আমেরিকা ও ইরানের যুদ্ধে সদ্য মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় নেমেছে পাকিস্তান। একদিকে, আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে পাকিস্তানের সেনা প্রধান মুনিরের ঘনিষ্ঠতা, অন্যদিকে, পাকিস্তানের প্রতিবেশী দেশ ইরান, এই দুই ফ্যাক্টরের প্রেক্ষাপটে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় হম্বিতম্বি চালিয়ে যাচ্ছে ইসলামাবাদ! তারই মাঝে, পাক সেনা প্রধান আসিম মুনির, ইরানের নতুন নিরাপত্তা প্রধান মোহসিন রেজাইয়ের সঙ্গে দেখা করেন। বুধবার সেই সাক্ষাতে, পাকিস্তানের সেনা প্রধান মুনির নাকি ঠাণ্ডা অভ্যর্থনা পেয়েছেন রেজাইয়ের কাছ থেকে। মিডিয়া রিপোর্ট এমনই দাবি করছে।
একাধিক মিডিয়া রিপোর্টের দাবি, ট্রাম্পের বার্তা ইরানের কাছে তুলে ধরতে গিয়েছিলেন পাকিস্তানের আসিম মুনির। লেবাননের সংবাদপত্র আল আখবারের খবর বলছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া চূড়ান্ত হুঁশিয়ারির বার্তা ইরানকে দেন মুনির। কী ছিল সেই হুঁশিয়ারির বার্তায়? রিপোর্ট বলছে, সেই বার্তাতে ইরানকে তার ‘ সম্পূর্ণ পারমাণবিক কর্মসূচি,’ ত্যাগ করার দাবি জানানো হয়েছে। ইরান ইন্টারন্যাশনালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মুনির বলেছেন, ‘তেহরানকে তার পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনায় আরও বেশি নমনীয়তা দেখাতে হবে।’ রিপোর্ট বলছে, এর জবাবে ইরান মুনিরকে জানায় যে ওয়াশিংটনকে ‘ ইরানের সাতটি শর্ত মেনে নিতে হবে।’ রিপোর্ট দাবি করছে, এই কথপোকথন-কালেই নাকি, মুনিরকে ইরানের তরফে ‘আপনার বিমানে চড়ে ফেরত যান’ বলে বার্তা দেওয়া হয়।
সিএনএন-নিউজ১৮ রেজাই ও মুনিরের শরীরি ভাষা বিশ্লেষণ করে উল্লেখ করেছে যে, তাদের আলাপচারিতা সংক্ষিপ্ত ও আনুষ্ঠানিক ছিল এবং এতে সাধার সৌহার্দ্যপূর্ণ কূটনৈতিক অভ্যর্থনার লেশমাত্র ছিল না। ইতিমধ্যেই ঘটনার ভিডিয়ো প্রকাশ্যে আসে। এদিকে, দুই তরফের ব্যক্তিত্বদের শরীরি ভাষা বিশ্লেষণ করে রিপোর্ট বলছে, সাক্ষাৎকালে রেজাই সংযত ভঙ্গি বজায় রেখেছিলেন, আর কথোপকথনের সময় মুনিরকে তার দিকে ঝুঁকে পড়তে দেখা যায়। এছাড়াও পাকিস্তানি সেনা প্রধান মুনির, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং সংসদ স্পিকার মোহাম্মদ বাগের গালিবফের সাথেও উচ্চ-পর্যায়ের আলোচনা করেছেন। জানা গেছে, গালিবফ মুনিরকে বলেছেন যে, ‘ইরানের নতুন কিছু বলার নেই।’