...
...
Next Story

Assam Rifles Jawan Death: নাগাল্যান্ডে ডিউটিতে গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যু জওয়ানের, মৃত্যুর পরও অঙ্গদান মানুষে পাশে তেজা

সোমবার, ৫ অক্টোবর অপারেশনাল ডিউটির সময় গুলির আঘাত পান তেজা। তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। তবে কী পরিস্থিতিতে গুলিটি লাগে, সেই বিষয়ে এখনও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

Published on: Oct 7, 2026, 13:14:49 IST
Advertisement

নাগাল্যান্ডে অপারেশনাল ডিউটির সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যু হল অসম রাইফেলসের জওয়ান ভি তেজার। ওড়িশার রায়গড়া জেলার বাসিন্দা তেজা ১৫তম অসম রাইফেলসের রাইফেলম্যান ছিলেন। মাত্র দু’দিন পর, ৭ অক্টোবর তাঁর ৩১তম জন্মদিন ছিল। ডিসেম্বরেই বিয়ে হওয়ার কথা ছিল তাঁর। তার আগেই ডিউটির ময়দান থেকে ফিরল তাঁর নিথর দেহ। আরও মানবিক হয়ে উঠেছে এই মৃত্যুর কাহিনি—প্রায় দু’বছর আগে অঙ্গদানের অঙ্গীকার করেছিলেন তেজা। মৃত্যুর পরে তাঁর সেই ইচ্ছাকেই সম্মান জানিয়ে হাসপাতাল তাঁর অঙ্গ সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করেছে।

অপারেশনাল ডিউটিতে গুলির আঘাত

সোমবার, ৫ অক্টোবর অপারেশনাল ডিউটির সময় গুলির আঘাত পান তেজা।
সোমবার, ৫ অক্টোবর অপারেশনাল ডিউটির সময় গুলির আঘাত পান তেজা।

ভারতীয় সেনাবাহিনীতে ২০২২ সালে যোগ দিয়েছিলেন তেজা। পরে অসম রাইফেলসের ১৫তম ব্যাটালিয়নে কর্মরত অবস্থায় নাগাল্যান্ডে দায়িত্ব পালন করছিলেন তিনি। সোমবার, ৫ অক্টোবর অপারেশনাল ডিউটির সময় গুলির আঘাত পান তেজা। তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। তবে কী পরিস্থিতিতে গুলিটি লাগে, সেই বিষয়ে এখনও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ১৫তম অসম রাইফেলসের নাইব সুবেদার রবীন্দ্র কুমার নায়েক জানিয়েছেন, মৃত্যুর পুরো ঘটনাটি ময়নাতদন্তের পর আরও স্পষ্ট হবে। পরিবারের কাছেও প্রাথমিক ভাবে জানানো হয়েছে যে ডিউটির সময় গুলিবিদ্ধ হয়েই তাঁর মৃত্যু হয়েছে।

অর্থাৎ, ঘটনাটি নিছক দুর্ঘটনা, অপারেশনের সময় হামলা, না অন্য কোনও পরিস্থিতি—এই মুহূর্তে তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। নিরাপত্তা সংক্রান্ত কারণেও সেনাবাহিনীর তরফে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। ময়নাতদন্তের রিপোর্টের পরেই পরিস্থিতি পরিষ্কার হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

জন্মদিনের বদলে শেষযাত্রা

মঙ্গলবার তাঁর মরদেহ রায়গড়ায় পৌঁছয় বলে India Today NE জানিয়েছে। পরে সেখানে তাঁকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে বহু মানুষ জড়ো হন। প্রায় ১০ কিলোমিটার দূর থেকে একটি বড় মোটরবাইক মিছিলও বের করা হয়। আতশবাজি, দেশাত্মবোধক স্লোগান এবং ‘শহিদ জওয়ান অমর রহে’ ধ্বনিতে মুখর হয়ে ওঠে এলাকা। প্রশাসনের তরফে বৃহস্পতিবার সকালে সরকারি ভাবে শ্রদ্ধা জানানোর প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছে। সকাল ৭টা থেকে শেষকৃত্য শুরু হওয়ার কথা।

মৃত্যুর পরেও মানবিক তেজা

এই ঘটনায় সবচেয়ে বেশি আলোড়ন তৈরি করেছে তেজার অঙ্গদানের সিদ্ধান্ত। প্রায় দু’বছর আগে অঙ্গদানের অঙ্গীকার করেছিলেন তিনি। মৃত্যুর পর স্থানীয় একটি হাসপাতাল তাঁর সেই ইচ্ছা অনুযায়ী অঙ্গ সংগ্রহ করে সংরক্ষণ করেছে। অর্থাৎ নিজের জীবন শেষ হয়ে গেলেও অন্য কারও জীবন বাঁচানোর সম্ভাবনা তৈরি করে গেলেন এই তরুণ জওয়ান। কোন কোন অঙ্গ সংগ্রহ করা হয়েছে বা সেগুলি কাদের জন্য ব্যবহার করা হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

তেজার মৃত্যুতে ওড়িশার রাজনৈতিক মহলেও শোকের ছায়া নেমেছে। মুখ্যমন্ত্রী মোহনচরণ মাঝি তাঁর আত্মত্যাগ ও দেশের প্রতি সেবাকে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। বিরোধী দলনেতা নবীন পট্টনায়কও তাঁর সাহস ও আত্মত্যাগকে ওড়িশা এবং দেশের গর্ব বলে উল্লেখ করেছেন।

পরপর জওয়ানরা প্রাণ হারালেন

তেজার মৃত্যুর মাত্র কয়েক দিন আগেই, ২৯ সেপ্টেম্বর অরুণাচল প্রদেশে ভারত-মায়ানমার সীমান্তের কাছে এক হামলায় অসম রাইফেলসের হাবিলদার জাঙ্কোখাই কুকি নিহত হন এবং আরও চার জন আহত হন। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই ফের এক জওয়ানের মৃত্যুতে উত্তর-পূর্বের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।

এক দিকে বিয়ে, জন্মদিন, বাড়ি ফেরার অপেক্ষা। অন্য দিকে দেশের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে অকালমৃত্যু। আর মৃত্যুর পরও অঙ্গদানের অঙ্গীকার পূরণ—ভি তেজার কাহিনি তাই শুধু এক জওয়ানের মৃত্যুর খবর নয়, কর্তব্যবোধ এবং মানবিকতার এক গভীর উদাহরণ হয়ে রইল।

 
ABOUT THE AUTHOR
Abhijit Chowdhury

২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।

SHARE THIS ARTICLE ON
Notifications

Get breaking alerts directly from the newsroom

Notifications are on!You'll be notified when news breaks