Sukhbir Singh Badal Attacked: সামনেই পাঞ্জাব বিধানসভা নির্বাচন। ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়ে নতুন করে মাপজোক শুরু হয়ে গিয়েছে। ২০২০ সালে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট ছেড়ে বেরিয়ে আসার ঘটনার পরে ফের ছাব্বিশে নরেন্দ্র মোদী এবং শিরোমণি অকালি দল (SAD)-এর প্রধান সুখবীর সিং বাদলের বৈঠক ঘিরে ফের জল্পনা শুরু হয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে। এরই মধ্যে হঠাৎই মহারাষ্ট্রের (Maharashtra) নান্দেড়ে একটি গুরুদ্বারে হামলার ঘটনা ঘটল পাঞ্জাবের প্রাক্তন উপ-মুখ্যমন্ত্রী সুখবীর সিং বাদলের (Sukhbir Singh Badal) উপরে। ইতিমধ্যেই সামনে এসেছে হামলার সেই ভিডিও। যেখানে ‘কৃপাণ’ (কিরপান) নিয়ে সুখবীরের উপরে হামলা চালাতে দেখা যাচ্ছে এক ব্যক্তিকে। এই ঘটনায় হামলাকারী নিহাং জসপাল সিং-কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
ঠিক কী ঘটেছিল?

পুলিশ ও সংবাদ সংস্থা সূত্রের খবর, বৃহস্পতিবার বিকেলে স্ত্রী তথা সাংসদ হরসিমরত কউরের সঙ্গে নান্দেড়ের তখত শ্রী হুজুর সাহেব দর্শনের পর মাতা সাহেব কৌর গুরুদ্বারের দিকে যাচ্ছিলেন সুখবীর। জেড প্লাস (Z+) সুরক্ষাপ্রাপ্ত এই ভিভিআইপি দম্পতির সঙ্গে পুলিশ ও নিজস্ব রক্ষীদের উপস্থিতিতেই এই অতর্কিত হামলা ঘটে। গুরুদ্বারে প্রার্থনা সেরে সিঁড়ি দিয়ে নামার সময় তাঁকে কৃপাণ (কিরপান) দিয়ে হামলার চেষ্টা করা হয় বলে সূত্রের খবর। তাঁর পেট লক্ষ্য করে হামলা করা হলেও নিরাপত্তরক্ষীদের তৎপরতায় সুখবীরের ডান হাতে ওই ধারাল অস্ত্রের আঘাত লাগে। ঘটনায় এক নিরাপত্তারক্ষী ইনস্পেক্টর সন্তোষ কেন্দ্রেও আহত হয়েছেন। হামলাকারী নিহাং জসপাল সিং-কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
সূত্রের খবর, হামলার পর সুখবীর সিং বাদলকে নান্দেড়ের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তাঁর হাতে আঘাত লেগেছে। হাতে কয়েকটি সেলাইও পড়েছে। তবে তাঁর আঘাত গুরুতর নয় এবং আপাতত তিনি বিপন্মুক্ত বলেই অকালি দল সূত্রে জানা গিয়েছে। হামলাকারী সুখবীর বাদলের পেটে কিরপান দিয়ে আঘাত করার চেষ্টা করেছিলেন বলে জানা গিয়েছে। তবে নিরাপত্তারক্ষীরা দ্রুত হস্তক্ষেপ করায় বড় বিপদ এড়ানো সম্ভব হয়। হামলার পরের একটি ভিডিওয় সুখবীর সিং বাদলকে ডান হাতে গেরুয়া কাপড় বাঁধা অবস্থায় হাঁটতে দেখা গিয়েছে। তাঁর হাতে আঘাত লাগার কারণেই ওই কাপড় বাঁধা হয়েছিল বলে জানা যাচ্ছে।
হামলাকারীর পরিচয়
পুলিশের হাতে আটক হামলাকারীর নাম জসপাল সিং। তিনি একজন নিহাং শিখ বলে জানা গিয়েছে। তাঁর বয়স ৬২ বছর। তিনি মূলত পুনের বাসিন্দা। জানা গিয়েছে, পুনের একটি আদালতে আগে আইনজীবী হিসেবে কাজ করেছেন তিনি। সূত্রের দাবি, গত দু’বছর ধরে নান্দেড়ের কাছে মুগাট এলাকার মাতা সাহিব গুরুদ্বারে কাজ করছিলেন নিহাং জসপাল সিং। সেখানেই সুখবীর বাদলের উপর হামলার অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। ঘটনাস্থল থেকে জসপাল সিং-কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। নান্দেড় পুলিশ ইতিমধ্যেই হামলাকারীকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে। হামলার কারণ জানতে চাইলে তদন্তকারীদের অভিযুক্ত বলেন, 'করতে ইচ্ছে হয়েছে, তাই করেছি।' তবে তদন্তকারীরা এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নন। হামলার প্রকৃত উদ্দেশ্য এবং এর পিছনে অন্য কোনও ব্যক্তি বা সংগঠনের যোগ রয়েছে কিনা, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
হামলার কারণ খতিয়ে দেখার নির্দেশ
{{/usCountry}}পুলিশের হাতে আটক হামলাকারীর নাম জসপাল সিং। তিনি একজন নিহাং শিখ বলে জানা গিয়েছে। তাঁর বয়স ৬২ বছর। তিনি মূলত পুনের বাসিন্দা। জানা গিয়েছে, পুনের একটি আদালতে আগে আইনজীবী হিসেবে কাজ করেছেন তিনি। সূত্রের দাবি, গত দু’বছর ধরে নান্দেড়ের কাছে মুগাট এলাকার মাতা সাহিব গুরুদ্বারে কাজ করছিলেন নিহাং জসপাল সিং। সেখানেই সুখবীর বাদলের উপর হামলার অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। ঘটনাস্থল থেকে জসপাল সিং-কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। নান্দেড় পুলিশ ইতিমধ্যেই হামলাকারীকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে। হামলার কারণ জানতে চাইলে তদন্তকারীদের অভিযুক্ত বলেন, 'করতে ইচ্ছে হয়েছে, তাই করেছি।' তবে তদন্তকারীরা এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নন। হামলার প্রকৃত উদ্দেশ্য এবং এর পিছনে অন্য কোনও ব্যক্তি বা সংগঠনের যোগ রয়েছে কিনা, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
হামলার কারণ খতিয়ে দেখার নির্দেশ
{{/usCountry}}ঘটনার পরই মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়ণবিশ নান্দেড়ের পুলিশ সুপারের সঙ্গে কথা বলেন। হামলার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানতে চান তিনি। পাশাপাশি, হামলার নেপথ্যে কী উদ্দেশ্য ছিল, তা খতিয়ে দেখার জন্য পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এদিকে, এই ঘটনার পরেই বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ফোন করেন সুখবীরের স্ত্রী তথা প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হরসিমরত কৌর বাদলকে। তিনি সুখবীরের স্বাস্থ্যের খোঁজখবর নেন।
অতীতেও প্রাণঘাতী হামলার চেষ্টা
সুখবীর সিং বাদলের উপর হামলার ঘটনা এই প্রথম নয়। প্রায় দু'বছর আগেও বাদলের উপর একবার হামলার চেষ্টা হয়েছিল। ২০২৪ সালের ৪ ডিসেম্বরে অমৃতসরের স্বর্ণমন্দিরে 'সেবা' করার সময় তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালানোর চেষ্টা হয়। নারায়ণ সিং চৌরা নামে এক ব্যক্তি এই চেষ্টা করেছিল, কিন্তু গুরুতর ক্ষতি করার আগেই তাকে ধরে ফেলা হয়। সেই সময়ও তিনি অল্পের জন্য রক্ষা পান বাদল। অকাল তখত সুখবীর বাদল এবং অকালি দলের আরও কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে ২০০৭ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত পাঞ্জাবে তাঁদের সরকারের আমলে করা বিভিন্ন ‘ভুল’-এর জন্য ধর্মীয় শাস্তি বা ‘তনখাহ’ ঘোষণা করেছিল। সেই শাস্তির অংশ হিসেবেই স্বর্ণমন্দিরে ‘সেবাদার’-এর দায়িত্ব পালন করছিলেন সুখবীর। সেই সময়ই তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালানোর চেষ্টা করা হয়।