শেষ রাউন্ডে তখন টানটান উত্তেজনা। তিন মিনিটের লড়াই শেষ হওয়ার পরও নিশ্চিত ছিলেন না কেউ। বিচারকদের রায়ও গেল ভাগ হয়ে। শেষ পর্যন্ত ৩-২ ব্যবধানে স্প্লিট ডিসিশনে চিনা তাইপেইয়ের চেন নিয়েন-চিনকে হারিয়ে সোনা জিতে নিলেন ভারতের পরভীন হুডা। মহিলাদের ৬৫ কেজি বক্সিং বিভাগে এই সাফল্য এল শুক্রবার।

শুরুটা অবশ্য পরভীনের পক্ষেই ছিল। প্রথম রাউন্ডে তাঁর ঘুষির গতি এবং পাল্টা আক্রমণ বেশ নজর কাড়ে। চেনও কম যাননি। চিনা তাইপেইয়ের বক্সার বার বার আক্রমণে যাওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু পরভীন রক্ষণ সামলে দ্রুত কাউন্টার করে পয়েন্ট তুলে নেন। পাঁচ বিচারকের সকলেই প্রথম রাউন্ডে ১০-৯ ব্যবধানে ভারতীয় বক্সারের পক্ষে রায় দেন। ফলে শুরুতেই এগিয়ে যান পরভীন।
দ্বিতীয় রাউন্ডে চিত্রটা বদলে যায়। আগের রাউন্ডের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে আরও সতর্ক হয়ে লড়াই করেন পরভীন। নিজের রক্ষণ শক্ত করার চেষ্টা করেন তিনি। অন্য দিকে চেন কৌশল বদলে রিংয়ে নিজের অবস্থানও পালটে ফেলেন। তাতেও অবশ্য ঘাবড়ে যাননি ভারতীয় বক্সার। তবে দ্বিতীয় রাউন্ডের পয়েন্টে পরভীনের পক্ষে ভোট পড়েনি। পাঁচ বিচারকের প্রত্যেকেই ১০-৯ ব্যবধানে চেনকে এগিয়ে রাখেন।
অর্থাৎ দ্বিতীয় রাউন্ড শেষ হতেই সব হিসাব গিয়ে দাঁড়াল তৃতীয় এবং শেষ রাউন্ডে। তখন দুই বক্সারের সামনে একই লক্ষ্য, যে কোনও মূল্যে শেষ রাউন্ড নিজের দখলে নেওয়া। শুরু থেকেই সেই মরিয়া লড়াই দেখা গেল রিংয়ে।
শেষ রাউন্ডে দু’জনেই আক্রমণ বাড়িয়ে দেন। পরভীন বেশ কয়েক বার সরাসরি পাঞ্চ করে প্রতিপক্ষকে চাপে রাখার চেষ্টা করেন। চেনও পাল্টা আক্রমণ চালিয়ে ম্যাচে থাকার চেষ্টা করেন। কখনও ভারতীয় বক্সার এগিয়ে যাচ্ছেন, কখনও আবার চিনা তাইপেইয়ের বক্সার ঘুরে দাঁড়াচ্ছেন। শেষ পর্যন্ত লড়াই এতটাই সমানে সমান ছিল যে ম্যাচ শেষ হওয়ার পরও ফল নিয়ে সংশয় তৈরি হয়।
{{/usCountry}}শেষ রাউন্ডে দু’জনেই আক্রমণ বাড়িয়ে দেন। পরভীন বেশ কয়েক বার সরাসরি পাঞ্চ করে প্রতিপক্ষকে চাপে রাখার চেষ্টা করেন। চেনও পাল্টা আক্রমণ চালিয়ে ম্যাচে থাকার চেষ্টা করেন। কখনও ভারতীয় বক্সার এগিয়ে যাচ্ছেন, কখনও আবার চিনা তাইপেইয়ের বক্সার ঘুরে দাঁড়াচ্ছেন। শেষ পর্যন্ত লড়াই এতটাই সমানে সমান ছিল যে ম্যাচ শেষ হওয়ার পরও ফল নিয়ে সংশয় তৈরি হয়।
{{/usCountry}}তার পর আসে বিচারকদের রায়। পাঁচ বিচারকের মধ্যে তিন জন পরভীনের পক্ষে রায় দেন, দু’জন চেনকে এগিয়ে রাখেন। ফলে ৩-২ স্প্লিট ডিসিশনে জয় নিশ্চিত হয় ভারতের। রিংয়ে ফল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েন পরভীন এবং তাঁর কোচেরা।
এই সোনার পিছনে রয়েছে ঘুরে দাঁড়ানোর গল্পও। আগের এশিয়ান গেমসে পদক জিতেও পরে শাস্তির কারণে সেই পদক হারাতে হয়েছিল পরভীনকে। দীর্ঘ সময় প্রতিযোগিতার বাইরে থাকার পর এ বার এশিয়াডে ফিরে সরাসরি ফাইনালে উঠে সোনা ছিনিয়ে নিলেন তিনি। সেমিফাইনালে চিনের লি শুকে হারিয়ে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছিলেন পরভীন।
এশিয়ান গেমসে ভারতীয় মহিলা বক্সিংয়ের ইতিহাসেও পরভীনের এই জয় বিশেষ জায়গা করে নিল। তিনি মেরি কম এবং লভলিনা বরগোহাঁইয়ের পর এশিয়াডের ফাইনালে ওঠা তৃতীয় ভারতীয় মহিলা বক্সার। আর এ বার সেই ফাইনাল থেকেই সোনা নিয়ে ফিরলেন।
রিংয়ে শেষ ঘণ্টা বাজার পর অপেক্ষা ছিল শুধু সিদ্ধান্তের। শেষ পর্যন্ত বিচারকদের বিভক্ত রায় হলেও হাসি ফুটল পরভীনের মুখে। কঠিন লড়াই জিতে ভারতের পদক তালিকায় যোগ হল আরও একটি সোনা, আর নিজের কেরিয়ারে এল বহু প্রতীক্ষিত এক সাফল্য।