...
...
Next Story

মন্দিরের পুরোহিতদের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ! নেহা বোরার ভিডিয়ো ঘিরে তোলপাড়, কংগ্রেস-রাহুলকে নিশানা বিজেপির

নতুন রাজনৈতিক বিতর্কে জড়ালেন ছাত্রনেত্রী নেহা বোরা। তাঁর একটি ভিডিয়ো প্রকাশ্যে আসতেই কংগ্রেস এবং রাহুল গান্ধীকে নিশানা করেছে বিজেপি। শাসক দলের অভিযোগ, হিন্দু ধর্ম এবং সনাতন সংস্কৃতিকে আক্রমণ করার জন্য পরিকল্পিত প্রচার চালাচ্ছে বিরোধীরা।

Published on: Nov 3, 2026, 13:55:51 IST
Advertisement

মন্দিরের ভিতরে মহিলাদের নিরাপত্তা নেই! পুরোহিতদের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ তুলে নতুন রাজনৈতিক বিতর্কে জড়ালেন ছাত্রনেত্রী নেহা বোর। তাঁর একটি ভিডিয়ো প্রকাশ্যে আসতেই কংগ্রেস এবং রাহুল গান্ধীকে নিশানা করেছে বিজেপি। শাসক দলের অভিযোগ, হিন্দু ধর্ম এবং সনাতন সংস্কৃতিকে আক্রমণ করার জন্য পরিকল্পিত প্রচার চালাচ্ছে বিরোধীরা। বিজেপির জাতীয় মুখপাত্র প্রদীপ ভান্ডারী দাবি করেছেন, নেহা বোরার বক্তব্যের সঙ্গে রাহুল গান্ধীর অতীতের মন্তব্যের মিল রয়েছে। তাঁর অভিযোগ, এই ধরনের বক্তব্যের মাধ্যমে হিন্দু ধর্মীয় বিশ্বাসকে অপমান করা হচ্ছে। পাল্টা বিতর্ক তৈরি হয়েছে মহিলাদের নিরাপত্তা, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এবং জাতপাতের রাজনীতি নিয়ে।

কী বলেছিলেন নেহা বোরা?

নতুন রাজনৈতিক বিতর্কে জড়ালেন ছাত্রনেত্রী নেহা বোরা (Hindustan Times)
নতুন রাজনৈতিক বিতর্কে জড়ালেন ছাত্রনেত্রী নেহা বোরা (Hindustan Times)

সর্বভারতীয় ছাত্র সংগঠন এআইএসএ-র (AISA) নেত্রী নেহা বোরার একটি ভিডিয়ো সম্প্রতি প্রকাশ্যে আসে। সেখানে তাঁকে ব্রাহ্মণ্যবাদী ব্যবস্থার সমালোচনা করতে শোনা যায়। তাঁর বক্তব্য, মহিলাদের নিরাপত্তা প্রয়োজন। আর সেই নিরাপত্তার অভাব তৈরি করছে ব্রাহ্মণ্যবাদী ব্যবস্থা। এই ব্যবস্থায় দরিদ্র, নিপীড়িত মানুষ, পশু এবং মহিলাদের অধস্তন বলে মনে করা হয়। তাঁদের উপর অত্যাচারকেও যেন স্বাভাবিক বলে ধরে নেওয়া হয়।

নেহার আরও অভিযোগ, এই ব্যবস্থায় ব্রাহ্মণ মহিলারাও নিরাপদ নন। তাঁরাও ধর্ষণের শিকার হন। এমনকি মন্দিরের ভিতরেও পুরোহিতদের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। নেহার এই বক্তব্য সামনে আসতেই শুরু হয় রাজনৈতিক চাপানউতর। বিশেষ করে হিন্দু ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এবং পুরোহিতদের নিয়ে তাঁর মন্তব্যের বিরোধিতা করেন অনেকে। সমাজমাধ্যমেও তাঁকে ঘিরে সমালোচনা শুরু হয়।

রাহুল গান্ধীর সঙ্গে যোগ খুঁজল বিজেপি

নেহার মন্তব্যকে হাতিয়ার করে কংগ্রেসকে আক্রমণ করেন বিজেপির জাতীয় মুখপাত্র প্রদীপ ভান্ডারী। তাঁর দাবি, নেহার বক্তব্যের সঙ্গে রাহুল গান্ধীর অতীতের মন্তব্যের মিল রয়েছে। ২০১৪ সালে দিল্লিতে এক মহিলাকে গণধর্ষণের ঘটনার পর রাহুল বলেছিলেন, মন্দিরে যাঁরা দেবীর পুজো করেন, তাঁরাই আবার বাসে মহিলাদের শ্লীলতাহানি করেন। সেই মন্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে ভান্ডারী বলেন, কংগ্রেসের রাজনৈতিক অবস্থানেই হিন্দু ধর্মের প্রতি বিরূপ মনোভাব রয়েছে।

নিজের বক্তব্যের সমর্থনে নেহা ২০১৮ সালের কাঠুয়া ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার প্রসঙ্গও তুলেছিলেন। জম্মু ও কাশ্মীরের কাঠুয়ায় আট বছরের বাকরওয়াল সম্প্রদায়ের এক শিশুকন্যাকে অপহরণ করে গ্রামের একটি মন্দিরে আটকে রাখা হয়েছিল। সেখানে তাকে গণধর্ষণের পর খুন করা হয়। এই ঘটনা গোটা দেশে ব্যাপক প্রতিবাদের জন্ম দিয়েছিল। ২০১৯ সালের জুন মাসে বিশেষ আদালত এই মামলায় ছয় জনকে দোষী সাব্যস্ত করে। তাঁদের মধ্যে মন্দিরের তত্ত্বাবধায়ক সঞ্জি রাম-সহ তিন জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

সমাজমাধ্যমেও শুরু বিতর্ক

নেহার বক্তব্যের বিরোধিতা করেছেন সমাজমাধ্যমের একাংশ। তাঁদের বক্তব্য, যৌন নির্যাতনের অভিযোগ থাকলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা হওয়া উচিত। কিন্তু কোনও নির্দিষ্ট অপরাধের প্রসঙ্গ টেনে গোটা একটি সম্প্রদায়কে মহিলাদের জন্য বিপজ্জনক বলে চিহ্নিত করা ঠিক নয়। মহিলাদের নিরাপত্তার বিষয়টিকে সম্প্রদায়ভিত্তিক বিদ্বেষ ছড়ানোর হাতিয়ার করা উচিত নয় বলেও মত প্রকাশ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রস্তাবের সমর্থনে বক্তব্য রাখতে গিয়েই নেহা এই মন্তব্য করেছিলেন। ভোটার তালিকা থেকে ইচ্ছাকৃত ভাবে নাম বাদ দেওয়া এবং নির্বাচন প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগও তুলেছিলেন তিনি।

সব মিলিয়ে নেহার একটি ভিডিয়ো ঘিরে নতুন করে সনাতন ধর্ম, পুরোহিতদের ভূমিকা এবং মহিলাদের নিরাপত্তার প্রশ্ন রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে চলে এসেছে। বিজেপি সরাসরি কংগ্রেস ও রাহুল গান্ধীকে নিশানা করলেও নেহার বক্তব্যের দায় কংগ্রেসের উপর চাপানোর অভিযোগের পক্ষে এখনও কোনও প্রত্যক্ষ যোগসূত্র সামনে আসেনি।

 
ABOUT THE AUTHOR
Abhijit Chowdhury

২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।

SHARE THIS ARTICLE ON
Notifications

Get breaking alerts directly from the newsroom

Notifications are on!You'll be notified when news breaks