ইউক্রেনের ওডেসা বন্দর থেকে রওনা হচ্ছিল গোল্ডেন লিও নামের এক কার্গো জাহাজ। আর সেই জাহাজেই আছড়ে পড়ে মিসাইল। যার জেরে জাহাজে থাকা ৪ ভারতীয়ের মৃত্যু হয়েছে বলে খবর। জাহাজের ১৭ ক্রিউয়ের মধ্যে ৫ জনই ভারতীয়। জানা গিয়েছে, এই বিমান হামলার জেরে ১ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। গোটা ঘটনা নিয়ে মুখ খুলেছে দিল্লি। মুখ খুলেছে কিয়েভও।
ভারতের বিদেশমন্ত্রকের তরফে বলা হয়েছে, ‘ইউক্রেনে আমাদের মিশন পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সম্ভাব্য সব ধরনের সহায়তা প্রদানের জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।’ এছাড়াও বিদেশমন্ত্রকের তরফে বলা হয়েছে, ‘ভারত এ ধরনের হামলার নিন্দা জানায় এবং পুনর্ব্যক্ত করে যে, বাণিজ্যিক জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করা ও নিরীহ বেসামরিক নাবিকদের বিপন্ন করা,অথবা অন্য কোনোভাবে নৌ-চলাচল ও বাণিজ্যের অবাধ স্বাধীনতায় বাধা সৃষ্টি করা,অত্যন্ত নিন্দনীয় এবং তা পরিহার করা উচিত।’ এছাড়াও ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে জাহাজটি রাশিয়ান ক্রুজ মিসাইলের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কৃষ্ণসাগরে কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা হিংসার মধ্যে এটিকে তারা সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলা হিসেবে অভিহিত করেছেন।
ইউক্রেনের নৌবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, রাশিয়া গিনি-বিসাউয়ের পতাকাবাহী ‘গোল্ডেন লিও’ জাহাজটিকে তিনটি ক্রুজ মিসাইল দিয়ে আঘাত করে, যার ফলে সেটিতে আগুন ধরে যায়। জাহাজটিতে ভারত ও সিরিয়ার নাবিকরা ছিলেন এবং এটি ভুট্টা বহন করছিল। ইউক্রেনের সমুদ্রবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে, সারারাত ধরে চলা তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযানে দেখা গেছে,জাহাজটির নয়জন নাবিক ও একজন মেরিটাইম পাইলট নিহত হয়েছেন। জাহাজটির মোট ১৭ জন নাবিকের মধ্যে আটজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। জানা গিয়েছে ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজটি মুম্বইয়ের ওশন গ্রেস শিপিং লিমিটেড-র জাহাজ। ইউক্রেনের ওডেসা অঞ্চলের গভর্নর জানিয়েছেন যে, চলতি মাসে সেখানে রাশিয়ার হামলায় এ পর্যন্ত ২৮ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া সোমবার রাশিয়ার বেলগোরোদ অঞ্চলে একটি বাসে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় এক শিশুসহ পাঁচজন নিহত হয়েছেন।