সিজেপি (CJP) আন্দোলনে বিদেশি অর্থের জোগান নিয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিংয়ের অভিযোগের কড়া জবাব দিলেন সংগঠনের নেতা আশুতোষ রাঙ্কা। তাঁর পাল্টা প্রশ্ন, আন্দোলনে বিদেশি অর্থ আসছে বলে যদি সরকারের কাছে তথ্য থেকে থাকে, তা হলে এত দিন তাঁদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন কেন? কেনই বা এক টেবিলে বসে চা খেয়েছেন, নাশতা করিয়েছেন? শুধু তাই নয়, দেশের গুরুত্বপূর্ণ সমস্যাগুলি থেকে নজর ঘোরাতেই বারবার পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও নেপালের প্রসঙ্গ টেনে আনা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। রাঙ্কার এই মন্তব্য ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক চাপানউতর শুরু হয়েছে।

সম্প্রতি সিজেপি নেতাদের বিদেশি অর্থ পাওয়ার অভিযোগ করেছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং। তাঁর দাবি, সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে আমেরিকা থেকে এবং সংগঠনের সহ-প্রতিষ্ঠাতা আশুতোষ রাঙ্কা পাকিস্তান থেকে অর্থ পেয়েছেন। শুধু তাই নয়, পাকিস্তানের কয়েকজন নেতা এবং ভারতবিরোধী সংগঠনও ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর (SIR)-এর বিরুদ্ধে চলা আন্দোলনে অর্থ জোগাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। আন্দোলনকারীরা নিজেদের সাধারণ কর্মী হিসাবে পরিচয় দিয়ে দেশের মানুষের মধ্যে মিথ্যা ধারণা তৈরি করছেন বলেও দাবি করেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী।
এই অভিযোগের জবাবেই বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন আশুতোষ রাঙ্কা। তিনি বলেন, জিতেন্দ্র সিংয়ের কাছে জানতে চাওয়া উচিত, বিদেশ থেকে অর্থ পাচ্ছে বলে যাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠছে, তাঁদের সঙ্গে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নিজে কেন যোগাযোগ রাখছিলেন? কেন তাঁদের সঙ্গে হাত মিলিয়েছিলেন? কেন একসঙ্গে বসে চা খেয়েছিলেন এবং নাশতা করিয়েছিলেন? রাঙ্কার বক্তব্য, এই প্রশ্নগুলির উত্তর আগে দেওয়া প্রয়োজন।
এর পরেই কেন্দ্রীয় সরকারকে আক্রমণ করেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, দেশের বেকারত্ব, মূল্যবৃদ্ধি, প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং ভোট চুরির মতো সমস্যার কোনও উত্তর সরকারের কাছে নেই। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে সরকার কেন আড়াল করছে, সেই প্রশ্নেরও জবাব দিতে পারছে না কেন্দ্র। তাই মূল সমস্যা থেকে মানুষের নজর ঘোরাতে পুরনো অভিযোগ সামনে আনা হচ্ছে।
{{/usCountry}}এর পরেই কেন্দ্রীয় সরকারকে আক্রমণ করেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, দেশের বেকারত্ব, মূল্যবৃদ্ধি, প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং ভোট চুরির মতো সমস্যার কোনও উত্তর সরকারের কাছে নেই। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে সরকার কেন আড়াল করছে, সেই প্রশ্নেরও জবাব দিতে পারছে না কেন্দ্র। তাই মূল সমস্যা থেকে মানুষের নজর ঘোরাতে পুরনো অভিযোগ সামনে আনা হচ্ছে।
{{/usCountry}}রাঙ্কার দাবি, সিজেপি আন্দোলন শুরু হওয়ার পর থেকেই কখনও পাকিস্তান, কখনও বাংলাদেশ, কখনও আবার নেপাল থেকে অর্থ আসার কথা বলা হচ্ছে। এমনকি আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ৯৫ শতাংশ অ্যাকাউন্ট পাকিস্তান থেকে পরিচালিত হচ্ছে বলেও আগে অভিযোগ করা হয়েছিল। তাঁর বক্তব্য, গত ১২ বছর ধরে একই ধরনের রাজনৈতিক প্রচার চালানো হচ্ছে। দেশের মানুষের প্রকৃত সমস্যাগুলি নিয়ে আলোচনার পরিবর্তে বিদেশি যোগের অভিযোগ তুলে আন্দোলনকে দুর্বল করার চেষ্টা হচ্ছে।
এ দিকে, সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকেও কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর অভিযোগের জবাব দিয়েছেন। সমাজমাধ্যমে পোস্ট করে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, সংগঠনের আর এক নেতা সৌরভ দাস কোথা থেকে অর্থ পাচ্ছেন? অন্য একটি পোস্টে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে কটাক্ষ করে তাঁর অভিযোগ, ধর্মেন্দ্র প্রধানকে পদ থেকে সরানোর জন্য কথিত বিদেশি অর্থের মধ্যে জিতেন্দ্র সিং কতটা কমিশন পেয়েছিলেন? আলোচনার টেবিলে তো তিনিই উপস্থিত ছিলেন বলে কটাক্ষ করেন অভিজিৎ।
এই বিতর্কে যোগ দিয়েছেন তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রও। জিতেন্দ্র সিংয়ের অভিযোগের পাল্টা জবাব দিয়ে তিনি বিজেপিকে নিশানা করেছেন। মহুয়ার দাবি, বিদেশি সংস্থার বদলে বিজেপিই সিজেপিকে অর্থ জুগিয়েছে। নির্বাচনী বন্ডের মাধ্যমে বিজেপির কাছ থেকে অর্থ পাওয়ার কথা সংগঠনের সদস্যরাই জানিয়েছেন বলে দাবি তাঁর। এই অভিযোগ তুলে বিজেপিকে কটাক্ষও করেছেন তৃণমূল সাংসদ।
সব মিলিয়ে সিজেপির বিদেশি অর্থের জোগান নিয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর অভিযোগের পর রাজনৈতিক সংঘাত আরও বেড়েছে। এক দিকে বিদেশি অর্থের যোগ নিয়ে তদন্তের দাবি উঠছে, অন্য দিকে অভিযোগের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন আন্দোলনকারীরা। ফলে এসআইআর বিরোধী আন্দোলনকে কেন্দ্র করে বিজেপি ও সিজেপির সংঘাত এখন নতুন মাত্রা পেয়েছে।