শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই। একের পর এক শুট অফ। কখনও এক পয়েন্টের ব্যবধান, কখনও সমতায় আটকে যাওয়া। সব মিলিয়ে টানটান উত্তেজনার সেই লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত রুপোর পদক জিতলেন ভারতের ঈশা সিংহ। মহিলাদের ২৫ মিটার পিস্তল ফাইনালে সোনার জন্য চিনের শিয়াও জিয়ারুইশুয়ানের সঙ্গে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই করেও শেষ পর্যন্ত দ্বিতীয় স্থানেই থামতে হল তাঁকে। তবে সোনা না পেলেও চাপের মুহূর্তে ঈশার পারফরম্যান্সে মুগ্ধ সমর্থকেরা।

ফাইনালের শুরু থেকেই জমে উঠেছিল লড়াই। উত্তর কোরিয়ার কিম হিয়ন সুকের সঙ্গে ঈশার লড়াই একাধিক বার টাই হয়ে যায়। ফলে মূল সিরিজের পর পরপর শুট অফে নামতে হয় দুই প্রতিযোগীকে। প্রথম শুট অফেও দুজনের মধ্যে ব্যবধান তৈরি হয়নি। দ্বিতীয় বারও একই ছবি। দুজনেই ৫টির মধ্যে ৩টি করে শট লক্ষ্যভেদ করেন। ফলে আবারও সমতায় আটকে যায় লড়াই।
তখন সামনে ছিল তৃতীয় শুট অফ। অর্থাৎ এ বার আর ভুলের সুযোগ নেই। যে এক ধাপ এগিয়ে যাবেন, তিনিই লড়বেন সোনার জন্য। আর যে পিছিয়ে পড়বেন, তাঁর কপালে জুটবে ব্রোঞ্জ।
সেই মুহূর্তে ঠান্ডা মাথায় শট নেন ঈশা। তৃতীয় শুট অফে তিনি ৩টি লক্ষ্যভেদ করেন। কিমের ঝুলিতে আসে ২টি। ফলে ৩ ২ ব্যবধানে উত্তর কোরিয়ার প্রতিদ্বন্দ্বীকে পিছনে ফেলে সোজা সোনার লড়াইয়ে উঠে যান ভারতীয় শুটার। সেই সঙ্গেই নিশ্চিত হয়ে যায় তাঁর অন্তত রুপো পাওয়া।
এর পর শুরু হয় আসল পরীক্ষা। সামনে চিনের শিয়াও। নিয়মিত সিরিজ শেষে দুজনের স্কোর সমান ৩৮। অর্থাৎ সোনা কার, তা ঠিক করতে আবারও শুট অফ। চাপের মধ্যেও ঈশা নিজের স্নায়ু ধরে রাখেন। প্রথম শুট অফে দুজনেই ৪টির মধ্যে ৪টি করে শট লক্ষ্যভেদ করেন। ফলে ফের সমতা।
{{/usCountry}}এর পর শুরু হয় আসল পরীক্ষা। সামনে চিনের শিয়াও। নিয়মিত সিরিজ শেষে দুজনের স্কোর সমান ৩৮। অর্থাৎ সোনা কার, তা ঠিক করতে আবারও শুট অফ। চাপের মধ্যেও ঈশা নিজের স্নায়ু ধরে রাখেন। প্রথম শুট অফে দুজনেই ৪টির মধ্যে ৪টি করে শট লক্ষ্যভেদ করেন। ফলে ফের সমতা।
{{/usCountry}}আবার শুট অফ। আবার একই উত্তেজনা। সোনা নিয়ে লড়াই আরও দীর্ঘ হয়। শেষ পর্যন্ত চিনের প্রতিদ্বন্দ্বীকে টপকে যাওয়া সম্ভব হয়নি ঈশার। ফলে রুপোর পদক নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয় তাঁকে।
তবে এই রুপোও একেবারে সহজে আসেনি। ফাইনালে একের পর এক কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে পড়েও ঈশা যেভাবে ফিরে এসেছেন, তাতেই তাঁর মানসিক দৃঢ়তার প্রমাণ মিলেছে। বিশেষ করে কিমের বিরুদ্ধে পরপর তিনটি শুট অফ এবং পরে শিয়াওয়ের বিরুদ্ধে সোনার লড়াইয়ে তাঁর ধারাবাহিকতা ছিল চোখে পড়ার মতো।
ফাইনালের শেষ স্কোরে শিয়াও এবং ঈশা দুজনেরই ৩৮ পয়েন্ট ছিল। সেখানে উত্তর কোরিয়ার কিম ৩৪ পয়েন্ট নিয়ে ছিটকে যান। তাঁর আগে ট্রিন থু ভিন, শাং কাইয়ান, তিয়েন চিয়া চেন, হানিয়েহ রোস্তামিয়ান এবং বং সিওরিনও একে একে প্রতিযোগিতা থেকে বিদায় নেন।
ঈশার এই সাফল্য ভারতীয় শুটিং শিবিরে আরও একটি পদক যোগ করল। সোনা হাতছাড়া হলেও তাঁর লড়াই ছিল ফাইনালের অন্যতম আকর্ষণ। শেষ পর্যন্ত পর পর শুট অফ পেরিয়ে রুপো জয় করেই নজর কাড়লেন ২১ বছরের এই ভারতীয় শুটার। সোনা না এলেও এ দিনের লড়াই দেখিয়ে দিল, বড় মঞ্চে চাপ সামলে শেষ পর্যন্ত লড়াই করে যাওয়ার ক্ষমতা ঈশার রয়েছে। ভারতীয় শুটিংয়ের জন্য তাই এই রুপোও যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ।