পাকিস্তানের অশান্ত খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে ফের রক্তক্ষয়ী জঙ্গি হামলার ঘটনা ঘটল। বৃহস্পতিবার আফগানিস্তান সীমান্তবর্তী হাঙ্গু জেলার খাজিনা পুলিশ চৌকিতে সশস্ত্র জঙ্গিদের হামলায় অন্তত ১১ জন নিরাপত্তারক্ষী নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ২২ জন নিরাপত্তাকর্মী। হামলার পর প্রায় এক ঘণ্টা ধরে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে জঙ্গিদের তীব্র গুলির লড়াই চলে। সেই সংঘর্ষে অন্তত ১৫ জন জঙ্গিও নিহত হয়েছে বলে পাকিস্তানি প্রশাসন জানিয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ভারী অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত জঙ্গিরা আচমকাই খাজিনা পুলিশ পোস্টে হামলা চালায়। হামলার খবর পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত বাহিনী পাঠানো হয়। তবে পথে সেই বাহিনী বহনকারী সাঁজোয়া গাড়িকেও লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। এতে গাড়িটি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও নিরাপত্তা বাহিনী পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তোলে এবং পরে জঙ্গিদের সঙ্গে ব্যাপক বন্দুকযুদ্ধ শুরু হয়।
পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ও আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থার খবর অনুযায়ী, প্রায় এক ঘণ্টার এই সংঘর্ষে নিরাপত্তা বাহিনী জঙ্গিদের বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি করতে সক্ষম হয়। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, ১৫ জন জঙ্গি নিহত হয়েছে। যদিও এখনও পর্যন্ত কোনও জঙ্গি সংগঠন এই হামলার দায় স্বীকার করেনি।
তবে পাকিস্তানের পুলিশ এবং নিরাপত্তা সংস্থাগুলির প্রাথমিক সন্দেহের তির নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (টিটিপি)-র দিকেই। পাকিস্তান সরকার টিটিপিকে 'ফিতনা আল খাওয়ারিজ' নামেও উল্লেখ করে থাকে। গত কয়েক মাসে খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনীর উপর ধারাবাহিক হামলার ঘটনায় টিটিপির নামই বারবার উঠে এসেছে। ফলে এই হামলার ক্ষেত্রেও সংগঠনটির জড়িত থাকার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
হাঙ্গুর এই হামলার কয়েক দিন আগেই খাইবার পাখতুনখোয়ার ট্যাঙ্ক জেলায় আরেকটি নিরাপত্তা চৌকিতে হামলার ঘটনা ঘটেছিল। ফলে সীমান্তবর্তী এই প্রদেশে নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। আফগানিস্তান সীমান্ত ঘেঁষা এলাকাগুলিতে জঙ্গিদের সক্রিয়তা বৃদ্ধির ফলে পাকিস্তান প্রশাসনের উপর নতুন করে চাপ তৈরি হয়েছে।
{{/usCountry}}হাঙ্গুর এই হামলার কয়েক দিন আগেই খাইবার পাখতুনখোয়ার ট্যাঙ্ক জেলায় আরেকটি নিরাপত্তা চৌকিতে হামলার ঘটনা ঘটেছিল। ফলে সীমান্তবর্তী এই প্রদেশে নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। আফগানিস্তান সীমান্ত ঘেঁষা এলাকাগুলিতে জঙ্গিদের সক্রিয়তা বৃদ্ধির ফলে পাকিস্তান প্রশাসনের উপর নতুন করে চাপ তৈরি হয়েছে।
{{/usCountry}}হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি আসিফ আলি জারদারি এবং প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে পাকিস্তান পুলিশ সবসময় প্রথম সারিতে থেকে দায়িত্ব পালন করেছে। তিনি দেশের মাটি থেকে "সব ধরনের সন্ত্রাসবাদ নির্মূল" করার ব্যাপারে সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
অন্যদিকে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভিও হামলার নিন্দা জানিয়ে খাইবার পাখতুনখোয়া এবং বালুচিস্তানের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের অগ্রগতি সম্পর্কে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন বলে প্রেসিডেন্টের দফতর জানিয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০২২ সালের নভেম্বরে পাকিস্তান সরকার ও টিটিপির মধ্যে হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভেঙে যাওয়ার পর থেকেই খাইবার পাখতুনখোয়ায় জঙ্গি হামলা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। পাকিস্তান সরকার অভিযোগ করে আসছে, আফগানিস্তানের ভূখণ্ড ব্যবহার করে টিটিপি জঙ্গিরা সীমান্ত পেরিয়ে হামলা চালাচ্ছে। সাম্প্রতিক এই হামলা সেই উদ্বেগকেই আরও একবার সামনে এনে দিল।