এশিয়ান গেমস ২০২৬-এ ইতিহাস গড়লেন ভারতের সুচিকা তারিয়াল। এই প্রথম এশিয়ান গেমসের আসরে জায়গা করে নিয়েছে মিক্সড মার্শাল আর্টস বা MMA। আর অভিষেকেই এই খেলায় ভারতের হয়ে প্রথম পদক এনে দিলেন ৩৬ বছরের সুচিকা। মহিলাদের ট্র্যাডিশনাল -৬০ কেজি বিভাগে সেমিফাইনালে না হেরেও ফাইনালে যাওয়া হল না সুচিকার। এই আবহে ব্রোঞ্জ পদক নিশ্চিত করেছেন তিনি।

সোমবার সেমিফাইনালে সিঙ্গাপুরের তেও হুই হুনের মুখোমুখি হন সুচিকা। শুরু থেকেই কঠিন লড়াই হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দুই প্রতিযোগীর মধ্যে ব্যবধান তৈরি করা সম্ভব হয়নি। ফলে ম্যাচ গড়ায় ওভারটাইমে। সেখানেও সুচিকা যথাসাধ্য লড়াই চালিয়ে যান। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বিচারকদের সিদ্ধান্ত তাঁর বিপক্ষে যায়। পরে চরম নাটকীয় মোড়ে রিভিউতে দেখা যায়, সুচিকা ম্যাচ হারেননি, ম্যাচটি ড্র। তবে তা সত্ত্বেও ফাইনালে ওঠার সুযোগ হাতছাড়া হয় ভারতীয় এই খেলোয়াড়ের।
ম্যাচের পর আবেগঘন পরিস্থিতিরও তৈরি হয়। দুই প্রতিযোগীকে ফল ঘোষণার জন্য মঞ্চে ডাকেন আয়োজকরা। কিন্তু সুচিকা প্রথমে মঞ্চে উঠতে চাননি। মনে করা হচ্ছিল, তিনি হয়তো আগেই বুঝতে পেরেছিলেন যে বিচারকদের সিদ্ধান্ত তাঁর পক্ষে যাচ্ছে না। পরে ভারতীয় কোচরা তাঁকে মঞ্চে যেতে বলেন। তখন অনিচ্ছা সত্ত্বেও মঞ্চে ওঠেন সুচিকা। ফল ঘোষণার পর তাঁকে চোখের জলে মঞ্চ ছাড়তে দেখা যায়।
উল্লেখ্য, একটি যন্ত্রণাদায়ক নিয়মের কারণে MMA-র ফাইনালে উঠতে পারলেন না সুচিকা তারিয়াল। রিংয়ে অবশ্য তিনি সেমিফাইনালের লড়াইয়ে হারেননি। সরকারি প্রতিবাদের পর, যার জন্য ফেডারেশন এবং নিখিল কুন্দের মিলে ১,০০০ ডলারের অ-ফেরতযোগ্য ফি দেন, ম্যাচটি সালিশি পর্যায়ে পাঠানো হয়।
{{/usCountry}}উল্লেখ্য, একটি যন্ত্রণাদায়ক নিয়মের কারণে MMA-র ফাইনালে উঠতে পারলেন না সুচিকা তারিয়াল। রিংয়ে অবশ্য তিনি সেমিফাইনালের লড়াইয়ে হারেননি। সরকারি প্রতিবাদের পর, যার জন্য ফেডারেশন এবং নিখিল কুন্দের মিলে ১,০০০ ডলারের অ-ফেরতযোগ্য ফি দেন, ম্যাচটি সালিশি পর্যায়ে পাঠানো হয়।
{{/usCountry}}সাধারণত তিন বিচারকের প্যানেল ম্যাচের সিদ্ধান্ত দেয়। কিন্তু এই ক্ষেত্রে ১০ জন বিচারকের একটি প্যানেল ম্যাচের সমস্ত উপলব্ধ ফুটেজ খতিয়ে দেখে। শেষ পর্যন্ত তাঁরা সরকারি ভাবে ম্যাচটিকে ড্র ঘোষণা করেন।
তবে টুর্নামেন্টের নিয়ম অনুযায়ী, ম্যাচ ড্র হলে প্রতিযোগীদের ওজনের ভিত্তিতে জয়ী নির্ধারণ করা হয়। আর সেখানেই সুচিকার ভাগ্য খারাপ ছিল। সিঙ্গাপুরের ভিক্টোরিয়া তেওর তুলনায় সুচিকার ওজন ৭০০ গ্রাম বেশি ছিল। ফলে নিয়ম অনুযায়ী জয় চলে যায় সিঙ্গাপুরের পক্ষে। এই হৃদয়বিদারক ঘটনার পর সুচিকাকে ব্রোঞ্জ পদক নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়।
তবে সেমিফাইনালে ছিটকে গেলেও ইতিমধ্যেই ইতিহাস তৈরি করে ফেলেছিলেন সুচিকা। রবিবার কোয়ার্টার ফাইনালে মঙ্গোলিয়ার আলতানচিমেগ বাইগালমাকে ২-০ ব্যবধানে হারিয়ে তিনি ভারতের জন্য একটি পদক নিশ্চিত করেছিলেন। শেষ পর্যন্ত সেই পদকই হয়ে উঠল এশিয়ান গেমসে MMA-তে ভারতের প্রথম পদক। ২০২৬ সালের এশিয়ান গেমসেই প্রথমবারের মতো MMA-কে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর পাশাপাশি BMX, টেকবল, প্যাডেল, সার্ফিং এবং ভার্চুয়াল তায়কোয়ান্দোর মতো খেলাও এ বার এশিয়ান গেমসে নতুন করে জায়গা পেয়েছে।
সুচিকার খেলোয়াড়ি জীবন অবশ্য শুধু MMA-কে ঘিরে নয়। তিনি জাতীয় স্তরের জুডোকা এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ের একজন সফল খেলোয়াড়। ২০১৭ সালে MMA-তে অভিষেক হলেও পরের সাত বছর তিনি এই খেলা থেকে দূরে ছিলেন। সেই সময় জুডো এবং জিউ-জিৎসুতে প্রতিযোগিতা চালিয়ে যান। ২০২৪ সালে ব্রেভ কমব্যাট ফেডারেশনের সঙ্গে বহু বছরের চুক্তি করেন তিনি। এরপর ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে বাহরিনে BRAVE CF 92 প্রতিযোগিতার মাধ্যমে পেশাদার MMA-তে ফিরে আসেন।
হরিয়ানার রোহতকের বাসিন্দা সুচিকার খেলাধুলার শুরু মাত্র ১২ বছর বয়সে। ইভ-টিজিংয়ের একটি ঘটনা তাঁকে আত্মরক্ষার জন্য জুডো শেখার দিকে ঠেলে দেয়। পরে তিনি ভারতের হয়ে ২০টিরও বেশি আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। তিনি আটবার জাতীয় জুডো চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন। ২০১৯ সালের কমনওয়েলথ জুডো চ্যাম্পিয়নশিপ এবং দক্ষিণ এশীয় গেমসে সোনা জিতেছেন।
২০২২ সালের বার্মিংহাম কমনওয়েলথ গেমসেও ভারতের হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন সুচিকা। মহিলাদের -৫৭ কেজি বিভাগে অল্পের জন্য পদক হাতছাড়া হয় তাঁর। খেলাধুলার পাশাপাশি কর্মজীবনেও দায়িত্ব সামলেছেন তিনি। CISF-এ হেড কনস্টেবল হিসেবে কাজ করার পর হরিয়ানা ক্রীড়া দফতরে জুনিয়র কোচ হিসেবে যোগ দেন। সেমিফাইনালে হার তাঁর ফাইনালের স্বপ্ন থামিয়ে দিলেও, এশিয়ান গেমসে ভারতের MMA যাত্রার প্রথম পাতায় সুচিকা তারিয়ালের নাম ইতিহাসে লেখা হয়ে গেল।