়ে গিয়েছে। বিরোধীদের কণ্ঠরোধ করে গণতন্ত্রকে দুর্বল করার চেষ্টা চলছে বলে দাবি করেছেন তিনি। শনিবার দিল্লি বিমানবন্দরে অভিজিৎ এবং তাঁর দলের দুই সদস্যকে আটক করার পরেই সমাজমাধ্যমে সরব হন কেজরিওয়াল। তাঁর বক্তব্য, আন্দোলনকারীদের বিমানের ভিতর থেকে আটক করার ঘটনা সরকারের ভয় এবং স্বৈরাচারী মনোভাবেরই পরিচয় দেয়।
কী বলেছেন কেজরিওয়াল?

সমাজমাধ্যমে একটি পোস্টে কেজরিওয়াল লেখেন, এই ঘটনা প্রমাণ করে যে দেশে মোদীর স্বৈরাচারী শাসন চলছে। তাঁর দাবি, ককরোচ জনতা পার্টির নেতাদের বিমান থেকে নামার আগেই আটক করার মধ্যে দিয়ে সরকারের ভয়ের ছবিটা স্পষ্ট হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী জানেন, ভোট চুরি করেই তিনি নির্বাচনে জিতেছেন। এখন সেই বিষয়টি আড়াল করতেই গণতন্ত্রকে সম্পূর্ণ ভাবে পিষে ফেলার চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ করেছেন আপ প্রধান। তবে কেজরিওয়ালের এই অভিযোগের স্বপক্ষে কোনও প্রমাণ তিনি ওই পোস্টে দেননি। বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশনও ভোট চুরির অভিযোগ অস্বীকার করে এসেছে।
কেন আটক অভিজিৎ?
শনিবার দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছিল সিজেপি। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে এই কর্মসূচির পরিকল্পনা করা হয়েছিল। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে আপত্তি রয়েছে সংগঠনের। তাদের অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ায় বহু বৈধ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার ক্ষুণ্ণ হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে দাবি বিক্ষোভকারীদের। এই অভিযোগের প্রতিবাদেই যন্তর মন্তরে জমায়েতের পরিকল্পনা করেছিলেন তাঁরা।
কিন্তু দিল্লিতে পৌঁছনোর পরেই অভিজিৎকে আটক করে পুলিশ। তাঁর সঙ্গে সিজেপির আরও দুই সদস্য সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রাঙ্কাকেও বিমানের ভিতর থেকে আটক করা হয়। তাঁদের বিমান থেকে নামার পরেই পুলিশকর্মীরা ভিতরে ঢুকে আটক করেন। সেই সময় অভিজিৎকে বলতে শোনা যায়, তাঁরা গ্রেফতারি এড়াতে আসেননি। বরং আন্দোলনে যোগ দিতেই দিল্লিতে এসেছেন। পুলিশের পদক্ষেপের প্রতিবাদে তাঁরা ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ স্লোগানও দেন।
{{/usCountry}}কিন্তু দিল্লিতে পৌঁছনোর পরেই অভিজিৎকে আটক করে পুলিশ। তাঁর সঙ্গে সিজেপির আরও দুই সদস্য সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রাঙ্কাকেও বিমানের ভিতর থেকে আটক করা হয়। তাঁদের বিমান থেকে নামার পরেই পুলিশকর্মীরা ভিতরে ঢুকে আটক করেন। সেই সময় অভিজিৎকে বলতে শোনা যায়, তাঁরা গ্রেফতারি এড়াতে আসেননি। বরং আন্দোলনে যোগ দিতেই দিল্লিতে এসেছেন। পুলিশের পদক্ষেপের প্রতিবাদে তাঁরা ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ স্লোগানও দেন।
{{/usCountry}}শুধু সিজেপির শীর্ষ নেতারাই নন, বিক্ষোভে যোগ দিতে চাওয়া আরও অনেককে আটক করা হয়েছে বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠীকেও গুরুগ্রামে আটক করা হয়। সংগঠনের আরও কয়েক জন সদস্যকে হেফাজতে নেওয়ার খবর সামনে এসেছে।
এ দিকে, বিক্ষোভ ঠেকাতে রাজধানী জুড়ে কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছে পুলিশ। যন্তর মন্তরের আশপাশে বসানো হয়েছে ব্যারিকেড। একাধিক মেট্রো স্টেশনে প্রবেশ ও প্রস্থান বন্ধ রাখা হয়েছে। কিছু এলাকায় মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবাও সাময়িক ভাবে বন্ধ করা হয়েছে। যান চলাচল নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি বিভিন্ন জায়গায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে কেজরিওয়ালের মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতর আরও বাড়তে পারে। বিরোধীদের বক্তব্য, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ গণতন্ত্রের অধিকার। অন্য দিকে, প্রশাসনের যুক্তি, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতেই এই ব্যবস্থা। ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে অভিযোগ এবং বিক্ষোভকারীদের আটক করার ঘটনায় এখন রাজনৈতিক মহলের নজর দিল্লির দিকে।