এশিয়ান গেমস ২০২৬-এ দুর্দান্ত জয় দিয়ে অভিযান শুরু করল ভারতীয় মহিলা ক্রিকেট দল। জাপানকে মাত্র ৫৭ রানে অলআউট করে ৮ উইকেটে ম্যাচ জিতে নিলেন হারমনপ্রীত কউরেরা। মাত্র ৫ ওভারেই ৫৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করে ফেলেছে ভারত। এ দিন ভারতের হয়ে বল হাতে নজর কাড়লেন শ্রীচরণী, আর ব্যাট হাতে ঝড় তুললেন শেফালি বর্মা। এই জয়ের ফলে ভারত এশিয়ান গেমসের সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে। সেখানে বাংলাদেশের মুখোমুখি হবে ভারত।

নিশিনের কোরোগি স্পোর্টস পার্কে টস জিতে প্রথমে বল করার সিদ্ধান্ত নেন ভারতীয় অধিনায়ক হারমনপ্রীত কউর। শুরুতে জাপানের দুই ওপেনার আয়াকা কাটো-স্ট্যাফোর্ড এবং হারুনা ইওয়াসাকি কিছুটা সাবধানে ব্যাট করেন। প্রথম কয়েক ওভার ভারতীয় বোলারদের বিরুদ্ধে উইকেট ধরে রাখতেও সক্ষম হয় জাপান। কিন্তু পাওয়ারপ্লে শেষ হওয়ার পরেই ছবিটা বদলে যায়। ভারতের স্পিন আক্রমণ ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ সম্পূর্ণ নিজেদের হাতে নিয়ে নেয়।
ভারতের হয়ে সবচেয়ে উজ্জ্বল ছিলেন বাঁহাতি স্পিনার শ্রীচরণী। তিনি ৪ ওভারে মাত্র ১০ রান দিয়ে ৪টি উইকেট নেন। এশিয়ান গেমসের ইতিহাসে ভারতীয় বোলারদের মধ্যে এটি তাঁর সেরা টি-২০ বোলিং পরিসংখ্যান। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে পরপর দুই বলে দুই উইকেট নিয়ে জাপানের ব্যাটিংয়ের মেরুদণ্ড ভেঙে দেন তিনি। তাঁর পাশাপাশি শেফালি বর্মা ২টি উইকেট নেন। দীপ্তি শর্মা এবং শ্রেয়াঙ্কা পাটিলও একটি করে উইকেট পান।
ভারতের নিয়ন্ত্রিত বোলিং এবং দুর্দান্ত ফিল্ডিংয়ের সামনে জাপানের ব্যাটিং পুরোপুরি ব্যর্থ হয়। শেষ পর্যন্ত ১৯.৫ ওভারে মাত্র ৫৭ রানে অলআউট হয়ে যায় জাপান। দলের হয়ে সর্বোচ্চ রান করেন আয়াকা কাটো-স্ট্যাফোর্ড। ভারতীয় বোলারদের সামনে জাপানের আর কোনও ব্যাটার বড় ইনিংস খেলতে পারেননি।
৫৮ রানের সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ভারত অবশ্য শুরুতেই একটি ধাক্কা খায়। তবে এরপর শেফালি বর্মা দ্রুত ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেন। মাত্র ১৫ বলে অপরাজিত ৪০ রান করেন তিনি। তাঁর ইনিংসে ছিল একাধিক চার ও ছয়। অন্য প্রান্তে ঋচা ঘোষ ১২ রানে অপরাজিত থাকেন। শেষ পর্যন্ত মাত্র ৫ ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে ৫৮ রান তুলে নেয় ভারত। জাপানের বোলারদের বিরুদ্ধে শেফালির আগ্রাসী ব্যাটিং ম্যাচটিকে একতরফা করে দেয়।
{{/usCountry}}৫৮ রানের সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ভারত অবশ্য শুরুতেই একটি ধাক্কা খায়। তবে এরপর শেফালি বর্মা দ্রুত ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেন। মাত্র ১৫ বলে অপরাজিত ৪০ রান করেন তিনি। তাঁর ইনিংসে ছিল একাধিক চার ও ছয়। অন্য প্রান্তে ঋচা ঘোষ ১২ রানে অপরাজিত থাকেন। শেষ পর্যন্ত মাত্র ৫ ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে ৫৮ রান তুলে নেয় ভারত। জাপানের বোলারদের বিরুদ্ধে শেফালির আগ্রাসী ব্যাটিং ম্যাচটিকে একতরফা করে দেয়।
{{/usCountry}}এই ম্যাচটি ভারত ও জাপানের মধ্যে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রথম সাক্ষাৎও ছিল। পুরুষ বা মহিলা—কোনও পর্যায়েই এর আগে দুই দেশ একে অপরের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলেনি। ফলে এশিয়ান গেমসের এই কোয়ার্টার ফাইনাল দুই দলের জন্যই ঐতিহাসিক ম্যাচ হয়ে থাকল।
ভারতীয় দল এই প্রতিযোগিতায় নামার আগে দুর্দান্ত ছন্দে ছিল। কয়েক দিন আগেই শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে অষ্টমবার মহিলা এশিয়া কাপের খেতাব জিতেছে ভারত। সেই সাফল্যের ধারাই এশিয়ান গেমসেও বজায় রাখলেন হারমনপ্রীত, শেফালি, স্মৃতি মান্ধানা, দীপ্তিরা। তবে কোয়ার্টার ফাইনালের ম্যাচে স্মৃতি মান্ধানাকে বড় ভূমিকা নিতে হয়নি; ভারতের হয়ে ম্যাচ শেষ করে দেন শেফালিই।
এশিয়ান গেমসে ভারত ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন। ২০২২ সালের আসরে সোনা জিতেছিল ভারতীয় মহিলা ক্রিকেট দল। এবারও সেই সাফল্য ধরে রাখার লক্ষ্যেই নেমেছে দল। জাপানের বিরুদ্ধে ৮ উইকেটের জয় সেই অভিযানে শক্তিশালী শুরু এনে দিয়েছে। সেমিফাইনালে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে আরও কঠিন লড়াইয়ের মুখে পড়তে হবে ভারতকে। ২০ সেপ্টেম্বর নির্ধারিত সেই ম্যাচে ভারতীয় দলের সামনে থাকবে ফাইনালে পৌঁছে ফের সোনার লড়াইয়ে নামার সুযোগ।