Asian Games Cricket Pak Vs B'desh Semifinal: বৃষ্টিতে ভেস্তে যাওয়া একের পর এক ম্যাচের পর অবশেষে মাঠে গড়াল এশিয়ান গেমসের পুরুষদের ক্রিকেটের সেমিফাইনাল। আর সেই ম্যাচেই বাংলাদেশের লড়াই থামিয়ে ফাইনালে উঠে গেল পাকিস্তান। ১৩ ওভারের ম্যাচে বাংলাদেশ প্রথমে ব্যাট করে ১১১ রান তুলেছিল। সেই রান তাড়া করতে নেমে ১১.৩ ওভারে ১১২ রান তুলে ছয় উইকেটে ম্যাচ জিতে নেয় পাকিস্তান। এই জয়ের ফলে সোনা জয়ের লড়াইয়ে জায়গা করে নিল সাহিবজাদা ফারহানের দল।

ম্যাচের শুরুটা অবশ্য বাংলাদেশের জন্য একেবারেই ভাল ছিল না। টস জিতে পাকিস্তান প্রথমে বল করার সিদ্ধান্ত নেয়। ব্যাট করতে নেমে মাত্র ২১ রানেই বাংলাদেশের তিন উইকেট পড়ে যায়। তানজিদ হাসান তামিম, লিটন দাস এবং পারভেজ হোসেন ইমন দ্রুত ফিরে যাওয়ায় চাপে পড়ে বাংলাদেশ। ছোট ম্যাচে এমন শুরু যে কতটা বিপজ্জনক, তখনই তার আভাস মিলেছিল।
এর পর সাইফ হাসান এবং তৌহিদ হৃদয় কিছুটা সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন। দুজনের জুটি ভাঙার আগে বাংলাদেশকে ৪৫ রানে নিয়ে যান তারা। সাইফ করেন ১৭ বলে ১৯ রান। তাঁকে আউট করেন সুফিয়ান মুকিম। এরপরেই বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের ভার নিজের কাঁধে তুলে নেন হৃদয়।
পাকিস্তানের বোলারদের সামলে পাল্টা আক্রমণে যান হৃদয়। মোসাদ্দেক হোসেনকে সঙ্গে নিয়ে পঞ্চম উইকেটে ৫৩ রান যোগ করেন তিনি। মাত্র ২৫ বলে ৪২ রানের ঝকঝকে ইনিংসে আসে দুইটি চার এবং চারটি ছক্কা। বাংলাদেশের রান একশোর গণ্ডি পার করানোর পিছনে তাঁর অবদানই সবচেয়ে বেশি। তবে শেষ পর্যন্ত সুফিয়ান মুকিমের বলেই সাইম আইয়ুবের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন হৃদয়। তার কিছুক্ষণের মধ্যেই মোসাদ্দেকও আউট হয়ে যান।
শেষ দিকে দ্রুত কয়েকটি রান তুলে বাংলাদেশের স্কোর ১১১ এ নিয়ে যান মাহেদি হাসান। তিনি চার বলে আট রানে অপরাজিত থাকেন। ১৩ ওভার শেষে সাত উইকেট হারিয়ে ১১১ রান করে বাংলাদেশ। পাকিস্তানের হয়ে সুফিয়ান মুকিম তিন ওভারে ২৬ রান দিয়ে তিন উইকেট নেন। আরাফাত মিনহাস পান দুই উইকেট।
{{/usCountry}}শেষ দিকে দ্রুত কয়েকটি রান তুলে বাংলাদেশের স্কোর ১১১ এ নিয়ে যান মাহেদি হাসান। তিনি চার বলে আট রানে অপরাজিত থাকেন। ১৩ ওভার শেষে সাত উইকেট হারিয়ে ১১১ রান করে বাংলাদেশ। পাকিস্তানের হয়ে সুফিয়ান মুকিম তিন ওভারে ২৬ রান দিয়ে তিন উইকেট নেন। আরাফাত মিনহাস পান দুই উইকেট।
{{/usCountry}}বাংলাদেশের ১১১ রানের জবাবে পাকিস্তানও শুরুতে স্বস্তিতে ছিল না। অল্প রানের লক্ষ্য হলেও সেমিফাইনালের চাপ যে আলাদা, তা বোঝা যায় পাকিস্তানের ইনিংসেও। তবে শেষ পর্যন্ত আবদুল সামাদ এবং হাসান নওয়াজের ব্যাটে ম্যাচের রং বদলে যায়। দুজনেই পরিস্থিতি বুঝে খেলেন এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় রান তুলে নেন।
আবদুল সামাদ মাত্র ১৫ বলে ৩০ রান করেন। তাঁর ইনিংসে ছিল আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের ছাপ। অন্য দিকে হাসান নওয়াজ ২২ বলে ২৭ রান করে দলকে জয়ের দিকে এগিয়ে নিয়ে যান। তাঁদের জুটিই শেষ পর্যন্ত পাকিস্তানের রান তাড়াকে অনেক সহজ করে দেয়। বাংলাদেশের হয়ে রিশাদ হোসেন এবং মাহেদি হাসান একটি করে উইকেট নেন।
শেষ পর্যন্ত ১১.৩ ওভারেই প্রয়োজনীয় ১১২ রান তুলে নেয় পাকিস্তান। হাতে ছিল চার উইকেট এবং নয় বল। অর্থাৎ ১৩ ওভারের নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার আগেই ম্যাচ শেষ করে ফেলে তারা।
এ বারের এশিয়ান গেমসে বৃষ্টির কারণে বাংলাদেশের মতো পাকিস্তানও কোয়ার্টার ফাইনাল খেলতে পারেনি। বাংলাদেশ মালয়েশিয়ার বিরুদ্ধে এবং পাকিস্তান হংকংয়ের বিরুদ্ধে ম্যাচ না খেলেই শেষ চারে পৌঁছেছিল। সেই কারণে সরাসরি সেমিফাইনাল দিয়েই প্রতিযোগিতায় নিজেদের শক্তি দেখানোর সুযোগ পেয়েছিল দুই দল।
সেমিফাইনালে শেষ পর্যন্ত পাকিস্তান সেই সুযোগ কাজে লাগাল। বাংলাদেশের হয়ে হৃদয় লড়াই দেখালেও তাঁর ইনিংস দলকে জয়ের মঞ্চে পৌঁছে দিতে পারল না। অন্য দিকে সংক্ষিপ্ত ম্যাচে পাকিস্তানের ব্যাটারেরা প্রয়োজনের সময় আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করে ফাইনালের দরজা খুলে দিলেন। এখন সোনার পদকের ম্যাচে পাকিস্তানের প্রতিপক্ষ হবে দ্বিতীয় সেমিফাইনালের জয়ী দল।