ম্যাচের শুরুতে এক ছবি, শেষ দিকে যেন সম্পূর্ণ অন্য খেলা। প্রথমে ৩-০ গোলে এগিয়ে গিয়ে ম্যাচ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিয়েছিল ভারত। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে দুরন্ত ভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে পাকিস্তান এক সময় স্কোর ৩-৩ করে ফেলে। মনে হচ্ছিল, ম্যাচ গড়াবে আরও কঠিন লড়াইয়ের দিকে। শেষ পর্যন্ত একেবারে শেষ মুহূর্তে অভিষেকের গোলে নাটকীয় জয় তুলে নিয়ে এশিয়ান গেমসের পুরুষদের হকির ফাইনালে চলে গেল ভারত। পাকিস্তানকে ৪-৩ গোলে হারাল হরমনপ্রীত সিংয়ের দল।

শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে খেলতে নামে ভারত। প্রথম কোয়ার্টারেই পাকিস্তানের রক্ষণে একের পর এক চাপ তৈরি করে তারা। পেনাল্টি কর্নার থেকেই অধিনায়ক হরমনপ্রীত সিং ভারতকে এগিয়ে দেন। খুব বেশি সময় লাগেনি ব্যবধান বাড়াতেও। প্রথম কোয়ার্টার শেষ হওয়ার আগেই আরও একটি পেনাল্টি কর্নার থেকে গোল করে ব্যবধান ২ ০ করেন হরমনপ্রীত। ফলে প্রথম ১৫ মিনিটেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ অনেকটাই ভারতের হাতে চলে যায়।
দ্বিতীয় কোয়ার্টারেও ভারত চাপ ধরে রাখে। কিছুক্ষণের মধ্যেই সুকজিৎ সিংয়ের গোলে স্কোর হয়ে যায় ৩ ০। শিলানন্দ লাকড়ার তৈরি করা দারুণ সুযোগ কাজে লাগিয়ে গোল করেন সুকজিৎ। তখন মনে হচ্ছিল, পাকিস্তানের সামনে ম্যাচে ফেরা কঠিন। কিন্তু ম্যাচের শেষটা যে এতটা নাটকীয় হবে, তার ইঙ্গিতও তখন পাওয়া যায়নি।
প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগে অবশ্য পাকিস্তান একটি গোল শোধ করে। পেনাল্টি কর্নার থেকে আবু মাহমুদ গোল করে ব্যবধান কমান। ৩ ১ স্কোরলাইন নিয়ে বিরতিতে যায় দুই দল। ভারত এগিয়ে থাকলেও পাকিস্তানের আক্রমণ যে পুরোপুরি থামেনি, সেটি তখনই পরিষ্কার হয়ে যায়। ভারতীয় রক্ষণে আরও সতর্ক থাকার প্রয়োজন ছিল।
তৃতীয় কোয়ার্টারে ভারত বলের দখল ধরে রাখার চেষ্টা করলেও পাকিস্তান ধীরে ধীরে চাপ বাড়াতে থাকে। সেই চাপ থেকেই ম্যাচের মোড় ঘুরে যায়। ৪৫ মিনিটের মাথায় হানান শাহিদের গোলে পাকিস্তান ব্যবধান কমিয়ে ৩ ২ করে। ভারতীয় রক্ষণে সেই সময় কিছুটা অস্থিরতা দেখা যায়। শেষ কোয়ার্টার শুরু হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই ওয়াহিদ রানার গোলে সমতা ফেরায় পাকিস্তান। ৩ ০ থেকে ৩ ৩, মাত্র কয়েক মিনিটের ব্যবধানে ম্যাচ পুরোপুরি বদলে যায়।
{{/usCountry}}তৃতীয় কোয়ার্টারে ভারত বলের দখল ধরে রাখার চেষ্টা করলেও পাকিস্তান ধীরে ধীরে চাপ বাড়াতে থাকে। সেই চাপ থেকেই ম্যাচের মোড় ঘুরে যায়। ৪৫ মিনিটের মাথায় হানান শাহিদের গোলে পাকিস্তান ব্যবধান কমিয়ে ৩ ২ করে। ভারতীয় রক্ষণে সেই সময় কিছুটা অস্থিরতা দেখা যায়। শেষ কোয়ার্টার শুরু হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই ওয়াহিদ রানার গোলে সমতা ফেরায় পাকিস্তান। ৩ ০ থেকে ৩ ৩, মাত্র কয়েক মিনিটের ব্যবধানে ম্যাচ পুরোপুরি বদলে যায়।
{{/usCountry}}সমতা ফেরার পরে দুই দলই মরিয়া হয়ে ওঠে। পাকিস্তান পর পর পেনাল্টি কর্নার আদায় করে ভারতকে চাপে ফেলার চেষ্টা করে। একটি পর্যায়ে গোলরক্ষক পরিবর্তনও করে ভারত। মোহিথ শশিকুমারের জায়গায় নামানো হয় সূরজ কারকেরাকে। ম্যাচ তখন এমন জায়গায় পৌঁছে গিয়েছিল, যেখানে ছোট একটি ভুলও সব হিসাব ওলটপালট করে দিতে পারত।
শেষ পর্যন্ত সেই ভুল পাকিস্তান নয়, ভারতের হাতেই এল না। ম্যাচের একেবারে শেষ মুহূর্তে অভিষেক গোল করে ভারতকে ফের এগিয়ে দেন। তাঁর সেই গোলেই ৪ ৩ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত হয়। তাই ৩ ০ থেকে ৩ ৩ করা সত্ত্বেও পাকিস্তানের শেষ রক্ষা হল না। ভারত শেষ মুহূর্তের ধাক্কায় ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করল।
এই জয়ের ফলে এশিয়ান গেমসে ভারতের সোনা ধরে রাখার লড়াইও জারি রইল। গ্রুপ পর্বে পাঁচ ম্যাচে পাঁচ জয় তুলে শেষ চারে উঠেছিল ভারত। সেই ম্যাচগুলিতে ৪৯টি গোল করে মাত্র চারটি গোল হজম করেছিল তারা। অন্য দিকে পাকিস্তানও গ্রুপ পর্বে চারটি ম্যাচ জিতেছিল, তবে মালয়েশিয়ার কাছে ৪ ৫ হারের ফলে দ্বিতীয় হয়।
এ বার ভারতের সামনে ফাইনাল। সেখানে সোনার পদকের জন্য লড়াই করতে হবে দ্বিতীয় সেমিফাইনালের জয়ী দলের বিরুদ্ধে। তবে তার আগে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে এই ৪ ৩ জয় ভারতীয় শিবিরে আত্মবিশ্বাস বাড়াবে। আর এই ম্যাচটি মনে থাকবে বিশেষ করে এক কারণে, ৩ ০ থেকে ৩ ৩ হয়ে যাওয়া ম্যাচে শেষ মুহূর্তের গোলই শেষ পর্যন্ত ভারতকে ফাইনালে পৌঁছে দিল।