একদিকে পাকিস্তান, তুরস্ক, সৌদি আরব একযোগে স্বাক্ষর করেছে মক্কা প্যাক্ট। এই প্যাক্ট অনুযায়ী, তিন দেশের মধ্যে কোনও একটিতে কোনও বাইরের শক্তি হামলা করলে, তা তিনটি দেশের ওপরেই হামলার শামিল বলে মনে করা হবে। এই প্রেক্ষাপটে শুরু হয়েছে সৌদিতে ইয়েমেনের হুথিদের হামলা। ইরান সমর্থিত এই হুথিদের হামলায় ইতিমধ্যেই সৌদির একাধিক জায়গা ক্ষতিগ্রস্ত। এই অবস্থায় কিছুদিন আগে, পাকিস্তান সৌদিকে সমর্থন থেকে পিছিয়ে গেলেও সদ্য তারা দাবি করেছে, ইসলামাবাদ, রিয়াধের পাশে রয়েছে। এদিকে, তুরস্কও সৌদির পাশে দাঁড়াবার বার্তা দিয়েছে। এই মক্কা প্যাক্টের প্রেক্ষিতে এবার হুথিরাও পাল্টা তুরস্ক, পাকিস্তানের প্রতি হুঁশিয়ারি দিয়েছে।

ইরানের প্রতিবেশী পাকিস্তান, সদ্য ইরান সমর্থিত হুথিদের সৌদিতে হামলা নিয়ে মুখ খুলেছে। পাকিস্তানের সেনার তরফে বলা হয়েছে, 'পাকিস্তান সম্পূর্ণভাবে সৌদি আরবের পাশে রয়েছে, কূটনৈতিক ভাবেও শক্তিগত দিক থেকেও।' পাকিস্তানের সেনা জানিয়েছে, 'আমরা যেকোনও সীমা পর্যন্ত যেতে পারি… যেমনটা সৌদির ভাইরা অনুরোধ করবে, তেমন, যেকোনও সীমা পর্যন্ত…'। এদিকে, শুক্রবার তুরস্কের বিদেশমন্ত্রী হাকান ফিদান বলে, ' আমরা দেখছি সৌদি আরবের ভূখণ্ডগত অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্বের ওপর অত্যন্ত গুরুতর আক্রমণ হচ্ছে। আমাদের চুক্তিতে একটি মৈত্রী চুক্তি রয়েছে। এই বিষয়ে আমরা দৃঢ়ভাবে ঐক্যবদ্ধ... তাদের কিছু সামরিক চাহিদা থাকতে পারে, বিশেষ করে কিছু প্রযুক্তিগত বিষয়ে। সেগুলো মেটাতে আমাদের কোনো সমস্যা হবে না।'
এদিকে, সিএএন-কে সাক্ষাৎকারে হুথির এক সিনিয়র নেতা মুখ খুলেছেন, আনসারাল্লার পলিটিক্যাল ব্যুরোর সদস্য মহম্মদ আল বুখাইতি ওই সাক্ষাৎকারে সাফ বলেন, ' যদি তুরস্ক ও পাকিস্তান এতে জড়িয়ে পড়ে, আমরা তাদের ওপর কঠোর আঘাত হানব।' আল-বুখাইতি বলেন যে, ইয়েমেনের বিরুদ্ধে সৌদির আগ্রাসন মূলক কর্মকাণ্ডে যদি ওই দুটি দেশ (পাকিস্তান, তুরস্ক) যোগ দেয়, তবে হুথিরা তাদের পাল্টা ‘শিক্ষা’ দেবে। আল-বুখাইতি স্বীকার করেছেন যে, পাকিস্তান ও তুরস্কের জনগণের মধ্যে ইয়েমেনের প্রতি গভীর সহানুভূতি রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, তাঁর সতর্কবার্তাটি মূলত ওই দুই দেশের সরকারের উদ্দেশে দেওয়া হয়,যদি তারা সামরিকভাবে এই সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে, তার প্রেক্ষিতেই এই হুঁশিয়ারি। এই প্রেক্ষাপটে চর্চায় রয়েছে সৌদি, তুরস্ক, পাকিস্তানের মক্কাপ্যাক্ট।